The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২ পৌষ ১৪১৯, ২ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষ

সংঘাত-সহিংসতা ও সংলাপ

শাহ মতিন টিপু

নতুন করে সংলাপের তাগিদ দিলেন রবার্ট ও ব্লেক। রবার্ট ও ব্লেক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত ৮ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় আসেন। ঢাকায় এসে তিনি অবরোধ ও হরতালের বাস্তব অভিজ্ঞতাও লাভ করলেন। যা তাকে ব্যথিত ও মর্মাহত করে। শেষাবধি তিনি তার উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করেন। একজন বিদেশির এই উপলব্ধি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। হরতাল ও অবরোধে সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান। ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, হরতাল দেশের ভাবমূর্তিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আনার চেষ্টাকে ব্যাহত করে। তিনি এই মন্তব্যও করেন যে, বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতা, নিশ্চয়তা ও সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ চায় এবং হরতাল ব্যবসার জন্য বড় ধরনের সমস্যা। তিনি বলেন, গরিব মানুষ, যারা দিন আনে দিন খায়- তাদের জন্য হরতাল চরম ক্ষতিকর। "তাই আমি মনে করি, উভয় দলেরই হরতাল এড়িয়ে চলা উচিত এবং শান্তিপূর্ণভাবে মতবিরোধ দূর করা প্রয়োজন। সংসদেই আলোচনার মাধ্যমে সব মতবিরোধ দূর করার চেষ্টা করা জরুরি।" বিরোধী দলের অবরোধের সময় সহিংসতায় তিন জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান তিনি। পুরান ঢাকায় দর্জির দোকানি বিশ্বজিত দাস নিহত হওয়ার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে ব্লেক বলেন, "আপনাদের অনেক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় এক যুবককে পেটাতে পেটাতে মেরে ফেলার ছবি দেখে আমি আঁতকে উঠেছি।"বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শিগগিরই বিচারের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্লেকের এই উপলব্ধিকে আমি যথার্থ বলে মনে করি। কারণ, অবরোধ চলাকালে বিশ্বজিত্ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারার যে দৃশ্য প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় এসেছে তা যে কারোর কাছেই অসহ্য। রবার্ট ও ব্লেক সেই অপকর্মটিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেন এবং হরতাল ও অবরোধে না গিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে চলমান বিতর্ক সংলাপের মাধ্যমে নিরসন করতে আমাদের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি আহ্বান জানালেন। এর আগে ৯ ডিসেম্বর সংলাপের তাগিদ দেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। তিনি সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছেন এবং সে লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের তাগিদ দেন। অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামী নির্বাচন কী পদ্ধতিতে হবে তা বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে। জাতিসংঘ চায় সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ। নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ দূর করতে তিনি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানান।

রবার্ট ও ব্লেকের কণ্ঠেও সেই একই প্রতিধ্বনি। রবার্ট ও ব্লেক বলেন, "একটি পদ্ধতি বের করতে দুই দলকেই সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। আমি নিশ্চিত, তারা যে বিষয়ে সম্মত হবে তা আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে।" রবার্ট ও ব্লেকের এই দৃঢ়তা হয়ত অনেকের কাছেই ভালো লেগেছে। আমরা আশাবাদীই হতে চাই। সহিংসতা জ্বালাও-পোড়াও আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা শান্তির কাঙাল। কিন্তু তিনি যে সংলাপে বসার কথা বলেছেন, সে বসাটাতেই তো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আমাদের মনোভাব প্রতিকূলতা কাটাতে পারছে না কিছুতেই।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক এই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একটু খোলামেলা করেই বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আইন সংশোধনের প্রয়োজন মনে করলে তা নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপির সংসদে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বিএনপিকে সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত।

দেশে এখন সংসদীয় গণতন্ত্র চলছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদে যাবেন এবং সেখানে দাবি-দাওয়া নিয়ে জনগণের জন্য লড়বেন। সংসদীয় আচরণের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব লড়াই চালিয়ে যাবেন। যখন কোন কিছুতে কাজ হবে না তখন বলে-কয়ে ঘোষণা দিয়ে সংসদের বাইরে আসবেন-এমনটিই প্রত্যাশিত। অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্যরা আজ সংসদে যাচ্ছেন না, এই লজ্জাকর দিকটি বিদেশিদের চোখেও জীবন্ত। এখনো আমাদের বোধোদয় হওয়া উচিত।

এক-এগারোর অভিশপ্ত ইতিহাস এখনো আমাদের সামনে জীবন্ত। আমাদের প্রধান দুই দলের নেত্রী এখনো চোখ বুজলেই সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি অনায়াসেই দেখতে পাবেন। বিশেষ করে বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রীর উপলব্ধিতে তা আরও বেশি দেদীপ্যমান। কারণ, তার পুত্ররা এখনো তার ক্রোড়ে ফিরে আসতে পারেনি। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য এবং অগণতান্ত্রিক সরকারের জন্য দেশ নেত্রীশূন্য হতে চলেছিল, আজ আবার সে চাওয়া কেনো? আমরা কি গণতান্ত্রিক উপায়ের মধ্যে থেকে নির্বাচনের জন্য বিকল্প কোন পন্থা বের করতে পারি না! আমাদের নীতিবোধে এতো দৈন্যতা কেনো? সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। নির্বাচন হতেই হবে, তা যেমনই হোক —এটাই তো হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনটি যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দর হয় সে প্রচেষ্টাতেই আমাদের উদ্যোগি হওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে পন্থাটি যেনো কোনভাবেই অগণতান্ত্রিক পন্থা না হয়। যে পন্থা কখনো হঠাত্ করে গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, অমন পথে কোনভাবেই যেনো আমরা পা না বাড়িয়ে দেই। সংঘাত ও সহিংসতার বিপজ্জনক পথটিও বদলাতে হবে আমাদের। তাই যে করেই হোক দেশের প্রধান দুটি দলকে সংলাপে বসতেই হবে এবং গণতন্ত্র ব্যাহত না হয় এমন একটি পদ্ধতিতে একমত হতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সিপিবি-বাসদের হরতাল কর্মসূচির প্রতিবাদে ১২টি ইসলামি দলের হরতাল আহ্বান যথার্থ হয়েছে বলে মনে করেন?
5 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২৪
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :