The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১ পৌষ ১৪২০, ২১ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্যালিস | বাগদাদে চার্চের সন্নিকটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৫ | কাল সারাদেশে ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ | রাজধানীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে পুলিশের মৃত্যু | আগুনে প্রাণ গেল আরও দুই পরিবহন শ্রমিকের

খালেদা জিয়ার বক্তব্য মিথ্যাচারে ভরপুর

------ আওয়ামী লীগ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, দেশকে পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতেই বিএনপি নেত্রী আন্দোলন করছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের পক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতেই ধানমন্ডিস্থ সভানেত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

আমির হোসেন আমু দাবি করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ অবাস্তব, অবান্তর ও মিথ্যাচারে ভরপুর। খালেদা জিয়ার প্রতিটি কথাই তার বিরুদ্ধে যায়। পাকিস্তানের নিন্দা না করায় বিরোধী দল নেতা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমির হোসেন আমু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানালেন না, এতে প্রমাণ হলো তিনি পাকিস্তানের প্রতি দুর্বল। তিনি চান বাংলাদেশ পাকিস্তানের মত অকার্যকর রাষ্ট্র হোক। প্রথমদিন থেকে লংমার্চের প্রথম সভা থেকেই বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে। আজকে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য আন্দোলন। আইএসআইয়ের টাকা দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর আন্দোলন করা হচ্ছে এটা আমরা আগে বলেছিলাম। এখন এটা প্রমাণ হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ প্রহসনের নির্বাচন করছে খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আমির হোসেন আমু বলেন, এবার একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন হচ্ছে না। এই নির্বাচনে ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগও কোন নির্বাচনে অংশ না নিলে সেটা প্রহসনের নির্বাচন হবে-এ কথা ঠিক নয়।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য বলেন, দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সম্ভব হবে না। আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, চুরি করে ধরা পড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে বাধ্য হয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

আমির হোসেন আমু বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, খালেদা জিয়া আন্দোলন করছেন আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারার জন্য। শুধু মানুষ মারা যাচ্ছে না। গবাদিপশুও মারা যাচ্ছে। লাখ লাখ গাছ কেটে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া যে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এটা উপলব্ধি করেছেন। এ কারণে এর দায় সরকারের ওপর চাপানোর অনেক অপচেষ্টা করেছেন। এই কাজগুলো যে নিন্দনীয় এটা উপলব্ধি করেছেন, এ জন্য তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করবো, তিনি অবরোধ-হরতাল বন্ধ করবেন।

উনি (খালেদা জিয়া) বলছেন, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন। আসলে তিনি আন্দোলন করছেন তত্ত্বাবধায়কের জন্য। এই তত্ত্বাবধায়কের প্রয়োজনীয়তা কেন হয়েছিল। এ উত্তর তাকে দিতে হবে। যখন জনগণের অধিকার, ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, জনগণের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। এ কারণে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। এই আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা ছিল। আমরা জয়লাভ করার মধ্য দিয়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকার কায়েম হয়েছিল। কারণ উনি এক কোটি ভুয়া ভোটার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে আমরা সে সময় আন্দোলন করেছি। কিন্তু এই সরকারের সময় কেন তত্ত্বাবধায়কের সরকার হবে। এই সরকার তো ভোট কারচুপির কোনো ব্যবস্থা করেনি। ভুয়া ভোটার করেনি। কেন আমরা অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়কের সরকার ব্যবস্থা রাখবো। আমির হোসেন আমু বলেন, বিএনপির সখ্যতা জামায়াতে ইসলামীর সাথে। তাই জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে আসতে পারবে না বলেই খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসেননি।

তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিএনপির প্রতিনিধি চাওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা নাম দেননি।

আমু বলেন, এই সরকারের আমলে যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে সবকয়টি নির্বাচনই হয়েছে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। সেটা তারাও দেখেছেন। আমাদের দীর্ঘদিন ধরে জয়লাভ করা অনেক আসনেই আমরা হেরেছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বিএনপির সময়ের নির্বাচনে ভোট কারচুপি করা হয়েছে। তাদের ভোট চুরির কারণেই বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আওয়ামী লীগের।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নয়। প্রধানমন্ত্রী সত্ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। যেহেতু তিনি আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদায় করেছিলেন, তিনিই এখন আসামির কাঠগড়ায় প্রমাণ করতে চান এই দেশে তার অধীনেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব। যিনি দেশে অনেকগুলো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করেছেন। তিনি আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিক ধারা রক্ষা করেই এগিয়ে যেতে চাইছেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সঙ্কটের সমাধান হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২১
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :