The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ০১ পৌষ ১৪২০, ১১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের ভর্তি লটারি ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর | জয়পুরহাটে সংঘর্ষে নিহত ৩ | ভোট হচ্ছে ১৪৬ আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮৭ জন | সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা | নির্বাচন নিয়ে তামাশা নজীরবিহীন : কাজী জাফর | ব্যারিস্টার আনিসুলের বাড়িতে ককটেল হামলা | ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পাল্টা আঘাত : হানিফ | বিএনপি আসলে এপ্রিলে নির্বাচন : আনন্দবাজার পত্রিকা | সিলেটের কানাইঘটে যুবলীগ নেতা খুন | মিরপুরে পুলিশ খুন, স্ত্রী গ্রেফতার | লালমনিরহাটে সংঘর্ষে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ নিহত ৪

মুক্তিযুদ্ধ

বিজয়ানন্দ এবং কিছু স্মৃতিকথা

মাহবুবা আহসান

ছোট্ট পিঠাপিঠি দু'ভাই রনি আর মনি। তারা এ বছরের ছোট-বড়। প্রতিদিন বিকেলে বাসার ছাদে যেয়ে খেলার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরে। কিন্তু মায়ের বারণ, ছাদে যাবে না। প্রতি রাতে মিলিটারীদের ছাদে উঠার শব্দ পাওয়া যায়। বুটের খট খট শব্দ, নিস্তব্ধ রাতের আঁধারে ভয়ঙ্কর রূপে তা কানে এসে লাগে। ভয়ে গা ছম ছম করে। ছাদ থেকে মিলিটারীরা বিভিন্ন নিশানা ঠিক করে, গুলি চালায়। মায়ের বারণ থাকা সত্ত্বেও একদিন ছাদে পানির ট্যাঙ্কের নিচে পড়ে থাকা একটি 'গুলি' কুড়িয়ে পায় রনি। তা সে খেলার বস্তু হিসেবে তার ঝুড়িতে রেখে দেয়। পরের দিন যথারীতি কাজের মেয়ে ফাহিমা তাদের গোসল শেষে, বারান্দার পাশে অবস্থিত নেট দিয়ে ঘেরা খোলামেলা ঘরটাতে রেখে বলে, তোমরা এখানে বসে খেলা কর আমি তোমাদের জন্য খাবার দিচ্ছি। ফাহিমা চলে যায়। রনি কুড়িয়ে পাওয়া 'গুলিটির' পিছনদিকে সেপ্টিফিন দিয়ে গুতাতে থাকে। হঠাত্ করে প্রচন্ড আওয়াজে গুলি ব্লাষ্ট হয়। রনির হাতের সবকটি আঙ্গুলের মাথা উড়ে যায়। চোখে-মুখে ছিঁটকে পড়ে গুলির অংশ বিশেষ। সারা শরীর রক্তে ভিজে যায়। পাশে বসে থাকা ছোট ভাই মনি, তার পেটের এক অংশ ছিদ্র হয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। ভরা কলস ফুটো হয়ে পানি তীরবেগে পড়লে যেমনটি হয়। রনি স্তব্ধ হয়ে যায়। এ কি হল! হাতের সব আঙ্গুল উড়ে গেছে অথচ সে কাঁদছে না। ছোট ভাইয়ের কান্না দেখে সে ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। মা নিষেধ করেছিল যেও না। ছাদ হতেই তো সে এটা (গুলি) কুড়িয়ে এনেছে। তার জন্যই তো আজ ছোট ভাইয়ের পেট ফুটো হয়ে রক্ত ঝরছে। ভয়ে এবং অপরাধে সে যেন বোবা হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের লোকজন আসে। এম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে ডাক্তার ঠাট্টা করে বলছে, কি মিষ্টার রনি? ক্ষুদে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। রনি আর মনি তাদের সারা শরীর, মুখ ছিল ব্যান্ডেজে ঢাকা, পুড়ে যাওয়া রোগীদের মত। চোখ দুটি ছাড়া সমস্ত শরীরই ছিল ব্যান্ডেজ করা।

সেদিন ছিল ১৬ই ডিসেম্বর। পড়ন্ত বেলা। বিকেলে রোদের তীব্রতা ক্রমেই কমে আসছে। কিরকম একটা হট্টগোল শোনা যাচ্ছে। বার/তের বছরের কয়েকটি ছেলে, হাতে লাল-সবুজের পতাকা, মুখে জয় বাংলা বলছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে জয়ধ্বনী করছে।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবে রুনু, ভাই যুদ্ধে গেছে। আল্লাহ জানেন, কেমন আছে। বেঁচে আছে না মরে গেছে। নানা কথা ভেবে রুনুর মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। বুকের ভেতর কান্না গুমরে গুমরে উঠতে থাকে। চোখ দু'টো লাল হয়ে যায়। এক সময় বেলা শেষ সন্ধ্যা নামে। সকলে যে যার কাজে ব্যস্ত। হঠাত্ ঠক ঠক শব্দ। কে যেন দরজায় কড়া নাড়ছে। অন্ধকারে চারিদিকে অস্পষ্ট। আবার ঠক ঠক কড়া নাড়ার শব্দ। এ সময় কে এল! দরজা খুললেন মা। একটি লোক দাঁড়িয়ে। কে আপনি? মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মাফলার দিয়ে মাথা, গলা পেঁচানো। মুখটা অন্ধকারে ভাল দেখা যাচ্ছে না। মা আবারো বললেন কে? রুনু মায়ের পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল। মা এতো বড় ভাই। রুনু চিত্কার দিয়ে বলল, মা ভাইয়া। মা, ভাইকে জড়িয়ে ধরে বাধভাঙ্গা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ভাই ফিরে এসেছে। আনন্দাশ্রু ঝরছে। এ যেন বন্ধ হতে চাইছে না। ডিসেম্বর, বিজয়ের মাস। এ মাস এলেই সেই পুরানো দিনের স্মৃতিতে মন অবগাহন করে। আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীন দেশ পেয়েছি। যারা অনেককিছু হারিয়েছেন তাদের প্রতি রইল বুকভরা সমবেদনা আর দোয়া। আল্লা তাদের আত্মার শান্তি দিন।

এখন চলছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর। সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশ আজ অশান্ত। দোয়া করি এই অশান্তভাব দূরীভূত হোক। ১৯৭১ সালের ছোট্ট রুনুর বয়স এখন পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব। রুনুর স্মৃতিতে ভাসে ১৯৭১ সালে থমথমে ভাব। এখনো দেশ অশান্ত। থমথমে ভাব। কখন কি না কি হয়, এক অজানা আশঙ্কা। মানুষ পুড়ে মরছে। দেখতে হচ্ছে কান্না আর বীভত্স সব দৃশ্য। কবে হবে এর অবসান? এ সমস্যার সমাধান কেবল তিনিই দিতে পারেন। তাই প্রার্থনা, এই সঙ্কটময় অবস্থার উত্তরণ ঘটাও হে দয়াময়। শান্তি দাও। হে "আল মুমিনু" শান্তি ও হেফাজতের মালিক, এই দুর্যোগ মুহূর্তে আমাদের জাতীয় জীবনে শান্তি দাও। দূর কর সব বালা-মুসিবত। এই আমাদের প্রার্থনা।

লেখক : ব্যাংকার

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২০
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :