The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২ পৌষ ১৪১৯, ২ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষ

মহান বিজয় দিবস

আজ মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়া ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশ সম্পূর্ণভাবে হানাদারমুক্ত হইয়াছিল। অবসান ঘটিয়াছিল অবরুদ্ধ জনগণের অবর্ণনীয় আতঙ্ক আর রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার। হাজার বত্সরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রাণ ভরিয়া স্বাধীনতা ও মুক্তির আস্বাদ পাইয়াছিল এই জনপদের মানুষ। বিশ্ব মানচিত্রে সগর্বে স্থান করিয়া লইয়াছিল বাংলাদেশ নামের স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশটি। তবে ইহার জন্য কী বিপুল ত্যাগ স্বীকার করিতে হইয়াছিল এই দেশের মানুষকে— সেই ইতিহাসও সর্বজনবিদিত। সঙ্গত কারণেই এই দিনটি একদিকে যেমন বিজয়ের অনির্বচনীয় আনন্দে ও গৌরবে ভাস্বর, অন্যদিকে তেমনি অগণিত স্বজন হারানোর এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির শোকে ও বেদনায় মুুহ্যমান। এই দিনে বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি জাতি তাই তাহার বীর সন্তানদের স্মরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। বিশেষভাবে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে— যাহার জাদুকরি নেতৃত্ব ছাড়া এই বিজয়ের কথা ভাবা যায় না। তবে অনিবার্যভাবে যেই বিষয়টি সবকিছুকে ছাপাইয়া ওঠে তাহা হইল প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির চুলচেরা হিসাব-নিকাশ।

বিজয় অর্জনের পর ৪১ বত্সর অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। একটি রাষ্ট্রের জীবনে ইহা একেবারে কম সময় নহে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে যে, যেইসব আদর্শ, উদ্দেশ্য ও স্বপ্নকে সামনে রাখিয়া অগণিত মানুষ জীবন দিয়াছিল, বিপুল ত্যাগ স্বীকার করিয়াছিল এই দেশের আপামর মানুষ— তাহার কতোখানি অর্জিত হইয়াছে? এই বাংলাদেশই কী চাহিয়াছিলেন তাহারা? রাজনৈতিক হানাহানির বলি বিশ্বজিতের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত এই বিজয় দিবসে ইহার উত্তর কী হইবে— তাহা অনুমান করা কঠিন নহে। আর ইহাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলিয়া হালকা করিয়া দেখিবারও উপায় নাই। কারণ বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া এই অবস্থাই চলিয়া আসিতেছে। গণতন্ত্রের নামে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার দাপট, দলীয়করণ ও দুর্নীতিই যেন আমাদের ললাটলিখন হইয়া দাঁড়াইয়াছে। মুখে সকলেই গণতন্ত্রের কথা বলিলেও কোথাও সহিষ্ণুতার চিহ্নমাত্র নাই। নাই আইনের শাসন ও নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। সংলাপ-সমঝোতা নয়, বরং সংঘাতই হইয়া উঠিয়াছে রাজনীতির প্রধান অবলম্বন। আর এই সংঘাতময় রাজনীতির বলি হইতেছে বিশ্বজিতের মতো নিরীহ সাধারণ মানুষ। এমনকী বারবার সংকটাপন্ন হইয়া পড়িতেছে আমাদের নাজুক গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা। সর্বাপেক্ষা দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হইল, সরকার পরিবর্তন হইলেও অবস্থার পরিবর্তন হইতেছে না। গত চার দশকে গণতন্ত্র লইয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয় নাই। গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারের জন্য অনেক রক্তও ঝরিয়াছে রাজপথে। কিন্তু এখনও যে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টিও নিশ্চিত করা সম্ভব হয় নাই— তাহা আমরা অস্বীকার করিব কিভাবে? আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান তো আরও পরের কথা।

রাজনীতির ক্ষেত্রে বিরাজমান এই হতাশাজনক বাস্তবতা আমাদের যতোই পীড়িত করুক— স্বাধীনতাপরবর্তীকালে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধিত হইয়াছে— তাহাও অস্বীকার করিবার উপায় নাই। বাজেটের আকার, প্রবৃদ্ধির হার, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান, খাদ্য উত্পাদন ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাহা এতোটাই দৃশ্যমান যে, এই বিষয়ে বিশদ বর্ণনা অনাবশ্যক। সামগ্রিক জীবনমানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হইয়াছে এই সময়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাহা প্রতিবেশী দেশগুলিকেও ছাড়াইয়া গিয়াছে। যেই বাংলাদেশকে একদা তলাবিহীন ঝুড়ি বলিয়া পরিহাস করা হইয়াছিল— সেই বাংলাদেশই এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখিতেছে। আর ইহা যে অলীক কল্পনামাত্র নহে— নামিদামি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও তাহা অকপটে স্বীকার করিতেছে। অতএব, আমাদের বিজয় বা স্বাধীনতার স্বপ্ন পুরোপুরি ব্যর্থ হইয়া গিয়াছে তাহা বলা যাইবে না। স্বাধীনতাপরবর্তী গত চার দশকে বাংলাদেশ অনেক আগাইয়া গিয়াছে। সামনে পড়িয়া আছে অফুরন্ত সম্ভাবনার হাতছানি। এই সম্ভাবনার পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করিতে হইলে আমাদের রাজনীতিকেও বদলাইতে হইবে। বাধামুক্ত করিতে হইবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ। নিশ্চিত করিতে হইবে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। আমাদের বীর শহীদেরা যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন— সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে ইহাই যে প্রধান চ্যালেঞ্জ তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সিপিবি-বাসদের হরতাল কর্মসূচির প্রতিবাদে ১২টি ইসলামি দলের হরতাল আহ্বান যথার্থ হয়েছে বলে মনে করেন?
9 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২২
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :