The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ০১ পৌষ ১৪২০, ১১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের ভর্তি লটারি ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর | জয়পুরহাটে সংঘর্ষে নিহত ৩ | ভোট হচ্ছে ১৪৬ আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮৭ জন | সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা | নির্বাচন নিয়ে তামাশা নজীরবিহীন : কাজী জাফর | ব্যারিস্টার আনিসুলের বাড়িতে ককটেল হামলা | ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পাল্টা আঘাত : হানিফ | বিএনপি আসলে এপ্রিলে নির্বাচন : আনন্দবাজার পত্রিকা | সিলেটের কানাইঘটে যুবলীগ নেতা খুন | মিরপুরে পুলিশ খুন, স্ত্রী গ্রেফতার | লালমনিরহাটে সংঘর্ষে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ নিহত ৪

ব্যবসায়ীদের সাদা পতাকা মিছিল ও সমাবেশ

দুই নেত্রীর বাস ভবনের সামনে অবস্থানের হুমকি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সমঝোতা ও শান্তির জন্য রাস্তায় নামলেন ব্যবসায়ী-শিল্প মালিকরা। সংঘাত নয়-সহাবস্থান, সহিংসতা নয়- শান্তির মিছিলে শরীক হতে রাজনীতিবিদদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দেশজুড়ে শান্তির মিছিল ও সাদা পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রাজনীতিবিদদের বলেছেন, দয়া করে আমাদের রেহাই দিন। কেউ কেউ আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছেন, অবরোধ সহিংসতা চলতে থাকলে দোকানপাট বন্ধ করে দিতে হবে। কারাখানা চালু রাখা যাবেনা। বেতন ভাতাতো নয়ই, বরং কাজের সুযোগ হারাবে লাখ লাখ কর্মী। আর ব্যাংকের ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে দেউলিয়াত্বের স্বাদ নিতে হবে অনেককে। আর কোনো সমাধান না হলে দুই নেত্রীর বাস ভবনের সামনে অবস্থান নেব দরকার হলে।

সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে কলকারখানার মালিক সবাই এভাবেই নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই আধাঘণ্টা শান্তির দাবিতে মানব বন্ধন করেন। ব্যবসায়ী নেতারা আরো বলেছেন, আপনারা সমাধান করতে না পারলে আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হবে। দেশের মানুষ ও অর্থনীতির রক্ষা করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের। কিন্তু তারা সে দায়িত্ব পালন না করে উল্টো কাজ করছে। তাই রাজনীতি এখন আর রাজনীতি নেই। মানুষ মারার নীতিতে পরিণত হয়েছে। সহিংসতা বন্ধে রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হলে নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের দিয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়া হবে বলেও হুমকি দেয় ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের একটিই দাবি অসুস্থ রাজনীতি বন্ধ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আর এ শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই দেশ বাঁচবে, দেশের অর্থনীতি বাঁচবে।

আজ রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা। দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় হরতাল ও অবরোধের প্রতিবাদে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত রাজধানীর ফেডারেশন ভবনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের অধিভুক্ত ১৯টি জয়েন্ট চেম্বারসহ মোট ৯৩টি চেম্বার ও ৩৪০ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ী নেতাসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা দেশব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন। শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান ব্যবসায়ীরা।

কর্মসূচিতে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ বলেন, আমরা অসুস্থ রাজনীতি চাইনা, আমরা শান্তি চাই। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান সহিংস রাজনীতির প্রতিবাদে জাতির এ ক্রান্তিকালে আমাদের এ প্রতিবাদ কর্মসূচি। দেশের বর্তমান সহিংস কর্মসূচির কারণে দেশের অর্থনীতি মৃতপ্রায়। দেশের ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নাই। এ অবস্থায় আমরা উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন স্থানে মানুষ হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চলছে। সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোনো মানুষই এখন নিরাপদে পথ চলতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছেনা। মানুষ রাজনীতিবিদদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, আমরা দেশের রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়ে আসছি। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত না করায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকে সমঝোতার মন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সংলাপের যে পথ দেখতে পাচ্ছি সমঝোতার মন নিয়ে এলে সংলাপ সফল হবে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাই। সরকারকে এর নিরাপত্তা দিতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষ বর্তমান সহিংসতার অবসান চায়।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান বলেন, চলমান সহিংসতা বন্ধে রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হলে নেতৃত্ব আমাদের দিতে হবে। সমঝোতার মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় রাজনীতিবিদদের ওপর থেকে সমাজের আস্থা চলে যাচ্ছে। আমরা আর সহ্য করব না। এই রাজনীতি আমাদের বন্ধ করতে হবে। দেশটাকে সোজা পথে আনতে হবে।

আরেক সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, রাজনীতি এখন আর রাজনীতি নেই। এটা মারার নীতিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ বাঁচানোর, অর্থনীতি বাঁচানোর কথা যাদের। তারাই মানুষ মারছে। অর্থনীতি ধ্বংস করছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আমরা ভয়ে কথা বলতে পারছি না। রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে অন্তত সাত দিন হরতাল-অবরোধ বন্ধ রাখুন। যাতে আমরা বিভিন্ন স্থানে মালামাল পাঠাতে পারি। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারি। বর্তমানে কেউই নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, বর্তমানের সহিংস রাজনীতির কারণে ব্যাংক, বীমা, পোশাক শিল্পসহ সকল শিল্প ধ্বংসের পথে। তাই দুই নেত্রী যদি সমস্যা সমাধানে না আসেন তাহলে আমরা তাদের বাস ভবনের সামনে অবস্থান নেব। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানেই থাকব। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের তৈরি করেননি। আমরাই আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছি। তাই দেশের স্বার্থে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দ্রুত সমস্যার সমাধান করুন।

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, টানা হরতাল-অবরোধের কারণে আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গিয়েছে। আমরা জানি না তা সোজা করব কীভাবে। তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ রাজনীতি দেখতে চাই না। অসুস্থ রাজনীতির কারণে শিল্প অসুস্থ হয়ে পড়ছে, আমরাও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

গতকালের এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিলস্থ প্রধান কার্যালয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ-এর সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, প্রাক্তন সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কাশেম আহমদ, জসিম উদ্দিন, আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সবুর খান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান মঞ্জু, রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী পারভেজ, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে শান্তি, শান্তি শান্তি চাই; পোষাক শ্রমিক জনতা, গড়ে তোল একতা; শিল্প মালিক জনতা, গড়ে তোল একতা; সহিংস রাজনীতি নয়, দেশবাসী শান্তি চাই প্রভৃতি স্লোগান দেন ব্যবসায়ীরা। কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বর থেকে দৈনিকবাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। দৈনিক বাংলা মোড়ে চেম্বার ভবনের সামনে অবস্থান নেয় মেট্রোপলিট্রন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রি। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহমেদসহ অন্যরা এতে অংশ নেন। মৌচাক, মালিবাগ এলাকায় দোকান মালিক সমিতির নেতা আবদুল মুকিত হূদয়, সাইদুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে সাদা পতাকা হাতে দোকান মালিকরা স্বতস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে যোগ দেন। নবাবপুর রোড ও সদরঘাটে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানান সেখানকার দোকান মালিক সমিতির নেতা কামাল হোসেন ও মহসিন গাজী।

মিন্টুর মুক্তি দাবি:

সাদা পতাকা হাতে মানবন্ধন কর্মসূচি চলাকালে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আওয়াল মিন্টুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ। তিনি ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সর্বশেষ আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
4 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :