The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ০১ পৌষ ১৪২০, ১১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের ভর্তি লটারি ২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর | জয়পুরহাটে সংঘর্ষে নিহত ৩ | ভোট হচ্ছে ১৪৬ আসনে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮৭ জন | সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা | নির্বাচন নিয়ে তামাশা নজীরবিহীন : কাজী জাফর | ব্যারিস্টার আনিসুলের বাড়িতে ককটেল হামলা | ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে পাল্টা আঘাত : হানিফ | বিএনপি আসলে এপ্রিলে নির্বাচন : আনন্দবাজার পত্রিকা | সিলেটের কানাইঘটে যুবলীগ নেতা খুন | মিরপুরে পুলিশ খুন, স্ত্রী গ্রেফতার | লালমনিরহাটে সংঘর্ষে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ নিহত ৪

নারী ও শিশুদের রক্তস্বল্পতা লইয়া উদ্বেগ

জাতীয় অণুপুষ্টি-উপাদান (মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট) জরিপে দেখা গিয়াছে যে, ২৩ শতাংশ নারী রক্তস্বল্পতায় ভুগিতেছে। পাঁচ বত্সরের কমবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। তদূর্ধ্ব বয়সী শিশুদের মধ্যেও রক্তস্বল্পতার হার উপেক্ষা করিবার মতো নহে। জাতীয় পুষ্টি সেবা কর্মসূচির ব্যবস্থাপক বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে অভিহিত করিয়াছেন। ইহাতে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নাই। তবে বিষয়টি উদ্বেগজনক হইলেও অপ্রত্যাশিত নহে। কারণ দারিদ্র্যকবলিত দেশগুলির ইহা এক অবিচ্ছেদ্য চিত্র। যেইখানে ক্ষুধা আছে, দারিদ্র্য আছে— সেইখানে অপুষ্টিজনিত সমস্যা থাকিবে না তাহা ভাবা যায় না। জরিপেও তাহার সুস্পষ্ট প্রতিফলন রহিয়াছে। দেখা গিয়াছে যে, নারী-শিশু নির্বিশেষে রক্তস্বল্পতার হার শহরের তুলনায় গ্রামে অধিক। আবার শহরেও বস্তিবাসী শিশুদের অবস্থাই বেশি শোচনীয়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নারী ও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর রক্তস্বল্পতার প্রভাব বিপজ্জনক শুধু নহে, সুদূরপ্রসারীও বটে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত অক্টোবরে প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হইয়াছিল যে, বাংলাদেশে খর্বকায় শিশুর সংখ্যা ৪০ শতাংশের উপরে— যাহা খুবই উদ্বেগজনক। ইহার মূলেও রহিয়াছে অপুষ্টিজনিত সমস্যা।

তবে এইসব তথ্যদৃষ্টে হতাশ হইবার কিছু নাই। বরং আমরা কোথায় ছিলাম— কোথায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি তাহা ভাবিলে বিস্মিত হইতে হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতির অনেক বাস্তব উদাহরণ আমাদের চোখের সম্মুখেই রহিয়াছে। ইউনিসেফের ২০১২ সনের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাংলাদেশে পাঁচ বত্সরের কমবয়সী শিশুমৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ হরাস পাইয়াছে। ১৯৯০ সনে যেইখানে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর হার ছিল ১৩৯, দুই দশকের ব্যবধানে ২০১১ সনে তাহা মাত্র ৪৬-এ নামিয়া আসিয়াছে। সর্বোপরি, এই সময়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হরাস পাইয়াছে দারিদ্র্য। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনেও প্রশংসনীয় সাফল্য দেখাইয়াছে বাংলাদেশ। এমডিজির ৩৪টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতিমধ্যে ২০টি অর্জিত হইয়াছে অথবা হওয়ার পথে। তাহা সত্ত্বেও এই উদ্বেগজনক তথ্যটি বিস্মৃত হইলে চলিবে না যে, এখনও প্রায় ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে রহিয়া গিয়াছে— যাহা আমাদের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। দারিদ্র্য বিষয়ে কবিরা যতো স্তুতিবাক্যই রচনা করুন না কেন— রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে ইহার নেতিবাচক অভিঘাত অলঙ্ঘনীয়ই বলা চলে। অপুষ্টির মতো জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যাগুলিকেও বিচ্ছিন্ন করিয়া দেখিবার কোনো অবকাশ নাই। যদিও ইউনিসেফের প্রতিবেদনে ইহা প্রতিভাত হইয়াছে যে, জোরালো সংকল্প ও সদিচ্ছা থাকিলে অন্তত শিশুমৃত্যু হরাসের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অবস্থা বাধা হইয়া দাঁড়াইতে পারে না। কথাটি অপুষ্টি দূরীকরণের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হইতে পারে।

অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দারিদ্র্যই একমাত্র বাধা নহে। এই ক্ষেত্রে অজ্ঞতা বা অসচেতনতাও যে একটি বড়ো বাধা তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতাটি হইল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগহীনতা ও উদাসীনতা। অতএব, এই লড়াইয়ে জয়ী হইতে হইলে ত্রিমুখী উদ্যোগ অপরিহার্য। প্রথমত, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী লড়াই অব্যাহত রাখিতে হইবে। দ্বিতীয়ত, বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করিতে হইবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর। তৃতীয়ত, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করিয়া তুলিতে হইবে। সেইসাথে বাড়াইতে হইবে নজরদারি। রাতারাতি দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নহে। তবে অপুষ্টিকবলিত ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা অবশ্যই সম্ভব। ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচি ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে অভাবনীয় সুফল পাওয়া গিয়াছে। এই ক্ষেত্রেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাইতে হইবে। রক্তস্বল্পতা কেন হয় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে তাহা প্রতিরোধ করা যায় ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীকে অব্যাহতভাবে তাহা অবহিত করিবার পাশাপাশি বিনামূল্যে আয়রন ফলিক অ্যাসিড বড়িসহ প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহের মাধ্যমে রক্তস্বল্পতার সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব বলিয়া আমরা মনে করি। প্রয়োজন শুধু জোরালো সংকল্প এবং সদিচ্ছা।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'নাটক করার জন্যই আওয়ামী লীগ সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২০
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :