The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, ০২ পৌষ ১৪২০, ১২ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ | পেট্রোল বোমায় আহত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু | আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন : হানিফ | গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে : ফখরুল | পরাজিত শক্তি জাতিকে বিভক্ত করতে তত্পর : তোফায়েল | আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ | সিরিরায় বিমান হামলায় নিহত ২২ | চীনের জিনজিংয়াংয়ে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ১৬

মহান বিজয় দিবস

বত্সর ঘুরিয়া আবার আসিয়াছে ১৬ ডিসেম্বর— মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়া অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়। অবসান ঘটে স্বাধীনতাকামী অবরুদ্ধ জনগণের অবর্ণনীয় রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার। হাজার বত্সরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রাণ ভরিয়া স্বাধীনতা ও মুক্তির আস্বাদ পায় এই জনপদের মানুষ। বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করিয়া নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বহু লক্ষ মানুষের; নারী ও পুরুষের রক্তের অক্ষরে লেখা আমাদের এই অনির্বচনীয় বিজয়ের ইতিহাস। ত্যাগে ও সংগ্রামে সমুজ্জ্বল—সেই রক্তাক্ত ইতিহাস কাহারও অজানা নহে। বিজয়ের এই দিনটি একদিকে যেমন অমলিন আনন্দে ও গৌরবে ভাস্বর, অন্যদিকে তেমনই স্বজনহারা শতসহস্র মানুষ এবং সম্ভ্রমহারা বহু মা-বোনের দুর্বিষহ স্মৃতি ও বেদনায় ভারাক্রান্ত। এই দিনে বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি জাতি তাই তাহার বীর সন্তানদের স্মরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। বিশেষভাবে স্মরণ করে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে— যাহার জাদুকরি নেতৃত্ব ছাড়া এই বিজয়ের কথা ভাবা যায় না। তবে অনিবার্যভাবে যেই বিষয়টি সবকিছুকে ছাপাইয়া উঠে তাহা হইল প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির চুলচেরা হিসাব-নিকাশ।

বিজয় অর্জনের পর ৪২ বত্সর অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। একটি রাষ্ট্রের জীবনে ইহা একেবারে কম সময় নহে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে যে, যেইসব আদর্শ, উদ্দেশ্য ও স্বপ্নকে সামনে রাখিয়া অগণিত মানুষ জীবন দিয়াছিল, বিপুল ত্যাগ স্বীকার করিয়াছিল এই দেশের সর্বস্তরের মানুষ— তাহার কতোখানি অর্জিত হইয়াছে? এই বাংলাদেশই কী চাহিয়াছিলেন তাহারা? রাজনৈতিক সহিংসতার বলি বহু মানুষের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত এই বিজয় দিবসে ইহার উত্তর কী হইবে— তাহা অনুমান করা কঠিন নহে। সহিংসতা ও রক্তপাতের ঘটনাবলীকে হালকা করিয়া দেখিবার উপায় নাই। উদার গণতন্ত্রের রীতি-নীতি যেন বা আজ বিলীন হইতে বসিয়াছে র্যাডিক্যালিজমের মধ্যে। মুখে সকলেই গণতন্ত্রের কথা বলিলেও কোথাও সহিষ্ণুতার চিহ্নমাত্র নাই। নাই আইনের শাসন ও নিয়মতান্ত্রিকতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। সন্ত্রাস- সংঘাতই যেন হইয়া উঠিয়াছে প্রতিবাদ ও দাবি আদায়ের প্রধান অবলম্বন। আর এই সহিংস রাজনীতির বলি হইতেছে নিরীহ সাধারণ মানুষ।

গণতন্ত্র ও মৌলিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বিরাজমান এই হতাশাজনক বাস্তবতা আমাদের যতোই পীড়িত করুক, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেই বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধিত হইয়াছে— তাহাও অস্বীকার করিবার উপায় নাই। সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাহা এতোটাই দৃশ্যমান যে, এই বিষয়ে বিশদ বর্ণনা অনাবশ্যক। সামগ্রিক জীবনমানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হইয়াছে এই সময়ে। যেই বাংলাদেশকে একদা 'তলাবিহীন ঝুড়ি' বলিয়া পরিহাস করা হইয়াছিল— সেই বাংলাদেশই এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখিতেছে। আর ইহা যে অলীক কল্পনামাত্র নহে— নামিদামি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও তাহা অকপটে স্বীকার করিতেছে। অতএব, আমাদের বিজয় বা স্বাধীনতার স্বপ্ন পুরোপুরি ব্যর্থ হইয়া গিয়াছে তাহা বলা যাইবে না। সামনে পড়িয়া আছে অফুরন্ত সম্ভাবনার হাতছানি। এই সম্ভাবনার পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করিতে হইলে নিশ্চিত করিতে হইবে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। আমাদের বীর শহীদেরা যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন— সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে ইহাই যে প্রধান চ্যালেঞ্জ তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম বলেছেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া সুখবর না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২৫
ফজর৪:১৯
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :