The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ২৮ মহররম ১৪৩৪

হরতালে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ভাংচুর বোমাবাজি

বিশেষ প্রতিনিধি

বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি, সংঘর্ষ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সারাদেশে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা এই হরতালে ঢাকায় ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সকাল থেকেই অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। রাজধানীর অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কাঁচাবাজারগুলোতে হরতালের কোন প্রভাব ছিল না। সচিবালয়সহ অফিস-আদালতের হাজিরা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। ব্যাংকেও লেনদেন হয়। বিমান, রেল ও লঞ্চ চলাচল করে। দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বিঘ্নিত হলেও সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিআরটিসি ও বেসরকারি বাস রাস্তায় নামে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তায় যানবাহন চলাচলও বাড়তে থাকে।

হরতালে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছে বলে খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধিরা। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৭৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই গ্রেফতারের সংখ্যা ২৭। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তির দাবিতে এই হরতাল আহবান করা হয়। তবে হরতালের আগে বুধবার গভীর রাতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানকেও গ্রেফতার করে পুলিশ ।

এদিকে সকাল ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ী-জুরাইন ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় দফায় দফায় হরতাল বিরোধী মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, মলিবাগ মোড়, কাকরাইল মোড়, বেইলি রোড, শ্যাওড়াপাড়া, মহাখালীসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হরতাল বিরোধী মিছিল করা হয়। এসব এলাকায় পিকেটারদের তেমন দেখা যায়নি।

বিএনপি কার্যালয় ছিল অবরুদ্ধ

অন্যান্য হরতালের মতো গতকালের হরতালেও সকাল থেকেই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। হরতাল চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে ভোর থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। সকাল ৯টার দিকে বিএনপি কার্যালয়ের পূর্বদিকে পূবালী ব্যাংক ভবনের সামনে গোয়েন্দা পুলিশের ভ্যান লক্ষ্য করে ছোঁড়া একটি ককটেল বিস্ফোরণে এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মইনুল আহসান আহত হন।

সকাল আটটার দিকে বিএনপির কার্যালয়ের অদূরে নাইটিংগেল মোড়ে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সোয়া ১০টার দিকে কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে দুটি এবং সোয়া ১১টার দিকে কার্যালয়ের সামনে আরও দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকটি হামবোমা বিস্ফোরিত হয়। ককটেল বিস্ফোরণের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ ঘিরে রাখায় এবং সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুক্ষণ পর পরই দু'-একজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি নেতা-কর্মীরা খুব বেশি দলীয় কার্যালয়ে আসেননি। অনেকে এসে পরিস্থিতি টের পেয়ে দূর থেকেই চলে যান। এছাড়া আগে থেকে যারা ভেতরে অবস্থান করছিলেন তারাও বের হননি।

দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে নেতা-কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি অভিযোগ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকালে সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখে সরকার প্রমাণ করছে-তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সংবিধানের প্রাপ্ত মৌলিক অধিকারকে তারা তোয়াক্কা করে না। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, এভাবে অবরুদ্ধ করে রেখে সরকার আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

নয়াপল্টনের কার্যালয়ে সকাল থেকে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, মজিবুর রহমান সারওয়ার, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, রেহানা আখতার রানু এমপি, নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, শাম্মী আক্তার এমপিসহ প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী অবস্থান করেন। আর কার্যালয়ের ফটকের বাইরে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয় পুলিশ, কার্যালয়ের বিপরীত দিকে মোতায়েন ছিল র্যাব। কার্যালয়ের আশপাশের অলি-গলিতেও ছিল পোশাক পরিহিত ও সাদা পোশাকের পুলিশ। নয়াপল্টনের সড়কে হরতালের মধ্যেও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

সিএনজি থামিয়ে আগুন

সকাল সোয়া ৬টার দিকে সংসদ ভবনের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে খেজুরবাগান এলাকায় হরতাল সমর্থক কয়েকজন যুবক যাত্রীসহ একটি সিএনজি (ঢাকা-মেট্রো থ- ১২-৯২৫৮) উল্টে দেয়। এসময় জ্যাকেট পরা এক যুবক পকেট থেকে সবুজ রংয়ের একটি বোতলে বের করে সিএনজিতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেয়ার মুহূর্তে চালক ও তিন যাত্রী (মাছ ব্যবসায়ী) 'বাঁচাও বাঁচাও' বলে চিত্কার শুরু করেন। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধে তারা চালকসহ তিন যাত্রীকে উল্টানো সিএনজির দরজা খুলে বের হবার সুযোগ দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে যুবকরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় হরতাল সমর্থনকারীদের আর কোন তত্পরতা চোখে পড়েনি। তবে সংহিস ঘটনা এড়াতে ফার্মগেট এলাকায় মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব। সকালে ফার্মগেট এলাকায় যানবাহন চলাচল কম ছিল। সকাল ৮টার দিকে বাস, রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত। ধানমন্ডি এলাকায় হরতালের পক্ষে কোন পিকেটারকে দেখা যায়নি। তবে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে জামায়াত কর্মীরা একটি যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করে। প্রাণ ভয়ে এক মহিলা বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ব্যাপক বোমাবাজি

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পুরনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় ছাত্রদলের ব্যানারে একটি ছোট মিছিল বের হয়। তবে পুলিশের ধাওয়ার মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল ১০টার দিকে বংশাল মোড়ে পর পর দুইটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে একজন মহিলাসহ দুই পথচারী আহত হন। প্রায় একই সময় আরও দুইটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় নয়াবাজার মোড়ে। সবুজবাগের বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিবিরের একটি মিছিল বের হয়। পুলিশ ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় পর পর দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় মিছিলকারীরা। এর কিছুক্ষণ পর খিলগাঁও এলাকায় পিকেটাররা একনাগাড়ে অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় প্রত্যেক পিকেটারের হাতে লালটেপে মোড়ানো ককটেল দেখা যায়। দুপুর একটার দিকে ফকিরেরপুল মোড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারা হয় তিনটি ককটেল। একটি ককটেল অবিস্ফোরিত থাকে। সকাল সোয়া ৬টার দিকে মালিবাগ রেলগেট মোড়ে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা গ্রামীণ পরিবহনের একটি গাড়িতে ভাঙচুর করে এবং কমপক্ষে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আজিমপুরে ছাত্রদলের মিছিল থেকে তিনটি এবং কাঁটাবনে পুলিশের ওপর আরো দুটি ককটেল ছোঁড়া হয়।

হরতাল চলাকালে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের পাশে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া সাড়ে ১০টার দিকে সরকারি বাংলা কলেজের সামনে পর পর দু'টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। পিকেটিংয়ের সময় পুলিশ বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। তবে আটককৃতদের নাম জানা যায়নি। সকাল পৌনে ৮টার দিকে খিলগাঁওয়ে হরতালের সমর্থনে বের করা ছাত্রদলের মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ছোঁড়া হয়। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় প্রায় ৪০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেফতার করে।

এদিকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার নবীউল্লাহ নবীর নেতৃত্বে শহীদ ফারুক সড়কে মিছিল বের করা হয়। পুলিশ এ সময় নবীউল্লাহ নবী ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মোজাম্মেল হকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল পালনের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। যাত্রবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মিজানুর রহমান জানান, নবীউল্লাহ নবীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ

হরতাল চলাকালে গাবতলী ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। গাবতলী থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত অধিকাংশ টিকিট কাউন্টার বন্ধ ছিল। যাত্রীর সংখ্যাও খুব কম। যেসব যাত্রী ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন শুধু তাদেরকেই টার্মিনালে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু যাত্রী ছিলেন যারা হরতালের কারণে গাড়ি না চলায় আটকা পড়েছেন। রফিক নামে ফরিদপুরগামী এক যাত্রী গাবতলীতে বয়স্ক মাকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন ফরিদপুর যাওয়ার উদ্দেশে। হরতাল জেনেও জরুরি কাজ থাকায় গাবতলীতে এসে বাস না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বসে আছেন কখন বাস ছাড়বে।

অপর এক যাত্রী জানালেন, ভোর ৫টায় সিলেট থেকে যাত্রাবাড়ী এসেছেন। তারপর ৩০০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে গাবতলীতে এসে বসে আছেন। দুপুর ১২টার পর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলে গাবতলীর বিভিন্ন কাউন্টার থেকে জানানো হয়। আর দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যাবে বেলা ২টার পর। সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার বলেন, ১২টার পর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। রাস্তার পরিস্থিতি ভালো হলে হরতাল শেষে আমরা বাস রাস্তায় নামাবো। তিনি বলেন, হরতালে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। হরতালকারীরা যদি সামনের একটা গ্লাস ভেঙ্গে দেয় তবে সারা মাস ভাড়া মেরেও ক্ষতিপূরণ হবে না।

রায়েরবাজারে পিকেটার গুলিবিদ্ধ, এসআই আহত

রাজধানীর হাজারীবাগের রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ইমরান নামে এক পিকেটার গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া পিকেটারদের হামলায় পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজন শিবির কর্মীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। হাজারীবাগ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, গুলিবিদ্ধ ইমরান নিজেকে পথচারী দাবি করলেও তিনি একজন শিবির কর্মী বলে জানা জানা গেছে।

গাড়ি আটকে রাখায় রোগীর মৃত্যু

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় হরতাল পালনকালে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান সমর্থিত নেতাকর্মীরা বেলা ১২টায় শুরগঞ্জে গাড়ি ভাংচুর শুরু করে। এ সময় তারা টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে রাস্তায় মুমূর্ষু রোগীর গাড়ি আটকে দিলে আবছার (৪২) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে হারুন উর রশিদ ওসমানীসহ ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে। এদিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। তবে এ ব্যাপারে কোন মামলা হয়নি বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার ওসি মাসুদ করিম।

রাবির বাসে আগুন

রাজশাহী অফিস জানায়, ভোর পৌনে ৪টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে (রাজ মেট্রো-ঝ-১১-০০০৩) অগ্নিসংযোগ করে। এসময় গার্ডরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করলেও বাসটির ৩টি আসন পুড়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাবি প্রক্টর চৌধুরী মো. জাকারিয়া জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে হরতালের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে মহাসড়কের উপর গাছেরগুঁড়ি ফেলে আগুন দেয়ার সময় শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল বিনিময় হয়। শিবিরকর্মীরা ককটেল ফাটিয়ে সামনে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। একই সময়ে সপুরায় বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশ মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ মাইনুল ইসলাম চৌধুরী শান্তসহ ২ জনকে আটক করে। বিক্ষুব্ধ পিকেটাররা তখন সপুরায় ২টি ট্রাক ভাঙচুর করে। ভদ্রায় সড়কের উপর টায়ারে আগুন দিলে পুলিশ ৮ জনকে আটক করে। এসময় ভদ্রায় হরতাল সর্মথকরা ২টি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম মনির উজজামান জানান, দুপুর পর্যন্ত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

পথচারী গুলিবিদ্ধ

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১০টি দোকান ও ২০টির অধিক গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এদিকে দলীয় নেতার দোকান ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিকাল ২টা থেকে মহাসড়কের কুমিরায় অবরোধ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছোটকুমিরা এলাকায় হরতালকারীরা মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসেন চৌধুরীর ব্যক্তিগত অফিস ও দোকানে ভাঙচুর চালায়। এসময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ১৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এসময় পথচারী স্থানীয় মৃত রাজামিয়ার পুত্র হানিফ (৩৬) গুলিবিদ্ধ হন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া হারতালকারীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে থানার এস.আই শাহ আলমসহ ৫ পুলিশ আহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ সামিউল আলম পি.পি.এম।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া জেলায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। সকালে একদল পিকেটার নগরীর ইপিজেড এলাকায় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। এছাড়া সীতাকুণ্ড, কুমিরা, চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হরতাল চলাকালে ১৮ দলীয় জোটের নাসিমনস্থ দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ করে। এতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মির্জা ফখরুলকে মুক্তি না দিলে চট্টগ্রামে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবে।

পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জেলায় হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষ চলাকালে উপর্যুপরি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। নবাববাড়ির সামনে অবস্থান নেয়া পুলিশকে লক্ষ্য করে হরতাল সর্মথকরা ককটেল নিক্ষেপ করলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাওসার শিকদার, সৈয়দ আবু সায়েম ও কনস্টেবল সিরাজসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হ্যান্ডগ্রেনেডের বিস্ফোরণসহ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে ছাত্রলীগের তিন নেতা ও এক যুবদল কর্মী আহত হন। এঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে।

যাত্রীবাহী বাসে আগুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধার মুখে বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, গাড়িতে আগুন, অটো রিকশা ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলায় হরতাল পালিত হয়েছে। পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছে। সকাল ১১টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় সেতু পরিবহনের একটি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এসময় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা জানালা দিয়ে লাফিয়ে নিজেদের জীবন বাঁচান।

এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর

কালিয়াকৈর সংবাদদাতা জানান, হরতাল সমর্থকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শিলাবৃষ্টি পাম্পের সামনে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ১ টি এ্যাম্বুলেন্স, একটি বাস ও একটি ট্রাক ভাংচুর করে। এ সময় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া ভোরে কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কের সাহেব বাজারে ৪/৫শ' হরতাল সমর্থক রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পিকেটিং করার সময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেফতার ১৩

খুলনা অফিস জানায়, পিকেটারদের সাথে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং বিএনপি অফিস অবরুদ্ধ করে রাখার মধ্যদিয়ে খুলনায় হরতাল পালিত হয়েছে। ভোর থেকে বিএনপি অফিসের প্রবেশপথ দু'টি কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে রাখা হয়। পুলিশ পিকেটিং করার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টুটপাড়ায় একটি মিছিল থেকে হরতাল সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। হরতালের কারণে এখান থেকে দূরপাল্ল¬ার কোন পরিবহন ছেড়ে যায়নি। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল তালাবদ্ধ। স্কুল-কলেজেও ক্লাস হয়নি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেনদেন ছিল সীমিত।

সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল

সিলেট অফিস জানায়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেটে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল বর্ধিত করা হয়। তাকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে সোমবার থেকে সিলেট বিভাগে লাগাতার হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ। হরতাল চলাকালে সকালে নগরীর আদালত চত্বরে তাত্ক্ষণিক এক ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এদিকে বেলা দুইটার দিকে নয়াসড়ক এলাকায় চকলেট বোমা ফাটিয়ে রিকশা ভাংচুর করে পিকেটাররা। তখন এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া দক্ষিণ সুরমায় পুলিশের সাথে হরতালকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ভাংচুর

বরিশাল অফিস জানায়, পিকেটাররা ভোরে হাসপাতাল রোড এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লার ট্রাকে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। হামলার প্রতিবাদে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা দুপুরে নগরীর সদর রোডে হরতাল বিরোধী মিছিল করে। এছাড়া সকালে নগরীর হাসপাতাল রোড, সিএন্ডবি রোড, নবগ্রাম রোড, হাসপাতাল রোডে ও ঢাকা-বরিশাল সড়কে মিছিল-পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকরা। গড়িয়ারপার এলাকায় একটি বাসে হামলা চালায় তারা। আগের রাতে নগরীর বটতলা এলাকায় ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। হরতাল চলাকালে জেলায় অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্ল¬ার রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। অফিস আদালত খোলা থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা হয়নি।

বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগ, পাল্টাপাল্টি হামলা

পিরোজপুর অফিস জানায়, সকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একদল কর্মী শহরে মিছিল করে এবং জেলা বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নেভায়। এর আগে হাসপাতাল এলাকায় হরতাল বিরোধীদের হামলায় আহত হন জেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বাতেন। সকালে আলমকাঠী এলাকায় কদমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খাঁ'কে যুবদল-ছাত্রদলের কর্মীরা কুপিয়ে আহত করে। বাতেন তাকে হাসপাতালে দেখতে গেলে হামলার শিকার হন। শহরের তথ্য অফিসের সামনে ছাত্রদল কর্মীরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পুলিশ ৪/৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের হটিয়ে দেয়। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা শহরের বিভিন্ন বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করে। স্কুলগুলোতে পরীক্ষা নেয়া হয়। পুলিশ যুবদল নেতা নাছির শেখ ও ছাত্রদল সদস্য পারভেজকে গ্রেফতার করেছে।

ত্রিমুখী সংঘর্ষ

বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, সকালে আমতলী উপজেলা হাসপাতাল সড়কে হরতাল সমর্থক, পুলিশ ও হরতাল বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল নজরুলসহ ৪০ জন আহত হন। আহতদের আমতলী ও পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের মোটর সাইকেল ভস্মীভূত

আদিতমারী (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা জানান, সকালে উপজেলার সাপ্টিবাড়ি বাজারে আদিতমারী থানার এসআই সহিদুল ইসলামের মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতালকারীরা। এ সময় পুরো গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংবিধানের আরেকটি সংশোধনী ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নাগরিক ঐক্যের সভায় ড. কামালের এই বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন?
5 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
ফেব্রুয়ারী - ২৩
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :