The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ০১ পৌষ ১৪২০, ১১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের ভর্তি লটারি ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর | জয়পুরহাটে সংঘর্ষে নিহত ৩ | ভোট হচ্ছে ১৪৬ আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮৭ জন | সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা | নির্বাচন নিয়ে তামাশা নজীরবিহীন : কাজী জাফর | ব্যারিস্টার আনিসুলের বাড়িতে ককটেল হামলা | ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পাল্টা আঘাত : হানিফ | বিএনপি আসলে এপ্রিলে নির্বাচন : আনন্দবাজার পত্রিকা | সিলেটের কানাইঘটে যুবলীগ নেতা খুন | মিরপুরে পুলিশ খুন, স্ত্রী গ্রেফতার | লালমনিরহাটে সংঘর্ষে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ নিহত ৪

আ ন্ত র্জা তি ক

থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিরতা :একটি বিশ্লেষণ

ড. দেলোয়ার হোসেন

গত মাস থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এই অস্থিরতার উপর একটি বিশ্লেষণ দাবি রাখে। ১৭৮২ সালে রাজা রামা এক -এর শাসনে শুরু হয় শ্যামদেশ নামে পরিস্থিতির মাধ্যমে আধুনিক থাইল্যান্ডের যাত্রা। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে শ্যামদেশ থেকে থাইল্যান্ড যার অর্থ মুক্তভূমি এই নাম ধারণ করে দেশটা চলেছে। সবসময় রাজতন্ত্র কিংবা সামরিক শাসিত হলেও ১৯৭৩ সালে স্বল্প সময়ের জন্য বেসামরিক শাসন চালু হয়। যা ১৯৭৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটে। আবারও ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসক জেনারেল প্রেইম উর্দি ছেড়ে বেসামরিক সরকারের প্রধান হন এবং ১৯৮৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। এভাবে সামরিক শাসন, নির্বাচিতদের শাসন পালাক্রমে থাইল্যান্ডে চালু থাকতে দেখা যায়। দেশটির নামকরণের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি এখনও কিংডম অব থাইল্যান্ড নামে পরিচিত। মোটা দাগে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশটি মূলত সামরিক বাহিনী কর্তৃক শাসিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নও চোখে পড়ার মতো। সাত কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় সাড়ে চার হাজার মার্কিন ডলার যা দেশটিকে অনেক পূর্বেই এশিয়ার উদীয়মান টাইগার অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করেছিল। দীর্ঘসময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক থাইল্যান্ড প্রতিষ্ঠার পথটি সবসময়ই কন্টকাকীর্ণ ছিল। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিককালে দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা লক্ষ্য করা যায়। যার ফলশ্রুতিতে থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা আন্দোলন কিছুটা মন্থর করলেও বিরোধী শিবিরকে সম্পূর্ণ তুষ্ট করতে পারেনি কিংবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটাতে সক্ষম হচ্ছে না। কারণ,বিরোধীপক্ষের দাবি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইংলাকের পদত্যাগ এই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বল্প মেয়াদে দেশটির রাজনৈতিক সংকটের মূলে একজন ব্যক্তি সামনে চলে আসে, যার নাম থাকসিন সিনাওয়াত্রা। থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২০০১ সালে তার গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল 'নিউ থাই লাভ থাই' নামে নির্বাচনে বিজয়ী হয় এবং থাকসিন জোট সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ২০০৫ সালে থাকসিন দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যাপকভাবে বিজয় অর্জন করে। কিন্তু থাই রাজনীতিতে থাকসিনের আরেকটি পরিচিতি লক্ষ্য করা যায়। সেটি হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং নির্বাচনে কারচুপি। ফলে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের সামনে জনপ্রিয় হলেও দেশটির শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে পড়েন। যে কারণে ২০০৬-৭ সালে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে থাকসিন সরকার একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এই নির্বাচন বিরোধী দল বয়কট করার জন্য অনুষ্ঠিত হতে পারেনি এবং বড় ধরনের শাসনতান্ত্রিক শূন্যতায় থাকসিন রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। এই সময়ে হলুদ শার্ট নামক সরকার বিরোধী আন্দোলনের একটি প্লাটফর্ম তৈরি হয়, অন্যদিকে দেশটি সামরিক বাহিনীর কাছে থাকসিন অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ায় একটি রক্তপাতহীন গণঅভ্যুত্থান হয় ২০০৬ সালে।

অভ্যুত্থানের পরই ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে নতুন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যে নির্বাচনে পিপুলস পাওয়ার পার্টি নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং নির্বাচনে বিজয়ী হয়। এই দলটি থাকসিনেরই অনুসারী বলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে ২০০৮ সালে থাকসিনকে থাইল্যান্ডে নিয়ে আসে এবং দেশের আদালতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়। ফলে বেশিদিন থাইল্যান্ডে অবস্থান করতে পারেননি। তাকে নির্বাসনে যেতেই হয়। থাকসিনকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক মঞ্চ আবর্তিত হচ্ছে এবং থাকসিন সমর্থক রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাচ্যুতি ঘটে বিরোধী দল পিপুল এলাইন্স অব ডেমোক্রেসির নেতা অভিজিতকে প্রধানমন্ত্রী করার মাধ্যমে। আবারও আমরা দেখছি হলুদ শার্ট আন্দোলন বিজয়ী হয় এবং থাকসিনের অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায়ও সাজা হয় এবং ২০১০ সালে থাইল্যান্ড সুপ্রিম কোর্ট তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্থাত্ ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রায় অর্ধেক বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। থাকসিন বিরোধী আইনী প্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় থাকসিন অনুসারীদের দ্বারা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল পিও থাই নতুন করে সংগঠিত হয় এবং লাল শার্ট আন্দোলন শুরু করে। যে আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে প্রধানমন্ত্রী অভিজিতের পদত্যাগ এবং পরবর্তীকালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই নির্বাচনে পিও থাই দল সংখ্যাগরিষ্ঠের মাধ্যমে বিজয় লাভ করে এবং থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা ৪৪ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২০১১ সালে অভিষিক্ত হন। কিন্তু থাকসিন সিনাওয়াত্রার ভূত দেশটির রাজনীতিতে বারবার তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এরকম প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ডের রাজনীতি নতুন করে টালমাটাল হয়েছে। থাইল্যান্ড অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করলেও রাজনৈতিকভাবে বরাবরই চ্যালেঞ্জ এর সম্মুখে পড়ে। দেশটি দীর্ঘ রাজতান্ত্রিক ও সামরিক শাসন থেকে ইতিহাসে গণতান্ত্রিক শাসনে ফিরে আসতে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মজার বিষয় হচ্ছে হলুদ শার্ট এবং লাল শার্ট নামধারী রাজনৈতিক আন্দোলন প্রয়োজনে সহিংসরূপও ধারণ করে তা দেশটিকে রাজনৈতিকভাবে কতটা সাফল্য এনে দিতে পারবে তা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। থাইল্যান্ডের রাজনীতির দিকে তাকালে ৪টি প্রধান শক্তি লক্ষ্য করা যায়। একটি হলো দেশটির সামরিক বাহিনী। যারা দীর্ঘ সময় ১৯৪৭ সাল থেকে দেশটিকে শাসন করে আসছে। বলা হয়ে থাকে গত ৭০ বছরে ১৮টি সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে দেশটিতে। সামরিক শাসন, সামরিক অভ্যুত্থান হলেও দেশটির অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে তাদের একটি ভূমিকা রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো-দেশটির রাজনৈতিক দলসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সীমিত। কারণ রাজনৈতিক সংকট এবং হিসাব নিকাশের মাধ্যমে নতুন নতুন দল আবির্ভূত হয়েছে। তারা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং ক্ষমতায় যায় আবার বিলুপ্তিরও ঘোষণা দেয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায় যে কারণে আমরা প্রায়ই সাময়িকভাবে তীব্র আন্দোলন লক্ষ্য করি। যা দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারছে না।

তৃতীয়টি হলো শাসনতান্ত্রিক আদালত নামে থাইল্যান্ডে একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠান দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। রাজনৈতিক দল থেকে নিষিদ্ধ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর বিচারসহ সাম্প্রতিককালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চতুর্থত অর্থাত্ পরিশেষে বলা যায় থাইল্যান্ডের রাজা যিনি রাষ্ট্রপ্রধান এবং দেশটির শত শত বছরের রাজতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ধারক তারও একটি প্রভাবশালী ভূমিকা রয়েছে। দেশটির বড় বড় রাজনৈতিক সংকটে রাজার ভূমিকা বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ বহন করে। বর্তমান রাজা ভূমিবল দেশটির সাম্প্রতিক সংকটের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে এই চারটি পক্ষ থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে থাকে। থাইল্যান্ডের বর্তমান সংকটের পেছনে ইংলাক সরকারের একটি সিদ্ধান্তকে অনেকে দায়ী করেন। যা হলো থাইল্যান্ডের দেশটির পার্লামেন্টে এমনিস্টি বিল নামে অর্থাত্ দায়মুক্তি বিল নামে একটি বিল পাসের পর থেকে। বিরোধী দল এবং জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে এই বিলটির মাধ্যমে ইংলাক তার ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দায়মুক্তি দেয়া। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে থাকসিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা এবং শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ফলে এই বিলটি সরাসরি থাকসিনকে রাজনৈতিকভাবে থাইল্যান্ডে পুনর্বাসিত করার প্রচেষ্টা দেখা হয়ে থাকে। এই বিষয়টি বিরোধী দল এবং থাকসিন বিরোধী পক্ষগুলোকে তীব্র আন্দোলনে ধাবিত করেছে। প্রকৃত প্রস্তাবে এটি একটি ট্রিগার হিসাবে দেখা যেতে পারে। থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে আজকের রাজনীতির সংকট, অস্থিরতা এবং সহিংসতা। ২০০১ সাল থেকে থাই রাজনীতিতে যে সমস্ত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তা দেশটির বহুকালের রাজনৈতিক ও সামরিক শাসনের লেগেসি হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সূচনা না হলে এ ধরনের সংকট বারবার রাজনীতিকে অস্থির করবে, মানুষের জীবনকে বিপন্ন করবে। যা এশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

লেখক : অধ্যাপক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৮
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :