The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, ০২ পৌষ ১৪২০, ১২ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ | পেট্রোল বোমায় আহত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু | আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন : হানিফ | গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে : ফখরুল | পরাজিত শক্তি জাতিকে বিভক্ত করতে তত্পর : তোফায়েল | আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ | সিরিরায় বিমান হামলায় নিহত ২২ | চীনের জিনজিংয়াংয়ে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ১৬

বিধানসভায় বড় পরাজয়

দুর্নীতির অভিযোগেই ডুবেছে কংগ্রেস

তালেব রানা

আগামী বছরের এপ্রিল-মে'তে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন ছিল খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনে দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ের মতো জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজ্যে সুস্থিত অবস্থানের জানান দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল দলগুলোর। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, লোকসভার নির্বাচনের আগে এসব রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন হলো সেমিফাইনাল পর্ব। এসব বিধানসভার নির্বাচনে দলের জনপ্রিয়তা সহজেই অনুমান করা সম্ভব হবে। আগামী নির্বাচনে কারা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে, কারা ক্ষমতায় আসছে তা এই নির্বাচনের ফল বলে দেবে!

নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে গত ৪ ডিসেম্বর শেষ হয় দিল্লি, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মিজোরাম এবং মধ্য প্রদেশের বিধানসভার নির্বাচন। যার চারটিতে হেরেছে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান দল কংগ্রেস। দীর্ঘ ১৫ বছর পর দিল্লি হাতছাড়া হয়েছে কংগ্রেসের। তবে দিল্লিতে এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থা। বেশি আসন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেলেও সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারা পায়নি। এর কারণ চমক দেখিয়েছে আনকোরা দল আম আদমি পার্টি (এএপি)। এখন তারা বলছে, সরকার গঠন করবে না এবং সরকার গঠনে কাউকে সমর্থনও দেবে না। এ অবস্থায় দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি শাসন অবধারিত হয়ে পড়বে। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার গঠিত না হলে লেফটেন্যান্ট গভর্নর নাজিব জং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করবেন। আর আগামী মে মাসে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে আবার দিল্লি বিধানসভার ভোট হবে। যাহোক, দিল্লি এখন ভারতীয় রাজনীতির আলোচনায় থাকলেও ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যতটা কংগ্রেসের ভরাডুবি। দিল্লি ও রাজস্থানের বিধানসভা ছিল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে। এটি দুটিতে চরমভাবে হেরেছে তারা। অন্যদিকে ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশে আগে থেকেই ক্ষমতায় থাকা বিজেপি বিজয়ী হয়েছে। মিজোরামে জিতেছে কংগ্রেস। তবে জাতীয় রাজনীতিতে রাজ্য হিসেবে মিজোরামের প্রভাব তেমন নেই।

কংগ্রেসের এই ভরাডুবির পর কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। উপমহাদেশের পুরনো রাজনৈতিক দলটি যারা দীর্ঘদিন ভারতের ক্ষমতায় রয়েছে তাদের ভরাডুবি কেন? কারণ হিসেবে সামনে আসছে, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দলীয় কোন্দল ও নারীদের নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা ইস্যু। তবে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি। এ বিষয়টিতে অনেকেই একমত। এছাড়া বড় উদাহরণ তো দিল্লিতে এএপি'র উত্থান। গান্ধীবাদী আন্না হাজারের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন থেকেই এ পার্টির উত্থান। এতোদিন দিল্লিতে বিজেপি আর কংগ্রেসের মধ্যে মুখোমুখি লড়াই হয়ে এসেছে। ভোটাররা এই দুটো দলের বাইরে অন্য কারও দিকে কখনো সমর্থন দেয়নি। কিন্তু এবার ফল ও পরিস্থিতি দুটোই সম্পূর্ণ ভিন্ন। একেবারে আনকোরা দল এএপিকে জনতা ভোট দিয়েছে। এখন স্পষ্ট হয়েছে, গত বছর দিল্লিতে আন্না হাজারের দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলনে কেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছিল। ভারতীয়রা আসলে দুর্নীতিকে আর প্রশ্রয় দিতে চাইছে না। আর এ অবস্থার সুযোগ ভালোভাবেই নিয়েছেন হাজারের ভাবশিষ্য অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

অনেকেই বলছে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) টানা দুই মেয়াদে ভারতের শাসন ক্ষমতায় রয়েছে। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ভালোই বিপাকে পড়ে কংগ্রেস। এর মধ্যে রয়েছে কমনওয়েলথ গেমস, থ্রিজির লাইসেন্স বরাদ্দ ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কয়লার খনি বরাদ্দে দুর্নীতি। এর সঙ্গে ছিল সুশাসনের অভাব। এসব বিষয় সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে হয়তো তারই ফল পেয়েছে দলটি।

কংগ্রেসের এই নাজুক পরিস্থিতিতে, দেশটির ১১ সংসদ সদস্যের ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ফাঁস হয়েছে। এই সংসদ সদস্যদের ঘুষ চাওয়া এবং ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ধারণ করে তা ফাঁস করে দিয়েছে দেশটির সংবাদভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল কোবরা পোস্ট। যদিও এর মধ্যে কংগ্রেসের এমপি ছাড়াও বিজেপি, এআইএডিএমকে, সংযুক্ত জনতা দল ও বহুজন সমাজ পার্টির নেতাও রয়েছেন। এ ঘটনা কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অস্বস্তি আরো বাড়িয়েছে। এদিকে, হঠাত্ করেই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যসভায় দুর্নীতি বিরোধী লোকপাল বিল পেশ করেছে। শুক্রবার হট্টগোলের মধ্যে এই বিল পেশ হলেও সমাজবাদী পার্টি ও বিজেপির আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন পাবে কি-না সে বিষয়ে সংশয় রয়ে গেছে। মহারাষ্ট্রে নিজের গ্রামে আন্না হাজারে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসায় কংগ্রেস তড়িঘড়ি লোকপাল বিল পেশে আগ্রহী হয়েছে।

অনেকেই বলছে, গত দুই বছরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তি বিশেষ করে কংগ্রেসে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। চার রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনের পর তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে কংগ্রেস। সে কারণেই, তড়িঘড়ি করে এই বিল পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছে কংগ্রেস। তবে এখন দেখার বিষয় হলো আগামী পাঁচ মাসে দুর্নীতি দমনে কতটুকু সফল হতে পারে তারা। কতটুকু ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম বলেছেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া সুখবর না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২০
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩১
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :