The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ০১ পৌষ ১৪২০, ১১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের ভর্তি লটারি ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর | জয়পুরহাটে সংঘর্ষে নিহত ৩ | ভোট হচ্ছে ১৪৬ আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮৭ জন | সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা | নির্বাচন নিয়ে তামাশা নজীরবিহীন : কাজী জাফর | ব্যারিস্টার আনিসুলের বাড়িতে ককটেল হামলা | ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পাল্টা আঘাত : হানিফ | বিএনপি আসলে এপ্রিলে নির্বাচন : আনন্দবাজার পত্রিকা | সিলেটের কানাইঘটে যুবলীগ নেতা খুন | মিরপুরে পুলিশ খুন, স্ত্রী গ্রেফতার | লালমনিরহাটে সংঘর্ষে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ নিহত ৪

জীবনের জন্য নির্ভেজাল খাবার

মো. নাছিরউদ্দীন

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্য অন্যতম। নিরাপদ এবং পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য যেমনি দরকার তেমনি মানুষের কাজ করার ক্ষমতা বাড়াতেও এর ভূমিকা অপরিসীম। আমরা প্রতিদিনই আমাদের চাহিদা মোতাবেক খাবার খাই। কিন্তু কথা হচ্ছে যে, আমরা কি নিরাপদ ও পুষ্টিসম্পন্ন খাবার খাই? বলতে গেলে ভেজাল নাই এমন খাবার পাওয়াই মুশকিল। তরি-তরকারি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ফল-ফলাদি, বিস্কুট, চানাচুর কোন কিছুই নিরাপদ না।

খাদ্য পণ্যে ব্যবহূত হয় টেষ্টিং সল্ট, খাওয়ার সোডা, ফুড ফ্লেভার, যালিভার ও কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে। ফরমালিন, হাইড্রোজ, কার্বাইড এবং ইথুফেন ব্যবহূত হয় মাছ ও ফলের পচন রোধ করতে। জিলাপি মচমচে করতে, মুড়ি বেশি ফোলাতে, ফলপাকাতে এবং রং ভালো করতে। আবার ডিডিটি ও টেক্সটাইল রং ব্যবহূত হচ্ছে শুঁটকি মাছ, মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, মসলা ও আইসক্রীমে। এ সকল রাসায়নিক দ্রব্য বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এমনকি Blood Cancer পর্যন্ত ঘটাতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, বাচ্চাদের জন্য যে লিচু বা আমের জুস তৈরি করা হয়, তাতে লিচু বা আমের কোন অস্তিত্বই নেই। কৃত্রিম লিচু বা আমের গন্ধ দিয়ে এসব জুস বানানো হচ্ছে। চকলেটের মধ্যে চিনির পরিবর্তে স্যাকারিন ব্যবহার করা হচ্ছে অহরহ।

আমাদের সংবিধানে অনুচ্ছেদ নং ১৫ এবং ১৮-এ বলা আছে সরকার জনগণের খাদ্য নিশ্চিত করবে এবং পুষ্টিকর খাদ্য উত্পাদন বা সরবরাহ-ই হবে সরকারের অন্যতম কাজ। কিন্তু সরকার আজ সেখানে ব্যর্থ। অবাধ প্রতিযোগিতা, মুনাফা অর্জনের জন্য লালায়িত মানসিকতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শিথিলতা ইত্যাদি কারণে বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল মেশানো একটা স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

১৮৬০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ২০টির অধিক ভেজাল বিরোধী আইন হয়েছে। তন্মধ্যে জাতীয় খাদ্য নীতি ২০১০-এ নিরাপদ খাদ্য আইনগুলো আধুনিক করতে এবং ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন একত্র করতে বলা হয়েছে। জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টিনীতি ১৯৯৭-এ খাদ্য মান মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। বাংলদেশ নিরাপদ খাদ্য নীতি-২০০৫ এ বিষাক্ত অথবা ক্ষতিকারক রাসায়নিক যুক্ত খাবার বিক্রি অথবা উত্পাদন বন্ধের জন্য বলা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি নীতি ২০০৬-এ সার্টিফিকেট এবং বিভিন্ন পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি ১৯৫৯ সালের "PureFood Ordinance"কে পরির্বতন ও পরিবর্ধন করে যুগোপযোগী নতুন আইন "নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩'' সংসদে পাস হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এতগুলো আইন থাকা সত্ত্বেও এর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যেমন : হোটেলগুলোতে মৃত মুরগি খাওয়াচ্ছে। আজো ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন একত্র করা হয়নি। ফরমালিন এবং ডিডিটি খাবারে সচরাচর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রাণ কোম্পানির মরিচের গুঁড়ায় বিদেশে রপ্তানি হওয়ার পরও ভেজাল পাওয়া গেছে তাও আবার আমেরিকাতে। যেটা বাংলাদেশে খুব সহজেই পার পেয়ে গেছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের এক চতুর্থাংশ মানুষই ২০২৫ সালের মধ্যে শুধুমাত্র ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করার ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে যাচ্ছে (ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২)। এনটিএফএস-এর রিপোর্টের মতে, প্রতিবছর ৫.৭ মিলিয়ন লোক কোন না কোনভাবে পঙ্গু হচ্ছে শুধুমাত্র ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে। icddr,b এর সূত্রমতে প্রতিবছর ৩৮৫০ জন শিশু শুধু ডায়রিয়ার কারণেই মারা যাচ্ছে।

এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন, ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিটি লেভেলের সিস্টেমের পরির্বতন করা। এ জন্য প্রথমে ব্যক্তিকে বুঝতে হবে এর ক্ষতিকর দিকটি। দ্বিতীয়ত এসব পণ্যেও প্রচার ও প্রসারকারীগণকে এর গুণগতমান সত্যিকার অর্থে কোন পর্যায়ের তা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞাপন প্রচারে রাজি হওয়া উচিত। এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও হতে হবে সত্। বার বার যারা একই অপরাধ করছে তাদের ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

আইন কিন্তু একটা জড় পদার্থ। আইনের সুফল হবে না কি কুফল হবে তা নির্ভর করে যিনি আইন প্রয়োগ করবেন তার উপর। তিনি যদি সত্ , দক্ষ এবং স্বচ্ছ না হন তাহলে মানুষ এর দ্বারা কুফলও পেতে পারে। সুতরাং, যাদেরকে এরকম মর্মস্পর্শী অভিযানের দায়িত্ব দেয়া হবে তাদের সত্, স্বচ্ছ এবং দক্ষ হওয়া দরকার। এবং তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা, আচরণ এবং কাজের মান দেখে নির্বাচন করা উচিত।

উন্নত দেশে কোন ওষুধের দোকান দিতে হলে, গোয়েন্দা সংস্থা তার তিন পুরুষ যাচাই করে দেখে। দেশে ওষুধে ভেজাল পরীক্ষা করার জন্য যে ড্রাগ-ল্যাবরেটরী তৈরি করা হয়েছে সেখানেই সব রাসায়নিক মিশ্রণ পরীক্ষা করা সম্ভব। সরকারের নতুন করে কোন অর্থ ব্যয় করতে হবে না। শুধু এর সঙ্গে খাদ্যকে একত্র করে সিদ্ধান্ত নিলেই এটা সম্ভব। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ''Food and Drug Administration'' একত্রে কাজ করে, কোথাও আলাদা নেই।

আইনের বিষয়ে অজ্ঞ থাকলে সেটা কোন অজুহাত হতে পারে না। ভোক্তাকে তার অধিকার জানতে হবে। ভোক্তা হিসেবে আপনার যদি কোন অধিকার থেকে থাকে, তাহলে আজই সচেতন হোন। বেঁচে থাকার স্বার্থেই এখন তা জরুরি হয়ে পড়েছে। নয়তো আগামী প্রজন্ম নিমজ্জিত হবে গভীর অন্ধকারে। আর দেশের উন্নয়ন, সে হবে এক কঠিন কাজ।

লেখক : মাস্টার্স শিক্ষার্থী,

লোক প্রশাসন বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৩
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :