The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, ০২ পৌষ ১৪২০, ১২ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৫ | পেট্রোল বোমায় আহত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু | আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন : হানিফ | গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জনগণের বিজয় হবে : ফখরুল | পরাজিত শক্তি জাতিকে বিভক্ত করতে তত্পর : তোফায়েল | আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ | সিরিরায় বিমান হামলায় নিহত ২২ | চীনের জিনজিংয়াংয়ে সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ নিহত ১৬

অনন্ত প্রেম

প্রতাপ চন্দ্র

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে শবযাত্রার বহর রাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে ওঠেন হাজারো মানুষ। এমথাথা থেকে কুনুর যাত্রায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় ওই এলাকার অধিবাসীদের। এই কুনুতেই শৈশব কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের

প্রয়োজন যখন অনেক বেশি থাকে তখন কষ্টের মাত্রাটা কত বেশি সে বিষয়টি বড় হয়ে দাঁড়ায় না। ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রয়োজনে মানুষ ভীড়ের মধ্যে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে রাজি। কষ্টভোগ করতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু যদি কষ্টভোগের পর ব্যক্তিগত কোনো লাভ না হয়, তবে লাইনে দাঁড়াতে রাজি হবে কয়জন? আর সেই লাইন যদি হয় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার লম্বা, তবে একজনকেও পাওয়া যাবে এমন কল্পনা করাও সম্ভব? লাইনের পেছনের দিকে দাঁড়িয়ে ছয় কিলোমিটার দূরত্ব আস্তে আস্তে এগোতে হবে অথচ ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি হবে না, এমনটি জানার পর কয়জন অবশিষ্ট থাকবে লাইনে? তাও কেবল একজন মৃত মানুষের মুখ দেখার জন্য?

কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ তা সম্ভব করেছে। দেশটির বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার মৃতদেহটা দেখার জন্য লাখো মানুষ সারি বেঁধে অপেক্ষা করেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তুমুল বৃষ্টি কিংবা গা পোড়ানো রোদ কিছুই তাদের সেই লাইন থেকে সরাতে পারেনি। একজন মানুষের জন্য কতটা ভালোবাসা থাকলে এমন অসীম কষ্ট সহ্য করা যায়? এর একটাই উত্তর- অনন্ত ভালোবাসা! তার প্রতি অনন্ত ভালোবাসা প্রকাশ করতেই সারা পৃথিবী থেকে বিশ্বনেতারাও ছুটে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়।

কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে তাদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। কিন্তু আরো কত মানুষ যে হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন তার অন্ত নেই। কারণ, নেলসন ম্যান্ডেলাকে সমাহিত করার আগেরদিন শনিবার শেষবারের মতো একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক এ সময়ই সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হল, মাদিবাকে দেখতে যারা লাইনের বাইরে আছেন, তারা নতুন করে লাইনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন না। ম্যান্ডেলার প্রতি আপনাদের ভালোবাসার গভীরতা নিয়ে কারো মনে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এভাবে অফুরন্তভাবে মানুষ আসতে থাকলে তার কফিনের ডালা বন্ধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে। অথচ তাকে নিয়ে রওয়ানা দিতে হবে ম্যান্ডেলার গ্রামের বাড়ি কুনুতে। আপনারা নতুন করে কেউ লাইনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা কঠোর হতে বাধ্য হবে।

কিন্তু যাকে দেখার জন্য মানুষ এত উতলা, সেই নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন অহিংসার ধ্বজাধারী। তার মরদেহ দেখতে গিয়ে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটুক এটা জনতা চায়নি। তাই তারা নতুন করে লাইনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেনি। নিরবে চোখের পানি মুছে ফিরে গেছে ঘরে। প্রার্থনা করেছে তার আত্মার শান্তির জন্য। অথচ, তখনও ম্যান্ডেলাকে দেখতে আসার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন ৫০ হাজারের অধিক মানুষ!

সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে একনজর দেখার সুযোগ দিতে নেলসন ম্যান্ডেলার মরদেহ রাখা হয়েছিল দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী প্রিটোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে, যা ইউনিয়ন বিল্ডিংস নামে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যান্ডেলা এ ভবনেই শপথ নিয়েছিলেন। সরকারের মুখপাত্র ফুলমা উইলিয়ামস এক বিবৃতিতে জানান, জনগণের এ ধরনের উপস্থিতি পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে কিনা সন্দেহ। কারো মরদেহ দেখার জন্য মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার নজির সম্ভবত ম্যান্ডেলাই সৃষ্টি করতে পেরেছেন। জীবনেও যেমন তিনি অসংখ্য মানুষকে এক কাতারে আনতে পেরেছিলেন, মরণেও রেখে গেলেন সেই অনন্ত ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। এটি মাদিবার প্রতি প্রবল শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রতীক। কিন্তু এখনও যারা লাইনে যোগ দেয়ার অপেক্ষায় আছেন, আমরা তাদের মাদিবাকে দেখানোর নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। তাই যারা মাদিবাকে দেখতে পাননি, তাদের প্রতি নিজ-নিজ উপায়ে শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান করছি।

এই ভালোবাসার গভীরতা মাপা সম্ভব নয়। কারণ এর কোনো তল নেই। নেলসন ম্যান্ডেলার নিজের গ্রাম কুনুতেও বিরাজ করছিল একই সাথে শোক ও আনন্দের আবহ। কুনু গ্রামের প্রিয় বাসিন্দার মৃত্যুর কারণে শোক ছিল। আর এই গ্রামেই ম্যান্ডেলাকে চিরস্থায়ীভাবে পাওয়ার আনন্দ ছিল। তাই তো তারা নেচে-গেয়ে নিজ ভূমিতে তার 'শেষ ফেরাকে' উদযাপন করে স্থানীয়রা। শনিবার কুনুর সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর এমথাথায় অবতরণ করে ম্যান্ডেলার মরদেহ বহনকারী বিমান। এরপর তার কফিন নিয়ে যাত্রা করা হয় কুনুর উদ্দেশ্যে।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে শবযাত্রার বহর রাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে ওঠেন হাজারো মানুষ। এমথাথা থেকে কুনুর যাত্রায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় ওই এলাকার অধিবাসীদের। এই কুনুতেই শৈশব কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের।

রাষ্ট্রীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন ঘিরে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন তারা। 'আমাদের সংগ্রামের দৃষ্টান্ত। আমাদের জাতির জনক' লেখা ম্যান্ডেলার হাস্যোজ্জ্বল ছবি সংবলিত একটি বিশাল পোস্টার দেখা যায় সেখানে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বলেন, 'পিতা, তোমার পরযাত্রা শুভ হোক, তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করেছ। তুমি কি দেখতে পাচ্ছ, মানুষ তোমাকে কত ভালোবাসে? এত ভালোবাসা নিয়েই তুমি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীর হূদয়ে।'

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম বলেছেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া সুখবর না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হচ্ছে'। আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৯
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :