The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ০১ পৌষ ১৪২০, ১১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের ভর্তি লটারি ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর | জয়পুরহাটে সংঘর্ষে নিহত ৩ | ভোট হচ্ছে ১৪৬ আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮৭ জন | সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা | নির্বাচন নিয়ে তামাশা নজীরবিহীন : কাজী জাফর | ব্যারিস্টার আনিসুলের বাড়িতে ককটেল হামলা | ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পাল্টা আঘাত : হানিফ | বিএনপি আসলে এপ্রিলে নির্বাচন : আনন্দবাজার পত্রিকা | সিলেটের কানাইঘটে যুবলীগ নেতা খুন | মিরপুরে পুলিশ খুন, স্ত্রী গ্রেফতার | লালমনিরহাটে সংঘর্ষে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ নিহত ৪

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় কারো ফোনে কাজ হবে না :প্রধানমন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সব রায় কার্যকরে তার সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, এক যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করা হয়েছে। বাকিদের রায়ও একের পর এক কার্যকর করা হবে। আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। ক্ষমতা আমার ভোগের বস্তু নয়। তাই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় কারো ফোনে কাজ হবে না। আমরা জনগণের স্বার্থ দেখবো, মানুষের কল্যাণে যা সত্য ও ন্যয় সেটাই করবো। আন্দোলনের নামে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মানুষের জীবন নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। আমরা অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। জামায়াত ছাড়া নির্বাচনে না আসতে চাইলে আসবেন না। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারবেন, ধ্বংসযজ্ঞ চালাবেন, আর আমরা বসে বসে সবকিছু সহ্য করবো, তা হবে না। আন্দোলনের নামে আপনাদের সহিংসতার জবাব কীভাবে দিতে হয়, দমন করতে হয় তা আমাদের ভাল করেই জানা আছে। আপনারা একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেই যুদ্ধে কীভাবে বিজয়ী হতে হয় তাও দেশের জনগণ জানে। একাত্তরের মতো এ যুদ্ধেও দেশের জনগণই বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ।

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এ বছরের ১৪ ডিসেম্বরের আগে কমপক্ষে একজন যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করা। জনগণের সহযোগিতার কারণেই আমরা সেই রায় কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের আত্মার শান্তি ও দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে একের পর এক রায়ও এভাবে কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিরোধী দলীয় নেত্রী মানুষের জীবন নিয়ে খেলছেন। জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়ে উনি (খালেদা জিয়া) অনেক কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামায়াতের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জামায়াত নির্বাচন করতে পারবে না, এ কারণেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসছেন না। এছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনাদের প্রিয়ভাজন জেনারেল নিয়াজী, রাও ফরমান আলী, টিক্কা খানরা যেমন এদেশের জনগণের কাছে টিকতে পারেনি, তেমনি উনারাও পারবেন না।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ভূমি ও ত্রাণমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শিল্প ও গণপূর্ত মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের পুত্র দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

দেশের বিভিন্নস্থানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একাধিক প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সমঝোতা করে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। যেখানে জনগণ যাকে পছন্দ তাকেই নির্বাচিত করবে। সর্বদলীয় সরকারে থাকা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে আমরা আসন নিয়ে সমঝোতা করেছি বলেই অনেক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। বিএনপি সর্বদলীয় সরকার ও নির্বাচনে আসলে তাদের সঙ্গেও এমন সমঝোতা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ আমরা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে যেতে চাই।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী আমাদের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে আন্দোলনের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছেন। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। কারণ তিনি এখনও তাদের পুরনো প্রভু পাকিস্তানকে ভুলতে পারছেন না। কিন্তু পাকিস্তানেও এখন গণতান্ত্রিক পন্থায় সবকিছু চলছে। অথচ নির্বাচনে না এসে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতাও তিনি কেড়ে নিতে চাইছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তা পারবেন না।

আমির হোসেন আমু বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেই একাত্তরের ন্যায় সারাদেশে বর্বরতা চালাচ্ছেন। তাদের নারকীয় তান্ডব একাত্তরের গণহত্যাকে মনে করিয়ে দেয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। উচ্চ আদালত যে ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে সে ব্যবস্থা টেনে আনার জন্য তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।

বেগম মতিয়া চৌধুরী গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে বলেন, '৭৫ সালের ১৬ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বলেছিলেন, আপনি পরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের অনুরোধ করুন মোশতাক সরকারকে যেন স্বীকৃতি না দেন। উনি এক মিনিটেই তা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এক মিনিটেই নির্বাচনে যাওয়ার আবার না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পুত্র সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর বলেন, আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমাদের অন্যমাত্রা এনে দিয়েছে। সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ৪২ বছর পর হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। জাতির কলঙ্ক মোচন করেছেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :