The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ২৮ মহররম ১৪৩৪

গল্প

বিমূর্ত

মনি হায়দার

হাঁটছি আমি।

কখনও একা। কখনও লাবণ্যমাখা অপরূপ রূপসীদের সাথে, হাস্যে, চপলতায়। আর দেখছি শ্বেতপাথরের মেঝেতে কিন্নরীদের চোখ অন্ধ করা নাচের মুদ্রা। পেয়ালায় পেয়ালায় পানীয়ের উত্সব। কোথাও ঝালরবাতি নেই তবুও আলোর বন্যা চারপাশে। কোথা থেকে আসছে এত লাল নীল সবুজ বেগুনি আলো! সবচেয়ে রূপসী মেয়েটি আমার দিকে আসছে চাঁদরঙের পোশাকের আড়ালে নিজেকে গোপন করে, হাতে তার সহস্র বছর পর সদ্যফোটা লাল গোলাপ। মুখে তার আসমানের সাগরছোঁয়া হাসির তরবারি। চোখে ক্ষুধা-কাতরতার বিপুল আমন্ত্রণ। আমি নাচ দেখতে দেখতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি গোলাপটির জন্য। লাগল ছোঁয়া দুটি হাতে; স্পর্শের আলোয় কেঁপে উঠছে নূপুর, সুর আর পানীয়ের আকণ্ঠ পেয়ালা—

অ্যাই, শুনছ?

হঠাত্ তীব্র ধাক্কায় আমি বাগদাদের শূন্য উদ্যান ব্যাবিলন থেকে, হাজার কিলোমিটার বেগে ছিটকে পড়লাম জুরাইনে, ঢাকা শহরের মারাত্মক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার চুয়াত্তর নম্বর বাড়িটির মাঝারি মানের ভাড়াটে কক্ষের ভাঙা খাটে। হঠাত্ পতনের ধাক্কায় কিছুটা সময় নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। খুঁজে ফিরছি আমাকে। মনে হচ্ছিল, কেউ আমাকে আসমানের সিঁড়ি থেকে ধাক্কা দিয়েছে। এসে পড়েছি পাথরের এলাকায়। শেষ রাতে ঘন এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মৃদু ঠান্ডায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম এবং চলে গিয়েছিলাম প্রাচীনকালের এক অসম্ভব সুন্দর উদ্যানে, ব্যাবিলনে।

আমার হতবিহ্বল চোখের দিকে তাকিয়ে চন্দনা, আমার স্ত্রী হতবাক। সকালের চমত্কার পরিবেশটাকে দূষিত করে সে স্বভাবসুলভ কণ্ঠে খেকিয়ে উঠল—গরুর মতো তাকিয়ে আছ কেন? আমাকে চিনতে পারছ না?

দুহাতে চোখ রগড়ে আবার তাকালাম চন্দনার দিকে। না, কোনো মিল নেই ব্যাবিলনীয় অপরূপ রূপসীদের সঙ্গে এই মুহূর্তে আমার সামনে অপেক্ষামাণ নারীর। আর মোদ্দা কথা, আমি তাকে চিনতেই পারছি না। চন্দনা দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে কপট রাগে বলে—হয়েছে কী? কথা বলছ না কেন, চোখের মাথা খেয়েছ?

আমার মনে হচ্ছে, আমি খুব ধীরে ধীরে আমার মধ্যে, সন্তর্পণে, বিড়ালের শব্দে ফিরে আসছি এবং চন্দনাকে একটু একটু চিনতে পারছি। চন্দনা আমার স্ত্রী। আমি তার স্বামী। বুকের মাঝখানে চন্দনার কালো রঙের একটি তিল আছে। বিয়ের তিন দিন পর, রাতে, বুক এবং বুকের গভীর গোপন খাদে লুকিয়ে থাকা তিলটি দেখিয়ে দেবীর ভঙ্গিমায় চন্দনা আমাকে বলেছিল, ওর বুকের এই তিলের কারণে ওর স্বামী একদিন রাজা হবে। ওর স্বামী মানে আমি রাজা হব! সেদিন থেকে আমি রাজা হওয়ার স্বপ্নে বিভোরপ্রায়। সেই চন্দনাকে চিনব না?

শোনো, উঠে বসো—চন্দনার কণ্ঠে ব্যস্ততার বাতাস।

বিরক্ত করছ কেন? আমি কোলবালিশটাকে টেনে বুকের মধ্য জাপটে ধরলাম। যদি আবার ব্যাবিলনে ফিরে যাওয়া যায়!

কী হলো, কথা কানে যায় না! বাজখাঁই গলা চন্দনার।

আমি বাজারে যেতে পারব না। তা ছাড়া আজকে ছুটির দিন—আমাকে বিরক্ত করো না, প্লিজ।

এত সকালে কে তোমাকে বাজারে যেতে বলছে? চন্দনার এই কথার হিসেবটা কেমন যেন উল্টো মনে হলো। সকালে চন্দনা ঘুম থেকে ডেকে তুলছে, অথচ বাজারে যাবার সময় হয়নি বলছে, ঘটনাটা কী? ঘাড় কাত করে চোখ দুটোকে মেলে দিলাম দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে। মাত্র সকাল সাড়ে ছটা। ইচ্ছে হলো চন্দনার ঘাড়ে একটা থাপ্পড় বসাই। বিছানার অমোঘ টানে রাগটাকে দমন করতে বাধ্য হলাম এবং আবার শুয়ে পড়লাম। আবার যদি যেতে পারি ব্যাবিলনে, দেখতে পারি রূপকথার রূপসীদের—

শোনো হায়দার, বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় খবরটা তোমাকে দিতে চাইনি। চন্দনার গলা কেঁপে কেঁপে উঠছে।

আমি সামান্য মাথা তুললাম বালিশ থেকে— কী হয়েছে?

বাবলুর বাবা মারা গেছে।

ব্যাবিলনের সুরের মূর্ছনা তখনও কানের মধ্যে। চন্দনার কথা কিছুক্ষণ বুঝতে পারলাম না। কয়েক মুহূর্ত চন্দনার দিকে তাকিয়ে থাকার পর মনে হলো, আমি এখন মাটিতে অবস্থান করছি। শূন্য উদ্যান, ব্যাবিলনের জমজমাট আসর থেকে মাটির পৃথিবীতে নেমে এসেছি। বুঝতে পারলাম, চন্দনার কথার সারমর্ম। উঠে বসলাম বিছানায়। চোখের ঘুম ছুটে পালাল। আমি উদ্ভ্রান্তভাবে চারদিকে তাকাই।

অবাক চন্দনা—কী খুঁজছ?

চন্দনার জিজ্ঞাসায় তাড়িত হয়ে আমি আরও ব্যাকুলতায় চারদিকে তাকাই ঘোলাটে দৃষ্টি নিয়ে। কিন্তু কী খুঁজছি আমি? আমি কি বাবলুর বাবাকে খুঁজছি পৃথিবীর সীমানায়? নাকি কোনো উপকথায়? চন্দনা বিমূঢ় হতভম্ব চোখে আমার দিকে তাকিয়েই আছে।

বললাম, কিছু না।

বিছানা থেকে নেমে ব্রাশে পেস্ট লাগালাম। দাঁতে দাঁতে চেপে ব্রাশ করছি আর ঘরময় ঘুরছি চক্রাকারে শুয়োপোকার মতো। দাঁতে ব্রাশ চালাতে চালাতে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় নিজেকে একজন দার্শনিক মনে হচ্ছে। মৃত্যুচিন্তাটা মাথার মধ্যে জলপ্রপাতের শব্দে এবং তরঙ্গে নাচতে আরম্ভ করছে। মৃত্যু কেমন? কেমন করে আসে মৃত্যু? হামাগুড়ি দিয়ে? নিঃশব্দে? বিড়ালের পায়ে? নাকি ঢোল-করতাল বাজিয়ে নাচতে নাচতে, নিনাদে? বুঝি, এখন দর্শনচর্চা করার সময় নয়। আমার উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাঁত ব্রাশ করা। তারপর হাতমুখ ধুয়ে বাবলুদের বাসায় যাওয়া।

বাবলুর বাবা, মমিনুল হক আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পাশাপাশি, মুখোমুখি বাসা। দুজনেই ভাড়াটে আমরা। মাঝেমধ্যে ছুটির দিনে, অবসরে আমরা সামনের রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতাম। প্রাণখোলা টাইপের মানুষ মমিন ভাই। প্রচুর জোকস বলতে পারেন। তাঁর জোকস শুনে হাসতে হাসতে চোখে পানি আসে। একটা বেসরকারি অফিসে মাঝারি মানের চাকরি করেন। বৌ হেলেনা, দুটি বাচ্চা—বাবুল আর ডাবলু। বাবলু ক্লাস থ্রিতে পড়ছে। আর ডাবলু ওয়ানে। চারজন মানুষের ছোটখাটো চমত্কার সংসার। এই মুহূর্তে আমার সমস্ত ভাবনা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে জীবিত তিনজনকে নিয়ে। হেলেনা ভাবি, বাবলু আর ডাবলুর কী হবে এখন?

চন্দনার সঙ্গে মানসিকভাবে আমার অনেক কিছুই মেলে না। মিল নেই এই ভাবনাটার সঙ্গেও। আমার সরল-সাপ্টা কথা—যে মানুষটি মারা গেছে, এই দুনিয়ার যাবতীয় যন্ত্রণা থেকে মরে গিয়ে সে বেঁচেছে।

মানে? চন্দনা তীক্ষ চোখে তাকায়।

প্রতিদিনের বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণার ফাঁদ, জীবনযাপনের নানাবিধ যন্ত্রণা, ভণ্ডামির জাল থেকে চিরকালের জন্য মুক্তি পেয়েছে মানুষটা। তাকে আর বন্ধুত্বের শঠতা, ব্যবসার মারপ্যাঁচ, বেঁচে থাকার জন্য উদয়াস্ত অমানুষিক পরিশ্রম করতে হবে না। আহা! কী শান্তিময় জীবন। বরং যারা বেঁচে আছে, তাদের জন্য ভাবতে হবে। তাদের—

তুমি মানুষ? না অন্যকিছু? চন্দনার কণ্ঠে বিষ—যে মানুষটি মারা গেল, সে তো আমাদের খুব পরিচিত জন। এই বাসায় তোমরা একসঙ্গে বসে আড্ডা দিয়েছ, গল্প করেছ কত! একই রিকশায় চড়ে বাজারে গিয়েছ, সিগারেট ভাগ করে খেয়েছ, সেই মানুষটি আর আসবে না তোমার কাছে। তার জন্য কষ্ট হবে না? মানুষ হিসেবে আর একজন মানুষের স্মৃতি তোমায় কাঁদাবে না? মরে গেলেই তার সবকিছুকে বিসর্জন দিতে হবে? মানবিক সম্পর্কের কোনো মূল্য থাকবে না?

চন্দনার এই গভীর দর্শনময় কথায় আমার ভয়ানক হাসি পায়। আমি বলি—মৃত মানুষের জন্য কষ্ট লালন করে কী লাভ? ধরো, হঠাত্ আমিই যদি আজ মমিন ভাইয়ের মতো মরে যাই, কী করবে তুমি?

চন্দনা চোখ দুটি বড় বড় করে নির্বাক তাকিয়ে থাকে আমার দিকে।

আমিই তোমার হয়ে উত্তরটা দিয়ে দিচ্ছি—শোনো, তুমি শোকে-দুঃখে কয়েক দিন পাথর হয়ে যাবে। হয়তো কয়েকবার আমার লাশের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে। এমন কি তুমি কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞানও হারাতে পারো—যা কিছুই করো, শোকে-বেদনায় যতই তুমি ভেঙে পড়ো—কয়েক দিন মাত্র এবং তুমি খুব তাড়াতাড়ি বাস্তব জগতে ফিরে আসবে অর্থাত্ তুমি তোমাকে, তোমার জীবনকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হবে। বাড়িভাড়া, খাওয়া-থাকা-পরা নিয়ে ভাবতে তুমি বাধ্য। কীভাবে তুমি নতুন আশায় বাঁচবে—কী হবে তোমার অবলম্বন? এটাই মানুষের মৌলিক প্রসঙ্গ। খোঁজাখুজি করবে আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জায়গাজমি—দেখতে পাবে, কোথাও কিছু রেখে যেতে পারিনি তোমার জন্য। আমি হাসি—তুমি শিউরে উঠছ চন্দনা? এর পরও কি তুমি আমার মৃত আত্মাকে, স্মৃতিকে গভীর মমতায় ধারণ করবে? আমার মনে হয় না।

এক অচেনা অসহায় গলায় চন্দনা বলে—তুমি যদি এতই বুঝতে পারো, টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করছ না কেন?

চন্দনা—যার সঙ্গে আমার পাঁচ বছরের গভীর গোপন লেনদেনের সম্পর্ক, আমি যার স্বামী, যে আমার স্ত্রী, তার উত্তরে আমি কেঁপে উঠলাম। মানুষের মনের গভীর প্রান্তরে ভালোবাসা এবং প্রেমের নিচে সগৌরবে আত্মগোপন করা স্বার্থপরতার কঠিন পাথরকে দেখতে পেলাম। একই সঙ্গে ছাদ-ফাটানো বিকট অট্টহাসি এবং তীরভাঙা অথৈ কান্না আসতে লাগল আমার চোখে। ঠিক তখনই আকাশগাঙে বিকট শব্দে একটি বিমান ভেসে এল ছাদের ওপর, নিজেকে সামলানোর জন্য বাইরে এলাম।

চন্দনা জানে না অথবা জানার চেষ্টাও করে না, বাইরে প্রতিদিন কী অসহিষ্ণু যন্ত্রণাকাতর সময় কাটে আমার। জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে কতভাবে কতজনের কাছে নিজের আত্মসম্মানকে দিতে হয় বলি। অমানুষিক পরিশ্রম আর বিড়ম্বনাকে ডিঙিয়ে ঘরে ফিরে আসার পর এই অভ্যর্থনা সত্যি ভয়ানক। কী চাই আমি? চাই, আমার সন্তানও যেন থাকে দুধে-ভাতে। টানাপোড়েনের জীবনযাপনে কল্পনা, আশার এবং আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধান অনেক।

আমি দার্শনিকতার জগত্ থেকে ফিরে আসি চন্দনার কথায়—কতক্ষণ ধরে কেবল দাঁতই ব্রাশ করছ !

লজ্জা পেলাম। দ্রুত হাত-মুখ ধুয়ে জামাটা গায়ে চড়িয়ে গেলাম বাবলুদের বাসায়। বাবলুর বাবা মমিনুল হক, একটি অফিসের বিশ্বস্ত কর্মচারী, বন্ধুদের কাছে আড্ডাবাজ হূদয়গ্রাহী বন্ধু, বাবলু-ডাবলুর কাছে স্নেহময় পিতা, স্ত্রী হেলেনার কাছে অকৃত্রিম স্বামী, সেই মানুষটি এখন আর মানুষ নয়, কেবলমাত্র একটি লাশে পরিণত হয়ে চমত্কার ঋজু ভঙ্গিতে উত্তরে সিথান রেখে ঘুমিয়ে আছে। আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন প্রতিবেশী বললেন—ওনার মুখ দেখবেন?

না। লোকটির মুখ কালো হয়ে গেল। সে-ই সবাইকে মমিনের মুখ দেখার দায়িত্ব পালন করছে। আমি কী করব? এখানে এই মৃত্যুসভায় আসলেই আমার করণীয় কিছু নেই। চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। ঘরের ভেতর থেকে বিপন্ন বিষণ্ন কান্নার বেদনামিশ্রিত আকুল সুর ভেসে আসছে। হেলেনা ভাবি কাঁদছেন। তাকে কয়েক মহিলা অর্থহীন সান্ত্বনা দিচ্ছে। বাবলু অবাক চোখে দরজায় দাঁড়িয়ে প্রয়োজনহীন অজস্র কৌতূহলী মানুষের আনাগোনা দেখছে। ওর ছোট ভাই ডাবলু বারান্দায় রাখা তিন চাকার গাড়িটা সামনে-পেছনে অকারণে ঠেলছে। কয়েক দিন আগেই মতিন ভাই এই গাড়িটা এনেছিলেন। আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম গলির মোড়ের রেস্টুরেন্টে। আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন—বাসায় যাবেন না?

চা খাচ্ছি। আপনিও আসুন।

মমিন ভাই হাসেন, ইশারায় রিকশার পাদানিতে রাখা ছোট্ট গাড়িটা দেখান—ওদের গাড়িটা দিয়ে পরে আসব।

আচ্ছা।

নিশ্চয়ই ছেলে দুটোর অনেক দিনের বায়নার ফসল এই গাড়িটা। ছেলেদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মমিনুল হক। ডাবলু গাড়িটা নিয়ে দারুণ ব্যস্ত। উল্টেপাল্টে গাড়িটাকে দেখছে। কিন্তু ও কি জানে না, ওর বাবা এখন মানুষ নয়, লাশমাত্র? সে আর ফিরে আসবে না। না, ডাবলু কিছু বুঝতে পারে না। পারার কথাও নয়। পারছে না বলেই ডাবলু এই মুহূর্তে খেলছে, কিংবা খেলতে পারছে। ডাবলুর ছোটখাটো চাহিদাগুলো কে পূরণ করবে এখন? কে কিনে দেবে ওকে একটি এক পয়সার বাঁশি? জসীমউদ্দীনের কবিতার এক পয়সার বাঁশিই হোক কিংবা শামসুর রাহমানের কবিতার বাঁশি—মমিনুল হকের পক্ষে আর কেনা সম্ভব নয়।

মমিনের বড় ভাই এসেছেন খবর পেয়ে। তিনিই সব দেখাশোনা করছেন।

মমিন ভাইয়ের এক কলিগ বললেন—দেখে মনেই হচ্ছে না, মমিন ভাই মারা গেছেন! দিব্বি ঘুমুচ্ছেন।

মেজাজটা বিগড়ে গেল। আরে বাবা, মানুষ মারা গেলে সে দিব্বি ঘুমিয়েই থাকে। মরা মানুষ কি তার দুঃখ-সুখের কথা বলবে আপনার সঙ্গে! সেই শৈশব থেকে এক কথা শুনে আসছি। বিরক্তির সঙ্গে বাবলুদের বাসা থেকে বের হয়ে এলাম। আসতে আসতে ভাবছি—মানুষ কেন মৃত মানুষকে মৃত ভাবতে পারে না! মানুষ মারা গেলে আত্মীয়স্বজনেরা কেন বুকভাঙা অথৈ কান্নায় আছড়ে পড়ে? আদিকাল থেকেই জন্ম এবং মৃত্যুর অবিরাম এক অপ্রতিরোধ্য নারকীয় যন্ত্রণাকাতর খেলা চলছে। মানুষ নিজের অজান্তেই এই আকর্ষণীয় খেলার এক একজন সুনিপুণ খেলোয়াড়। আমি ক্লাস সিক্সে যখন পড়ি, তখন হঠাত্ বাবা ভদ্রলোক মারা গেলেন। খুব সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ডিম ভাজা আর গরম ভাত খেয়ে। গিয়েছিলেন জমি কিনতে। কিন্তু নিজের সাড়ে তিন হাত জায়গা নিয়ে মাঝরাতে লাশ হয়ে ফিরলেন। সারা রাত, আমার মৃত বাবা যিনি নরম বিছানা খুব পছন্দ করতেন, শুয়ে ছিলেন আঙিনায়, একটি সাধারণ হোগলায়। আমিও ছিলাম তাঁর সঙ্গে, পাশাপাশি। বাবার উষ্ণ শরীর সাপের মতো শীতল হয়েছিল, তাঁর পাশে ঘুমিয়েছিলাম। কখনও মায়ের নারকীয় বুকফাটা আর্তনাদে জেগে উঠেছি। আবার ঘুমিয়েছি। স্পর্শ করেছি মৃত বাবার হাত পা মুখ চিবুক চোখ কপাল। না, কোনো সাড়া মেলেনি। অদ্ভুত হিমশীতল নীরবতা নেমে এসেছে তাঁর শরীরে। আজও মনে পড়ে সেই কাল শরীরের গল্প। নাকে পাই করুণ গাঁথাময় এক দুর্লভ গন্ধ। মৃত পিতার শয্যায় রাত কাটিয়ে আমি মৃত্যুকে অনেকটা জয় করেছি। সে কারণে মৃত্যু, কোনো মৃত্যুই আমাকে তেমন স্পর্শ করে না, টানে না।

বাবলুদের বাসায় দুপুরের খাবার দেওয়া দরকার। বাসায় এলে চন্দনা আমাকে বলে।

দাও। আমি সমর্থন করি।

বাজারে যেতে হবে।

কী কী প্রয়োজন, তালিকাটা দাও।

চন্দনার তালিকা নিয়ে আমি ব্যাগ, তেলের কন্টেইনার হাতে বাজারের দিকে যাচ্ছি।

কোথায় যাচ্ছেন হায়দার ভাই?

বাজারে যেতে যেতে, পথে মমিনুল হকের সঙ্গে দেখা। বিরক্তি বোধ করি। লোকটা দেখতে পাচ্ছেন হাতে ব্যাগ, তেলের কন্টেইনার; তার পরও জিজ্ঞেস করছেন—কোথায় যাচ্ছেন হায়দার ভাই? এটা মানুষের স্বভাব। বিরক্তির সঙ্গে পাশে তাকাই। মমিনুল হক পাশে নেই। তাহলে? কে ছিল? কে কথা বলল? কী দেখলাম? মমিন ভাই এবং আমি প্রায়ই একসঙ্গে বাজারে যেতাম। যেতে যেতে বাজারের দরদাম নিয়ে আলোচনা করতাম। আজ, মৃত মমিন ভাই, স্মৃতির মমিন ভাইরূপে আমার সঙ্গে আসছিলেন।

বাজারশেষে বাসায় এলাম। মমিন ভাইয়ের সর্বশেষ গোসল শেষ। সাদা কাফনে ঢেকে আছেন মমিন। জুরাইন কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে মমিনের জানাজা শেষ। এ-জাতীয় কাজগুলো শেষ হতে বেশি সময় লাগে না। জানাজা শেষে অনেকের সঙ্গে কফিন কাঁধে তুললাম আমিও। একদিন আমিও মানুষের কাঁধে এইভাবে উঠব? আমার ভয়ানক হাসি পাচ্ছে। কিন্তু নিজেকে সামলে নিই। আমাকে মানুষ পাগল ভাববে। শেষে না পাগলা গারদে স্থান হয়, কে জানে? মমিন ভাইকে নিয়ে কয়েক কদম হাঁটার পরই আকাশ-বাতাস ঘর-দরজা জানালা-দেয়াল ভেঙে শুরু হলো শোকে পরিপূর্ণ অপার্থিব আকুল কান্নার নগ্ন বৃষ্টি। হেলেনা ভাবি, বড় ভাই, আত্মীয়স্বজন আছড়ে পড়ছে শোকের অকুল দরিয়ায় ভয়াবহ নিনাদে, আবেগে। এই যে মানুষগুলো শোকের মাতম করছে—এটা কি সত্যিকারের ভেতরের শোক?

হেলেনা ভাবি আলুথালু, সবাইকে ছাড়িয়ে বারান্দায় এসে পড়েছে, চোখ-মুখ ফোলা—তোমারে ছাড়া আমি কেমনে থাকুম... আমি কেমনে .. বিলম্বিত তাল এবং লয়ে কঠিন কষ্টের কান্নায় ভোকাট্টা ঘুড্ডির মতো ভাসতে থাকে বৃষ্টি আর বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। হেলেনা ভাবির শরীর থেকে কাপড় সরে গেছে। প্রকাশ হয়ে পড়েছে তার নাভীমূলের লোভনীয় বারান্দা, কাঁধ থেকে খসে পড়েছে ব্লাউজ, লাল ফিতার ব্রা দাঁত বের করে হাসছে। আলুথালু ভাবির নিঃসীম সৌন্দর্য-সৌকর্যের প্রতি লাশ বহনকারীদের লোভাতুর চোখ আটকে যায়। সামান্য ক্ষণের জন্য হলেও বিদ্যুচ্চমকের বান ডাকে এবং আমরা হঠাত্ লাশ কাঁধে নিয়ে থমকে দাঁড়াই। আমার পাশে দাঁড়ানো বাবলু। বাবলুর পেছনে ডাবলু। ডাবলু অবাক চোখে সবকিছু দেখছে আর ডান হাতের বুড়ো আঙুল মুখে দিয়ে চুষছে।

কয়েকজন মহিলা ভাবিকে জোর করে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। লাশ আমাদের কাঁধে চড়ে চলতে আরম্ভ করেছে। পেছনে পেছনে বাজছে শোকের সানাই। লাশের পেছনে ধীরে ধীরে হাঁটছে অনেক মানুষ। সবার চোখে-মুখে বিষণ্নতার নিপাট আলখাল্লা মায়াবি পর্দার মতো দুলছে। আবারও আমার থেকে থেকে হাসি পাচ্ছে। বুঝতে পারছি না কিছুতেই—মৃত একজন মানুষের জন্য এত সাজিয়ে-গুছিয়ে শোকপ্রকাশ কেন? শোক প্রকাশ করা তো দরকার হেলেনা ভাবি এবং তার দু-সন্তানের জন্য। তারা কীভাবে বাসাভাড়া দেবে? জীবন-ধারণ করবে কীভাবে? বাচ্চা দুটোর ভবিষ্যত্ কী? লেখাপড়া ঠিকঠাক চলবে তো? নাকি ঢাকার সাজানো সংসার ফেলে চলে যেতে হবে গ্রামে? তিন তিনটি মানুষের জীবনে কি নেমে আসবে স্তব্ধতার পাথর? কে নেবে এদের দায়িত্ব?

যথাসময়ে লাশ কাঁধে পৌঁছে গেলাম কবরস্থানে। কবরস্থানে সবাই মিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাটির গভীর কালো পেটের মধ্যে লাশটাকে লুকিয়ে ফেলতে হবে। এসব দেখে আমার মনে হয়, মৃত মানুষটি কেনো অপরাধ করেছে। সুতরাং তাকে তাড়াতাড়ি মাটির উদরে লুকিয়ে ফেলা। মমিন ভাইয়ের লাশ কবরে নামানো হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে হাত লাগায় বাবলু এবং ডাবলুও। কবরে নামানো হলো মমিনের লাশ। লাশ ঢেকে দিচ্ছে সদ্য কাটা, সাজানো বাঁশ দিয়ে। বাবলু একটি বাঁশ আমার হাতে দিয়ে বলে—আংকেল, নিন।

হেসে বাঁশখণ্ডটি নিলাম। বাঁশখণ্ডটি শুইয়ে দিলাম মমিনের কবরের ওপর। বাবলুর দেখাদেখি ডাবলুও ছোট্ট হাতে কষ্টে একখণ্ড বাঁশ আমার কাছে এগিয়ে দেয়। আমি ডাবলুর দেয়া বাঁশও নিলাম। মমিনের কবরে বাঁশ দেয়া শেষ। মাটি দিয়ে বাঁশ ঢেকে দেয়ার পালা চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যে উপস্থিত সকলের হাতের মাটি পেয়ে মমিনের কবরটি সুন্দর পরিপাটি করে সেজেছে। বাবলু এবং ডাবলুও স্বাভাবিকভাবে মাটি দিচ্ছে মমিন ভাইয়ের কবরে।

মমিন ভাইয়ের ভাগ্য বলতে হবে, কেউ একজন মন্তব্য করছে, দু-দুটো ছেলে সন্তানের হাতে মাটি পাইচেন মমিন ভাই!

সেই মন্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর একজন বলছে—আর এই নিষ্পাপ এতিমদের লাইগা মমিন সাহেবের গোর আজাব মাফ অইয়া যাইবে।

গোটা ব্যাপারটা দারুণ উপভোগ্য আর কৌতুকময়। সন্তানের হাতে, ছেলে সন্তানের হাতে মাটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে এক ধরনের আদিম সামন্তবাদী মানসকিতার চাষাবাদ করছি আমরা!

আমার বন্ধু এবং প্রতিবেশী মমিনুল হকের বিদেহী আত্মা নিশ্চয়ই অপার শান্তি পাবে, সে দু-দুটি ছেলে সন্তানের হাতে মাটি পেয়েছে। আমি? আমার কবরে কে মাটি দেবে? আমার আর চন্দনার বিবাহিত জীবন পাঁচ বছরের। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আমরা জনক-জননী হতে পারিনি। মানুষজন নানা কথা বলে আমাদের দাম্পত্য-জীবন সম্পর্কে। আমি না শোনার ভান করি। মুশকিল চন্দনাকে নিয়ে। ভুঁইফোড় মন্তব্য শোনার পর চন্দনা ক্লান্তিহীন কাঁদে। আমাকে অক্ষম পুরুষ মনে করেও কষ্ট পায়। অথচ ডাক্তারের রিপোর্টে ওর সন্তানধারণের অক্ষমতার কথা উল্লেখ আছে। চন্দনা কষ্ট পাবে, সেই কারণে ডাক্তারের রিপোর্টটি প্রকাশ করিনি। হঠাত্ আমার মনে হলো, কে যেন আমার শরীরের মধ্যে ঢুকেছে এবং গোপন কুঠুরিতে লুকানো কলিজাটায় অলক্ষ্যে বর্শার সাদা তীক্ষ ফলা ঢুকিয়ে ঠা ঠা শব্দে বিকট অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে জুরাইনের এই কবরস্থানের যাবতীয় লাশ এবং কবরস্থানজুড়ে।

ভাবনার মধ্যেই দেখলাম মৌলবি হাত উঠিয়েছেন সদ্যমৃত আমার বন্ধু ও প্রতিবেশী মমিনুল হকের আত্মার শান্তি কামনায়। সবার সঙ্গে হাত আমিও ওঠালাম। আমার দু-পাশে দাঁড়ানো বাবলু এবং ডাবলু। মৌলবি অকুণ্ঠচিত্তে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে অদৃশ্য বিধাতার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ স্বর্গ চাইলেন মমিন ভাইয়ের জন্য। কয়েক মুহূর্ত মৌলবি বিষণ্ন মোলায়েম কণ্ঠে কান্নার চেষ্টাও করলেন। আমি দেখি, বাবলু আর ডাবলু হাত তুলে মোনাজাত ধরলেও এদিক-ওদিক তাকিয়ে অন্যদের মোনাজাত করা দেখছে। আমার বুকটা বিষণ্নতায় ডুবে গেল জীবনের এই পার আর ওই পার দেখে। ওরা দু-ভাই ভাবলেশহীনভাবে সবার সঙ্গে মোনাজাত শেষ করে। বাসায় ফিরে আসার আগে আবার বাবলু ও ডাবলুকে নিয়ে ওদের বাবার কবরের সামনে দাঁড়ালাম। আমাকে, আমাদেরও একদিন এখানে আসতে হবে—ভাবতেই শরীরের অবকাঠামোতে সূক্ষ্ম বীণার তারের সুরে ভয় নাচতে লাগল।

প্রতিবেশী একজন কানে কানে বলে—বাসায চলেন।

হ্যাঁ, চলেন। আমার খেদে পেয়েছে।

সবার সঙ্গে আমিও বাসার দিকে পা বাড়ালাম।

ফিরতে ফিরতে আমরা শবযাত্রীরা এইমাত্র মাটির গভীরে শুইয়ে রেখে আসা মমিনুল হকের জানা-অজানা গুণাবলি সম্পর্কে আলাপ করছিলাম। কিছুক্ষণ আগে থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে। সূর্য ডুবেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধকার গ্রাস করবে চরাচর। কবরস্থানের এখানে-ওখানে মৃত আত্মার মতো কয়েকটি ল্যাম্পপোস্টে ভুতুড়ে আলো জ্বলে উঠেছে। আমরা ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছি। কিন্তু কেউ প্রকাশ করছি না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাঁটার চেষ্টা করছি। ডানে-বাঁয়ে-তাকাই, ওদের দু-ভাইকে দেখছি না।

হঠাত্ কবরস্থান, কবরস্থানের ভয়াবহ নিস্তব্ধ পরিবেশ ছিন্নভিন্ন করে, বাতাসের গতিকে থামিয়ে, ঝিরঝিরে বৃষ্টিকে আমূল গ্রাসে নাড়িছেঁড়া করে এক তীব্র হাহাকারের লু হাওয়া শুনতে পেলাম আমি এবং আমরা। পলকে পেছনে ফিরে তাকাই, শব্দের উত্স সন্ধান করি এক ধরনের অশরীরী ভয়, উত্তেজনায়।

তোমরা আব্বুকে রেখে যাচ্ছ কেন? ডাবলু হাঁটুগেঁড়ে বসেছে পিতার কবরের ওপর। দুচোখে জল ঝরছে অবিরল। দুটি পাথরের মাঝখানে থেতলে যাওয়া একখণ্ড মাটির ডেলার মতো ডাবলু অসহায় চোখে পিতার বিশাল কবরকে ওর দুহাতে যতটুকু সম্ভব অঁকাড়ে ধরে বসেছে কবরের পাশে। সামান্য পেছনে ওর বড়ভাই বাবলু দাঁড়িয়ে। সেও কাঁদছে। আমি, আমার সঙ্গে যারা ছিল, সবার চোখে জলের প্রপাত। সকাল থেকে আমি বোধহয় এমন বিমূর্ত শোকগাঁথার অপেক্ষায় ছিলাম। সমস্ত কবরস্থান, বৃষ্টি, আলো ও অন্ধকার, থিরথিরে বাতাস এবং জুরাইন কবরের যাবতীয় মৃতমানুষেরা পর্যন্ত ডাবলুর শোকে জীবিত হয়ে শোকের মাতম করছে। অনেকদিন পর আমি মৃতমানুষের জন্য কাঁদলাম। এবং কাঁদতে কাঁদতে নিজেকে নির্ভার লাগছিল।

এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, আমাদের মধ্যে একজন মানুষ ছিল, যে মানুষটি অনেকের বন্ধু, স্বামী, পিতা, পুত্র, বদমায়েশ হিসেবে স্থান-কালে দায়িত্ব পালন করেছে। সেই মানুষটি আর নেই। আমাদের কান্না ও শোকে অংশ নিয়েছে প্রকৃতি। আমি ডাবলুকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। বৃষ্টি নামতে আরম্ভ করেছে অঝোর ধারায়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংবিধানের আরেকটি সংশোধনী ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নাগরিক ঐক্যের সভায় ড. কামালের এই বক্তব্য আপনি সমর্থন করেন?
2 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
ফেব্রুয়ারী - ২৩
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :