The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২ পৌষ ১৪১৯, ২ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষ

আমাদের অদূরদর্শী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো

আরিফ জেবতিক

একালের তরুণদের আড্ডার নতুন জায়গা আর শুধু পাড়ার মোড় নয়, বরং এখন আড্ডার জায়গা ইন্টারনেটের জগত; বিচরণ এখন আন্তর্জাতিক। ভাববিনিময়ের ওই বৈশ্বিক মাঠ তাদের যতটুকু উদার, যতটুকু সহনশীল করে তোলার কথা, সেটুকু তারা হয়েছে কি না, তা আমি আগ্রহের সঙ্গে লক্ষ করি। তাদের আগ্রহের জায়গায় খেলাধুলা, বিনোদন, প্রযুক্তি—সবই আছে, কিন্তু একটি বড় অংশের তরুণদের মাঝে যেটি নেই, সেটি হচ্ছে রাজনৈতিক সচেতনতা। ফেসবুকে, বিশেষ করে টিনএজ তরুণদের বড় একটি অংশ তাদের পরিচয়ে রাজনৈতিক বিশ্বাসের জায়গায় লিখে রেখেছে, 'হেট পলিটিক্স'—রাজনীতিকে ঘৃণা করি। এই লেখাগুলো দেখলে আমি বেদনায় নীল হই, কষ্ট পাই।

আমাদের আগের প্রজন্ম, যাঁরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই এখন জীবনসায়াহ্নে। সময় এসেছে এই স্বাধীন বাংলাদেশের মশালকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে হস্তান্তর করে যাওয়ার। কিন্তু আজকের রাজনীতি যে জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, সেখানে সাধারণ তরুণেরা এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে শুধু অস্বীকারই করছে না, তারা ঘৃণা করছে। এর চেয়ে বড় হতাশার আর কী হতে পারে?

পিছু ফিরে দেখলে আমরা দেখব, মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী যে আশাবাদ নিয়ে এ দেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আমাদের রাজনীতি সেই আশাকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ হয়তো, আমাদের দেশে তখন পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো গড়ে উঠতে পারেনি। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা একটি বিশাল ঘটনা। এর আগে কখনোই এখানে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানের আশরাফ ব্যক্তিদের ক্লাব হিসেবে মুসলিম লীগের অবস্থান এই ভূ-খণ্ডে একচেটিয়া ছিল। এর বিপরীতে আতরাফ বাঙালির রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে চেষ্টা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে শুরু হয়, তার শুরুটা মসৃণ ছিল না। ঠিকভাবে সংগঠন গড়ে ওঠার ন্যূনতম সময় না পাওয়ায় ত্যাগী নেতাদের চেষ্টায় যদিও একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগ আবির্ভূত হয়, কিন্তু শেষপর্যন্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অভাবে স্বাধীনতা-উত্তরকালে তাঁরা রাজনীতিকে সঠিক পথে রাখতে হিমশিম খেয়েছে। বিরোধী দলের শূন্যতায় একাত্তর-পরবর্তী সময়ে তরুণ ছাত্রনেতাদের কয়েকজনের উদ্যোগে যে জাসদের জন্ম, সেই জাসদও রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি।

ঠিক এ জন্যই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতি বারবার হোচট খেয়েছে। ৭৫-পরবর্তীতে সামরিক শাসনের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে বিএনপি। আওয়ামী-বিরোধী অংশের সমর্থনগুলো এই পর্যায়ে এসে জিয়াউর রহমান সাফল্যের সঙ্গে একীভূত করতে পেরেছেন। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে তাঁকে ছাড় দিতে হয়েছে অনেকখানিই। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জিয়া পাইকারি হারে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।

এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও একটি বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে যেটি পরবর্তী দশকগুলোতে অব্যাহত আছে। সেটি হচ্ছে, নতুন পূঁজিপতিদের আবির্ভাব। স্বাধীনতাপূর্ব ২২ কোটিপতি পরিবারের জায়গা নিয়েছে ২২শ কোটিপতি, তারপর সেটি ২২ হাজার কোটিপতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই নতুন পূঁজিপতিরা নিজেদের স্বার্থে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আকস্মিক হত্যাকাণ্ড এবং কয়েক বছর পরে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড একদিকে আওয়ামী লীগ অন্যদিকে আওয়ামী-বিরোধী শিবিরকে একই সঙ্গে নেতৃত্বশূন্য করেছে। এই শূন্যতা পূরণের মতো শক্ত সংগঠন ছিল না বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ। বিএনপির সেই শূন্যতা পূরণ করা হয়তো সম্ভব ছিল জাতীয় পার্টির, কিন্তু এরশাদের চারিত্রিক দুর্বলতা সেই সম্ভাবনাকেও নষ্ট করেছে। সব মিলিয়ে যে শূন্যতা, সেই শূন্যতা পূরণে তাই দু-দলই শুরু করেছে উত্তরাধিকারের রাজনীতি। পারিবারিক উত্তরাধিকারের এই রাজনীতি তাই রাজতন্ত্রেরই একটি গণতান্ত্রিক রূপমাত্র, এখানে প্রকৃত রাজনৈতিক সংগঠনের উন্মেষ, বিকাশ ও স্থায়িত্ব অসম্ভব একটি ব্যাপার।

আর এ কারণেই রাজনীতিকে ঘিরে আজকের অস্থিরতা, অশান্তি, হানাহানি। আমরা এমন এক দুর্ভাগা জাতি, যারা স্বাধীনতালাভের একচল্লিশ বছর পার হওয়ার পরও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করতে পারিনি। এখানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা, বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার কিংবা সংসদীয় সরকারব্যবস্থা—সবকিছুরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে কি না, সেটি নিয়েও মতবিরোধ কাটল না গত কুড়ি বছরে!

এই যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্থিত না হওয়ার সংস্কৃতি, এর গোড়ায় ফিরলে সেই আদি সমস্যাতেই চোখ পড়ে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি গণতান্ত্রিক সরকারের ছদ্মাবরণে আমরা বারবার এসব প্রতিষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করছি। নির্বাচন কমিশনারদের গালি দেওয়া এখনকার বিরোধী দলগুলো নিজেদের দায়িত্ব মনে করে। নির্বাচন কমিশনকে মানতে না চাওয়া, কমিশনকে অবজ্ঞা করা এবং ক্রমাগত তাঁদের পদত্যাগ চাওয়া এখনকার স্বাভাবিক আচার। এর দায় পুরো যে বিরোধী দলের, এমনও নয়। সময় বিশেষে এই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে এমন সব মানুষজনকে নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ ছিল না। ক্ষমতাসীনদের দ্বারা নিযুক্ত এই ব্যক্তিরা নিজেরাই দলবাজদের মতো আচরণ করেছেন।

উত্তরাধিকারের রাজনীতির কারণে এখানে রাজনৈতিক দল একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে না। এখানে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সামনে ভিড় থাকে না, ভিড় হয় দলীয় নেত্রীর কার্যালয়ের সামনে। কারণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতিই এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নেত্রীর ইচ্ছাতেই সব নির্ধারিত হয়। এসব বড় বড় দল যতই গণতন্ত্রের কথা বলুক, তাঁরা নিজেদের দলে ন্যূনতম গণতন্ত্রচর্চা করতে পারে না। বছরের পর বছর এসব দলের কোনো কাউন্সিল হয় না, যদিও বা নিয়ম রক্ষার্থে মাঝে মাঝে কাউন্সিল করতে বাধ্য হয়, কিন্তু সেই কাউন্সিলে কোনো গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। একটা উদাহরণ দিই: বিএনপি কয়েক বছর আগে কাউন্সিল করেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত দল একজন মহাসচিবও নির্বাচন করতে পারেনি। দেশের সবচাইতে বড় বিরোধী দল বছরের পর বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। একটি বড় পদ শূন্য রেখে রাজনীতি চালিয়ে যেতে তাদের বিন্দুমাত্র বাধছে না। কারণ সকলেরই জানা, এসব পদ মূলত অলংকারিক, রাজনীতি এখনও একক ব্যক্তিনির্ভর, যেখানে দ্বিমতপ্রকাশ মানেই বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য হওয়া; স্বাধীন মতামত প্রকাশ মানেই রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ার ভয়।

এ দেশের প্রধান যে প্রতিষ্ঠানকে গড়ে উঠতে দেওয়া হয়নি সেটি হচ্ছে জাতীয় সংসদ। গণতান্ত্রিক কার্যক্রমে সংসদই হওয়ার কথা ছিল সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মাইন্ডসেট হয়ে গেছে, ক্ষমতায় না গেলে সংসদে যাব না। সংসদে না গিয়ে বেতন-ভাতা নিতে, সরকারি কর রেয়াতের সুবিধা নিয়ে দামি গাড়ি কিনতে কিংবা বিদেশভ্রমণের মতো সুযোগগুলো আত্মস্থ করতে কারও বিবেকে বাধে না। যেহেতু বড় দু-দলই একই সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত, তাই এমনকি ক্ষমতাসীন দলও কখনো বিরোধী দলকে সংসদে আসতে বাধ্য করতে আগ্রহ দেখায় না। তাদের যাবতীয় কার্যক্রম হাওয়াই বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের সামনে আহ্বানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু আইন করে বিরোধী দলকে সংসদে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের কোনো সদিচ্ছা আছে বলে মনে হয় না।

আমাদের রাজনীতি দিনে দিনে এই যে কলুষিত হচ্ছে, এর পেছনে তাহলে দায়ী কারা? বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, না কি জামায়াতে ইসলামী? এর দায়দায়িত্ব আসলে আমাদেরই, আমরা মানে আমজনতার। ৭১-পরবর্তী সময়ে রাজনীতির সবচেয়ে ইতিবাচক যে অর্জন নিয়ে আমরা আশাবাদী হতে পারি, সেটি হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ-পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার বিশ্বাস। মানুষ বিশ্বাস করেছে যে পাঁচ বছর যেভাবেই কাটুক না কেন, এরপর ভোট দেওয়ার একটি সুযোগ আসবে। এই সুযোগ কিন্তু কম বড় কথা নয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই সুযোগটিকে আমরা কখনোই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগাইনি। ভোট এখনও মূলত মার্কার বিষয় হয়ে গেছে। ছোট দল কিংবা দলবিহীন মানুষ, যাদের সততা ও দক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ নেই, তারাও নির্বাচনে সুবিধা করতে পারে না। একই ব্যক্তি যখন বড় দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন, তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসেন; কিন্তু ছোট দল কিংবা স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে জামানত রক্ষা করাই মুশকিল হয়ে যায়। এভাবে আমরা ভোটাররাই আসলে মার্কার রাজনীতিকে সমর্থন করে গেছি। এই সুযোগে কলুষিত হয়েছে আমাদের রাজনীতি। যেহেতু মার্কার প্রতি আমাদের অন্ধ সমর্থন, তাই দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা নৈতিকভাবে রাজনীতির অযোগ্য মানুষেরা জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে ভয় পায়নি। সেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এঁরাই দল থেকে মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। আর দলকানা জনগণ চোখ বুঁজে এসব মার্কামারাদের ভোট দিয়ে যাচ্ছে। সচেতনতাজাত জনপ্রতিরোধ নেই বলেই রাজনীতি শুদ্ধ হচ্ছে না।

স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতির দিকে চোখ ফেরালে আরেকটি বড় হতাশার জায়গা হচ্ছে স্থানীয় সরকারের বিকাশকে থামিয়ে রাখার চেষ্টা। স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধোত্তর সংবিধানে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। এখানে শক্তিশালী একমাত্র উদ্যোগ ছিল জাতীয় পার্টির। তারা উপজেলা-ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, যার সুফল পৌঁছেছিল তৃণমূল পর্যায়ে। কিন্তু জাতীয় পার্টির পর বিএনপি ক্ষমতাসীন হয়ে উপজেলা-ব্যবস্থা তুলে নেয়। এখন যদিও আবার উপজেলা-পদ্ধতি ফিরে এসেছে কিন্তু উপজেলার চেয়ারম্যানরা আসলে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ধামাধরা হওয়া ছাড়া আর কোনো কাজেই আসছেন না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া যে গণতন্ত্রের সুফল জনগন পায় না, এই সত্য আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো বোঝে না, এমন নয়; কিন্তু জনগণের অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়ে তাঁরা বিষয়টিকে বাড়তে দেয় না। একই অবস্থা সিটি কর্পোরেশনগুলোতেও। নগর-সরকার একটি সফল মডেল, যেখানে সিটি কর্পোরেশনগুলো নাগরিক সুবিধা-অসুবিধাগুলোর জন্য দায়ী থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সিটি কর্পোরেশনগুলো এ রকম নয়। একজন নগরপিতাকে তাঁর নগরের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অগণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় আমলা-নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ধারা কি চলতেই থাকবে? একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বিশ্ব এখন অনেক গতিশীল। সেখানে ধামাচাপা দিয়ে রাজনীতি চালিয়ে গেলে হয়তো ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা হয়, কিন্তু দেশ এগোতে পারবে না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম 'হেট পলিটিক্স' লিখে রাখলে এবং এর লজ্জা আমাদের স্পর্শ না করলে কিছুই এগিয়ে নেওয়া যাবে না।

এর জন্য প্রয়োজন জনগণের সচেতনতা, প্রয়োজন মিডিয়ার চাপ সৃষ্টি এবং নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। দেশের রাজনীতিকে শুদ্ধ করতে হলে প্রথমেই জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আর একে কার্যকর করার সহজ উপায় হচ্ছে সংসদে একনাগাড়ে ৮৯ দিন অনুপস্থিত থাকার বৈধতা পরিবর্তন করা। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আসা জনপ্রতিনিধিদের হঠকারিতার সুযোগ নেই। তাঁদের সেবা পাওয়া জনমানুষের অধিকার। তাই জাতীয় সংসদে অনুপস্থিতির বৈধতা ২৯ দিনে নামিয়ে আনা উচিত। কেউ যদি একনাগাড়ে ৩০ কার্যদিবসের বেশি অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সেই সংসদ সদস্যের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। একনাগাড়ে ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে সেই সংসদ সদস্যকে পদচ্যুত করার বিধান নিয়ে আসা যেতে পারে।

একই সঙ্গে শক্তিশালী করতে হবে আমাদের নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এসব প্রতিষ্ঠান যত দিন সরকারের মুখাপেক্ষী থাকবে, তত দিন সুস্থ রাজনীতির আশা করা বাতুলতামাত্র। যতদূর সম্ভব ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত বা গ্রামসরকার-ব্যবস্থাকে কার্যকর করাও শুভ উদ্যোগ হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা কিংবা সিটি কর্পোরেশনে শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দিলেই হবে না, সেই জনপ্রতিনিধিদের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। যদি এই কাজগুলো করা যায় তাহলে ধীরে ধীরে এ দেশ থেকেও হত্যা ও ধ্বংসলীলার রাজনীতি অপসৃত হবে। যখন মানুষ আর মানুষের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তখন রাজনীতিও ফিরে আসবে সত্ ও যোগ্য মানুষের হাতে।

মুক্তিযুদ্ধের একচল্লিশ বছর পরও আমরা যদি এসব ব্যবস্থা কায়েম করতে না পারি, তাহলে রাজপথ এখন হায়েনাদের চারণভূমিই রয়ে যাবে। এই হায়েনাদের নিজেদের দলভুক্ত মনে করে হয়তো কোনো কোনো রাজনীতিবিদ তৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, অসুস্থ আর হানাহানির রাজনীতির চর্চা শেষপর্যন্ত নিজেদের জন্যও বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে।

লেখক :অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সিপিবি-বাসদের হরতাল কর্মসূচির প্রতিবাদে ১২টি ইসলামি দলের হরতাল আহ্বান যথার্থ হয়েছে বলে মনে করেন?
5 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
এপ্রিল - ২৪
ফজর৪:১০
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:২২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :