The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, ০২ পৌষ ১৪২০, ১২ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ | পেট্রোল বোমায় আহত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু | আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন : হানিফ | গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে : ফখরুল | পরাজিত শক্তি জাতিকে বিভক্ত করতে তত্পর : তোফায়েল | আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ | সিরিরায় বিমান হামলায় নিহত ২২ | চীনের জিনজিংয়াংয়ে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ১৬

আবারো যাবে বেলতলায়!

শিফারুল শেখ

ওলা এজ্জাত। মিসরের এইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ১৮ বছর বয়সী এই মেয়েটিকে গত ২৭ নভেম্বর ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কেবল তাকেই নয়, তার সঙ্গে আরো ২০ জন মেয়েকে একইভাবে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তাদের অপরাধ, বর্তমানের সেনা সমর্থিত সরকারের তথা সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল তারা।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মেয়েদের মধ্যে সাতজন অল্পবয়স্ক। সবচেয়ে ছোট যে তার বয়স ১৫ বছর। অল্প বয়স্ক মেয়েদের জন্য তিন বছরের কারাদণ্ড মওকুফ করা হয়। আর প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড মওকুফ করা হয়। তবে গত শনিবার তাদের সবাইকে বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি দেয়া হয়। তবে বার বার হুঁশিয়ার করা হয় এই বলে যে, এরপর যেন প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে তারা না যায়। আর যেন আইন লঙ্ঘন না করে। কিন্তু এজ্জাত বলেছেন, সেনা সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে আবার তিনি বিক্ষোভে যাবেন। এজ্জাতের কথা শুনে তার বান্ধবীরাও বলেছে তারাও তার সাথে যাবেন। আবার বন্দী করলে বন্দী হবেন। কারাদণ্ড দিলে তা ভোগ করবেন! ন্যাড়া দ্বিতীয়বার বেলতলায় যেতে অস্বীকার করলেও জেদি মেয়েগুলো তা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এজ্জাতের বাবা আলায়া এদ্দিন বলেন, আমার মেয়ের বিরুদ্ধে যখন এই রায় ঘোষণা করা হয় তখন আমি ভেতরে বসে কাঁদছিলাম। মিসরে যা ঘটছে তার বিরুদ্ধে আমার মেয়ের প্রতিবাদকে আমি সমর্থন জানাই। আলেক্সান্দ্রিয়ায় নিজ বাসায় এক সাক্ষাত্কারে এজ্জাত সাংবাদিকদের বলেন, তারা ইতিমধ্যে সরকার বিরোধী আরো বড় প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি বলেন, প্রতিবাদ করা আমাদের অধিকার। আমরা এবারই এটা প্রথম করিনি। এর আগেও করেছি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মেয়েদের বিরুদ্ধে এই মামলা এবং কারাদণ্ড কেবল মিসরের বিচার ব্যবস্থাকেই ভোতা করেনি। এটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, দেশটিতে একটি সমঝোতা দরকার হয়ে পড়েছে। বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে। ব্রাদারহুডের নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে সরকার। কিন্তু এর ফলে দেশটির সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আর এই ক্ষোভ ধীরে ধীরে পুঞ্জিভূত হচ্ছে। এটা যে কেবল মুরসি সমর্থকদের মধ্যেই সৃষ্টি হচ্ছে তা নয়, মানবাধিকার কর্মী এবং সরকারপন্থি জনগণ ও রাজনীতিবিদদের মধ্যেও সরকারের এই পদক্ষেপ ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। হামদিন সাব্বাহি নামের এক রাজনীতিবিদ যিনি আগামী বছরের নির্বাচনে সেনা সমর্থিত সরকারের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেই তিনিও সরকারকে এসবের জন্য ক্ষমা চাইতে বললেন। ২০১১ সালে অভ্যুত্থান ঘটে পুলিশের নির্যাতনে এক ব্যবসায়ীকে মৃত্যুর কারণে। অথচ সেই পুলিশকে দেওয়া হয়েছে মাত্র সাত বছরের কারাদণ্ড। মানবাধিকার কর্মী আমর ইসমাইল বলেন, এটা রাজনৈতিক রায়। আর এই রায়ের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল নেতিবাচক। এমনকি সরকারের মধ্যকার কেউ কেউও এই রায়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিল। যারা মুসলিম ব্রাদারহুডকে ঘৃণা করতো তারাও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখালো। এখন প্রতিবাদ স্কুলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রসিকিউটর এজ্জাতসহ অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন। এজ্জাত নাকি সমুদ্রের কাছের রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করেছিল। কিন্তু এজ্জাত এই অভিযোগ অস্বীকার করে। সে জানায়, তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে পুলিশ মুরসি সমর্থকদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং এর ফলে তারা সহিংস হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয়রাও। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়, আলেক্সান্দ্রিয়ায় নারীরা অস্ত্র বহন করছে। কিন্তু এই অভিযোগকে সমর্থন করার মতো তেমন কোনো আলামত আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি প্রসিকিউটর। এমনকি নারীদের বিরুদ্ধে সম্পদ ধ্বংসেরও অভিযোগ আনা হয়। অথচ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশেষে প্রমাণ হিসেবে একটি ভবনের জানালার ভাঙ্গা কাচের দৃশ্য দেখানো হয়। আর এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল মাত্র ৭ মার্কিন ডলার। সরকারি আইনজীবীরা বারবার বললেন মেয়েরাই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। কিন্তু তারা প্রমাণ হিসেবে একটি মেয়েকেও চিহ্নিত করতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙচুর চালিয়েছে পুরুষ লোকেরা। দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনজীবী আইম্যান আল ডাবি জানান, এসব নারী যাতে আন্দোলনে অংশ নিতে না পারে সেজন্যই এই অবাস্তব রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ ভয় সঞ্চার করতে পারলেও কথা ছিল। কিন্তু সরকার সেটাতো পারছেই না বরং তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আবারো রাস্তায় নামছে। নিরাপত্তার বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটা একটা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদ্দিন জানান, প্রথমে আমরা এই অভিযোগকে তেমন একটা আমলে নিইনি। আমরা মনে করেছিলাম এটা হয়তো একটা কৌতুক। ধারণা ছিল তারা হয়তো কয়েক ঘন্টা পর মুক্ত হবে। কিন্তু পুলিশকে জিজ্ঞাসা করলাম, ঘটনাটি কি? তখন তিনি আমাকে বললেন, এই মেয়েটি খুবই বিপজ্জনক। সে আইন ভঙ্গ করেছে। আলেক্সান্দ্রিয়ায় একটি কারাগারে তাকেসহ অন্যদের রাখা হলো একটি ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত কক্ষে। এজ্জাত জানায়, পুলিশের কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী কিনা। আমরা বলল, হ্যাঁ। তখন পুলিশ কর্মকর্তা জানালেন, আপনারা বুঝতে পারছেন না যে আপনাদের বিরুদ্ধে বড় একটি মামলা আছে। এই মেয়েদের পরবর্তীতে আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে ৫০ কি.মি দূরে নীল ডেল্টা শহরের একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। বিচার সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে এক মাস আটক রাখা হয়। তিনি বলেন, আমরা যখন আদালতে যাই তখন আমরা ভেবেছিলাম আমাদের এক বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কিন্তু যখন শুনলাম ১১ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তখন আমরা মনে বড় ধরনের আঘাত পেলাম। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কথা বলতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ পর আমরা হাসতে শুরু করলাম এবং সবাই অট্টহাসি দিলাম। জনগণের প্রতিক্রিয়া আরো ব্যাপক হয়েছিল যখন তারা পরদিন পত্রিকায় এ মেয়েদের কারাগারে আটকে রাখা ছবি দেখলো।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম বলেছেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া সুখবর না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৮
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :