The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ২৮ মহররম ১৪৩৪

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

ফারাজী আজমল হোসেন

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিধনযজ্ঞের মর্মন্তুদ দুঃসহ স্মৃতিঘেরা বেদনাবিধূর একটি দিন। বাঙালির মেধা-মনন-মনীষা শক্তি হারানোর দিন আজ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস রক্তগঙ্গা পেরিয়ে গোটা জাতি যখন উদয়ের পথে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়ই রাতের আঁধারে পরাজয়ের গ্লানিমাখা পাক হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যা করে। বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগে এই দিনে দেশকে মেধাশূন্য করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বাঙালি জাতির সেরা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীসহ দেশের বরেণ্য কৃতি সন্তানদের। জাতির এইসব উজ্জ্বল নক্ষত্র হত্যার মাধ্যমে হানাদাররা আমাদের মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল লড়াকু বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করলেও যেন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু, দুর্বল ও দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়ে। মেধা ও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়লে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না-এমন নীল-নকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই হায়েনারা বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল এই দিনে।

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এসব বুদ্ধিজীবী নিজেদের মেধা, মনন ও লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগঠকদের প্রেরণা জুগিয়েছেন। পথ দেখিয়েছেন মুক্তির। উদ্দীপ্ত করেছেন অধিকার আদায়ে। আর সেটিই কাল হয়ে দাঁড়াল তাঁদের জন্য। সপ্তাহ জুড়ে এ দেশীয় নরঘাতকদের করা তালিকায় একে একে উঠে এলো অসংখ্য বুদ্ধিদীপ্ত সাহসী মানুষের নাম। কৃতী বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তুলে দেয় তত্কালীন জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র ক্যাডার গ্রুপ কুখ্যাত আলবদর ও আল শামস বাহিনীর হাতে। পেছন থেকে মদদ যোগায় পূর্ব পাকিস্তানের দায়িত্বে থাকা পাক জেনারেল রাও ফরমান আলী। ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত সে তালিকা ধরে বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘৃণ্যতম অপকর্মটি করে এই ঘাতক চক্র। সান্ধ্য আইনের মধ্যে রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে চোখ বেঁধে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বিজয় অর্জনের পর স্বাধীন বাংলাদেশে রায়েরবাজার, মিরপুরসহ কয়েক জায়গায় পাওয়া যায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত বিকৃত লাশ। পৃথিবীর অনেক জাতি যুদ্ধ করে, অনেক জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে; কিন্তু এত প্রাণ কোন জাতিকে দিতে হয়নি।

একাত্তরের ডিসেম্বরে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে সংখ্যা দেয়া হয়েছে সে অনুযায়ী একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিত্সক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ড. জি সি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দীন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমেদ লাডু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, নতুন চন্দ্র সিংহ, আর পি সাহা, আবুল খায়ের, রশীদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীন, সায়ীদুল হাসানসহ আরো অনেকে।

স্বাধীনতা লাভের পর দীর্ঘ ৪০ বছরেও বুদ্ধিজীবী হত্যার কোন কিনারা আজও হয়নি। বুদ্ধিজীবীদের কে কোথায় কিভাবে শহীদ হয়েছেন তারও কোন কিনারা হয়নি। তাদের পরিবারবর্গও জানতে পারেনি প্রিয় এই মানুষগুলোর লাশ কোথায়? এ নিয়ে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যা রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবের মুখ দেখেনি। ফলে খুনিরা অধরাই রয়ে গেছে। তবে এবার এক ভিন্ন রকম পরিবেশে জাতি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করছে। বিশাল বিজয় নিয়ে চার বছর ধরে ক্ষমতায় আসীন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারেই ছিল ক্ষমতায় আসলে বিচার হবে একাত্তরের সেসব দেশদ্রোহী যুদ্ধাপরাধীদের। নতুন প্রজন্ম এই অঙ্গীকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে মহাবিজয় এনে দেয় আওয়ামী লীগকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সেই অঙ্গীকারের কথা ভোলেননি। ক্ষমতায় এসেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। একাত্তরের ঘৃণ্য-নরঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের শীর্ষ নেতা জামায়াত আমীর মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, মহাসচিব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী মহাসচিব মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও সাবেক আমীর গোলাম আযম এখন কারাগারে বন্দী। শত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও বাধার মুখেও বর্তমান সরকারের মেয়াদেই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। জাতি এখন রায়ের অপেক্ষায়। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এখন প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছে।

গোটা বাঙালি জাতি আজ গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে দেশের শহীদ কৃতী সন্তানদের। আজ শোকাহত মানুষের ঢল নামবে সেদিনের সেই হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবিজড়িত রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে। অর্পণ করা হবে পুষ্পার্ঘ্য। দেশের সর্বত্র আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শোকের প্রতীক কালো পতাকাও উড়বে। রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থান এলাকায় নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেছেন, এদিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের, যাঁরা ১৯৭১ সালে বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদার বাহিনীর হাতে নিমর্মভাবে শহীদ হয়েছেন। জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীরা দেশের বিভিন্ন সঙ্কটে জাতিকে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে কান্ডারির ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের সৃজনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা আমাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। জাতির বিবেক হিসেবে খ্যাত আমাদের বুদ্ধিজীবীরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এ দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, চিকিত্সক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বহু গুণীজনকে হত্যা করে। জাতিকে মেধাহীন করাই ছিল তাদের হীন উদ্দেশ্য। এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নতুন প্রজন্ম একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের সকলকে দেশপ্রেমের মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ করুক এ প্রত্যাশা করি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাঙালি জাতির মহান মুক্তির সংগ্রামে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। আমি শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের প্রাক্কালে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী বাঙালি শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিত্সক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদসহ দেশের সেরা সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে। এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে আরো বলেন, বিভিন্ন সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হামলা চালিয়েছে মুক্তমনা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের ওপর। সেসব হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। বাংলার মাটিতে তাদের অপকর্মের বিচার হবেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এই পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে হত্যা করে। প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে একাত্তরের ঘাতক, মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত চক্রের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশবাসীকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আমি বিজয়ের চূড়ান্তক্ষণে শাহাদত বরণকারী বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ১৪ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে হানাদার বাহিনীর দোসররা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যা করেছিল। পৈশাচিক সে হত্যাকাণ্ড জাতির জীবনে সৃষ্টি করেছিল এক গভীর ক্ষত। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, যার আদর্শ হবে গণতন্ত্র। তাঁদের স্বপ্ন পূরণে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আজকের এ দিনে আমি সকলের প্রতি সে আহ্বান জানাই।

জাতীয় পার্টির (জেপি) বাণী

এক বাণীতে জাতীয় পার্টি (জেপি) বলেছে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্বলগ্নে জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসরা জাতির বরেণ্য সন্তানদের হত্যা করে। সেদিন ঘাতকদের কবলে পতিত হন বাংলাদেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদসহ বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীগণ। দলটি মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীর ঠিক পূর্বলগ্নে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে। একই সঙ্গে যারা এই ঘৃণ্য কার্যকলাপে সেদিন লিপ্ত ছিলেন তাদের বিচার দাবি করে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যে দেশপ্রেমের বাণী নিয়ে আগামী প্রজন্মকে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানায় জেপি।

এদিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও শোকের আবহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি। অনুষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষার্থে ডিএমপি পুলিশ ভিআইপিদের পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় মাইক না বাজানো এবং তাঁদের গমনাগমনের পথে তোরণ নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ করেছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয় ক্ষণে ৬টা ৪৩ মিনিটে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশের দলীয় সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকাল ৮টা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে, সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ৯টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং বিকাল ৩টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জেপির কর্মসূচি

জাতীয় পার্টির (জেপি) পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৮টা রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধারা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। তাঁরা চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এ), সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), জাসদ, সাম্যবাদী দল, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরাম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠন বুদ্ধিজীবী দিবস পালনে নিয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বাংলা একাডেমীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৮টায় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিকাল সাড়ে ৩টায় স্মরণসভা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংবিধানের আরেকটি সংশোধনী ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নাগরিক ঐক্যের সভায় ড. কামালের এই বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন?
1 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ৭
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :