The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

স্মরণ

বেনিন সাগর তীরে হারিয়ে যাওয়া প্রাণগুলো

ওয়ালিউল্লাহ

শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের ১৫ জন সূর্যসন্তান বাড়ি ফেরার পথে বেনিন তীরে হারিয়ে গিয়েছিল ২০০৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর। দিনটি বড় দিন ছিল, যে দিনটিতে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ঘন উত্সবে মেতেছিল। এমনি একটি দিনে কর্মক্লান্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা ফিরে গেলেন না-ফেরার দেশে। জাতিসংঘ বাহিনীর জন্যে ২৫ ডিসেম্বর একটি শোকাবহ দিন। দুর্ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া এসব কর্মকর্তা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফ্রিকার সিয়েরালিয়ন, লাইবেরিয়াতে শান্তিরক্ষার জন্য তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশগুলোর জনগণের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও কলহ লেগে ছিল। বিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন, যুদ্ধরত অস্ত্রধারীদের অস্ত্র সমর্পণ, যুদ্ধফেরত অস্ত্রধারী ও বেসামরিক ব্যক্তিদের শান্তিপূর্ণ জীবনে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি, ভিটে-মাটি হারানো দুস্থ জনগণের জন্য খাদ্য, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ শান্তিরক্ষী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল। ভেঙে পড়া প্রশাসন যন্ত্র ও অবকাঠামো নির্মাণ এবং একটি সুষ্ঠু-স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করাও এই হারিয়ে যাওয়া সূর্যসন্তানদের অন্যতম কর্তব্য ছিল। বিভেদ ও অনৈক্য, নেতৃত্বসূলভ গুণাবলীর অভাব, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বৈরিতা, সমগ্র আফ্রিকার শান্তিকে বিপন্ন করেছে, শিশুর হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। আবাল বৃদ্ধ বনিতা কেউ রেহাই পায়নি সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে। যে বালকটি স্কুল ছেড়েছে, তার আর ফিরে যাওয়া হয়নি বিদ্যায়তনে, যে পরিবারটি গ্রামছাড়া হয়েছে, তারা আর ফিরে যেতে পারেনি তাদের গ্রামটিতে। লাখো মানুষের আবাসস্থল হয়েছে পরবাসে। বিপন্ন মানবতার তরে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। হূদয় দিয়ে ভালবেসে ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ দেশের জনগণকে সেনা চিকিত্সক দল সেবা দিয়ে মন জয় করেছে। অবকাঠামো নির্মাণে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে সেনা প্রকৌশলী দল। বিদ্যালয়ে ফেরার পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করেছেন সেনাসদস্যরা। সব পদবির কর্মকর্তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করেছেন দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে। দেশটির নিরাপত্তা বিধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের সেনাসদস্যরা। নিজেদের জীবন বিপন্ন করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধ করেছেন। দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় তাঁরা ঝরিয়েছেন ঘাম, রক্ত দিয়েছেন অকাতরে। কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে পেশাগত জীবন যাপন করে অবাক করে দিয়েছেন বহুজাতিক বাহিনীর সহকর্মীদের। ২৫ ডিসেম্বর, এমন এমন একটি দিন যে দিনটিতে শান্তিরক্ষী বাহিনীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে বাংলাদেশের ১৫ জন শান্তিরক্ষীর নাম। সারা বছরের কর্মক্লান্ত দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার দিনটি যে এত বিষাদময় হবে, তা কখনোই লে. কর্নেল সামছুল আরেফিন, মেজর আবদুর রহিম, রওনক আক্তার, ইমতিয়াজ, মোস্তাফিজ, মোশারফ, বাতেন, ক্যাপ্টেন আরিফ, ফরিদ, আলাউদ্দিন, রকিবুল, জাহিদুল, রফিক, মাবুদ ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার শফিকুল ইসলামের পরিবার ভাবতে পারেনি।

যদিও তাঁদের মৃত্যুতে আত্মত্যাগের গাথা রচিত হয়েছে কিন্তু এ মৃত্যু জাতির আত্মোত্সর্গকারী সূর্য সন্তানদের ছিনিয়ে নিয়েছে। শান্তিরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা কর্তব্যপরায়ণতার সর্বোত্কৃষ্ট অবদান রেখে বাংলাদেশের পতাকা হাইতি থেকে পূর্ব তিমুর পর্যন্ত উড্ডীয়ন রেখেছেন। লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিয়নে কর্তব্যরত এই ১৫ জন বীর সেনানি বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ও জাতিসংঘের সাদা-নীল পতাকায় আচ্ছাদিত হয়ে দেশে ফিরেছেন। এ হলো বীরের ইহজগত্ থেকে পরলোকে প্রস্থান। এ দেশের মানুষের সঙ্গে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ এসব সেনানিকে দিয়েছে বীরের মর্যাদা। শান্তিরক্ষী বাহিনীর সব সদস্য এ মহাপ্রয়াণে অনুপ্রাণিত হবেন যুগ যুগ ধরে। প্রতিবছর শোকাভিভূত পরিবারগুলো শোকে মুহ্যমান হলেও আজও গর্ব ভরে স্মরণ করে বেনিনে হারিয়ে যাওয়া বাবা, সন্তান, স্বামী ও ভাইয়ের কথা। এ শোক থেকে উত্সরিত হচ্ছে শক্তি—যা অনাদিকাল ধরে অনুপ্রাণিত করবে সব শান্তিকামী মানুষকে।

লেখক :সাবেক সেনা কর্মকর্তা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
6 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৪
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :