The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ০১ পৌষ ১৪২০, ১১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের ভর্তি লটারি ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর | জয়পুরহাটে সংঘর্ষে নিহত ৩ | ভোট হচ্ছে ১৪৬ আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮৭ জন | সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা | নির্বাচন নিয়ে তামাশা নজীরবিহীন : কাজী জাফর | ব্যারিস্টার আনিসুলের বাড়িতে ককটেল হামলা | ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পাল্টা আঘাত : হানিফ | বিএনপি আসলে এপ্রিলে নির্বাচন : আনন্দবাজার পত্রিকা | সিলেটের কানাইঘটে যুবলীগ নেতা খুন | মিরপুরে পুলিশ খুন, স্ত্রী গ্রেফতার | লালমনিরহাটে সংঘর্ষে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ নিহত ৪

প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখতে হবে

আফতাব চৌধুরী

বিশ্ব আজ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার। এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্যাপার। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যে পরিবেশ সংক্রান্ত ব্যাপারে আক্রান্ত নয়। তবে ধনী ও উন্নত দেশগুলোর চেয়ে দরিদ্র দেশ ও জাতি এতে বেশি বিপর্যস্ত। এটা কোন রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে বর্তমানে আবদ্ধ নয়। এর প্রতিক্রিয়া বিশ্বজোড়া। এর সমাধানেও বিশ্বের সকল দেশ ও মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানত মাটি, বায়ু, পানি, বৃক্ষ এ নিয়েই পরিবেশ। অবশ্য আমাদের বাড়ি-ঘর আশপাশ এ থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এটাও ঠিক। পরিবেশ সৃষ্টি করে বায়ু, গাছপালা, পানি তথা অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণ। পরিবেশের এ উপকরণগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার ও দূষণের শিকার হয়েই পরিবেশ হচ্ছে দূষিত, আবহাওয়া হচ্ছে বিনষ্ট। বর্তমান বিশ্বে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির প্রধান কারণই হচ্ছে বিপর্যস্ত পরিবেশ। ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশের উপাদানগুলোর যথেচ্ছ, অপরিকল্পিত ও ব্যাপক ব্যবহার, শিল্পায়ন, যন্ত্রযানের ব্যবহার, পারমাণবিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কৃষি ও অন্যান্য প্রয়োজনে মাটিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার, বাঁধ নির্মাণ ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বৃক্ষ নিধন ও বনাঞ্চল উজাড় ইত্যাদি পরিবেশের মৌল উপাদানগুলোর উপর যে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া বিস্তার করেছে তার ফলেই দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রকমের সমস্যা। একটু লক্ষ্য করলেই প্রতীয়মান হবে, মাটির প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বায়ু দূষণের ফলে বায়ুমন্ডল ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে এবং বায়ুর ওজন স্তরে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে বৃক্ষ নিধন ও বনভূমি উজাড়ের ফলে ঋতুচক্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পানির অভাবে মরুকরণ ও লবণাক্ততা বিস্তার লাভ করছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলেই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প প্রভৃতি ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ, গাছপালা, জীবজন্তুর মধ্যে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির প্রকোপ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় মানুষ পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশংকায় উদ্বিগ্ন ছিল, আজ পরিবেশ বিপর্যয়েও তেমনি মানবজাতি উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে অবশ্য এ ব্যাপারে বেশ তোড়-জোড় শুরু হয়েছে—অনুষ্ঠিত হচ্ছে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের সব দেশেই সংঘ, সমিতি গঠিত হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রকৃতির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা চলছে। এটাকে একটা আন্তর্জাতিক আন্দোলনে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পরিবেশ সংক্রান্ত নানা কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। এসব উদ্যোগ ও প্রয়াস কিছুটা হলেও সকলের মনে আশার সঞ্চার করেছে।

আমাদের দেশ বাংলাদেশ। বহু কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এদেশ। এদেশে দারিদ্র্য, জনসংখ্যার চাপে ব্যাপক বৃক্ষ নিধন, ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সর্বোপরি সাধারণ মানুষের মনে সচেতনতা না থাকায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এরপর রয়েছে নদীর উজান দিকে বিভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর প্রভাব। এসব বাঁধের প্রভাবে ক্ষুদ্রাকার আমাদের এদেশের গোটা একটা অঞ্চল আজ মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন। ইতিমধ্যেই গোটা অঞ্চলজুড়ে মরুকরণ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় পানির অভাবে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রাণীকুলকে এবং নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষার্থে যে পানির প্রয়োজন তা আজকেই অনেক জাতের পশু-পাখির বিলুপ্তি ঘটছে। মোদ্দাকথা বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবেশে যে ভারসাম্যতার লক্ষণ সুস্পষ্ট হয়েছে, তাতে আমাদের চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে। অবিলম্বে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরো বেশি তত্পর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আমাদের দেশে যেভাবে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে, বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ যেভাবে নিধন করা হচ্ছে প্রকৃতি সে স্বেচ্ছাচারিতা কতদিন সইবে তা প্রকৃতিই ভাল বলতে পারে। তবে এটা ঠিক আমরা সচেতনতার সঙ্গে এগিয়ে না আসলে আমাদেরকে মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন হতেই হবে।

আমাদের উচিত যেখানেই সম্ভব বৃক্ষচারা রোপণ করে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে বনাঞ্চল সৃষ্টি করতে হবে। পুকুর, জলাশয়, নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট না-করে তা সংস্কারের মাধ্যমে পরিবেশ সুস্থ সবল রাখার প্রয়াস চালাতে হবে। সরকারের একার পক্ষে এ কাজ করে সফলতা অর্জন কঠিন। আমরা যে যে অবস্থানে থাকি না কেন আমাদের দায়িত্ব নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে দেশ আমাদের একটাই, আমাদের আর যাওয়ার জায়গা নেই—তাই এদেশকেই ভালবাসতে হবে। টিকে থাকার জন্য প্রকৃতিতে ও পরিবেশকে সবল, সুস্থ ও সুন্দর রাখতে হবে, না হয় একদিন আসবে যেদিন হয়ত দেশের অস্তিত্বই থাকবে না, তখন আমরা কোথায় যাব? আমাদের ভবিষ্যত্ বংশধরেরা কি আমাদের অভিশাপ দিবে না?

লেখক:সাংবাদিক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২০
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :