The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৬ পৌষ ১৪২০, ২৬ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শমসের মবিন চৌধুরী আটক | বুধবার সকাল ছয়টা থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক ১৮ দলের | কাল ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বন্ধ | বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী আটক | ২ দিনের রিমান্ডে হাফিজ | বিরোধী দলের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মানুষ হত্যা: প্রধানমন্ত্রী | ছাড়া পেলেন সেলিমা হীরা হালিমা | ৩১ ডিসেম্বর রাতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ : ডিএমপি | রাজশাহীতে ৪৪টি তাজা ককটেল ও সাড়ে ৪ কেজি গানপাউডার উদ্ধার | মোহাম্মদপুরে ২০০ হাতবোমাসহ আটক ৩ | প্রাথমিকে পাস ৯৮.৫৮

রাজনীতি

শান্তিতে থাকতে দিন

মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন

রাজনৈতিক দলসমূহ সম্পূর্ণরূপে সন্ত্রাস নির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে এতোদিনেও দেশের মানুষের কপালে শান্তি জোটেনি। ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন। সম-সাময়িক সন্ত্রাসী কার্যকলাপসমূহের নেতৃত্ব এখন তাদের হাতেই। বিএনপি তাদেরকে নৈতিক সমর্থনসহ কর্মসূচি ইত্যাদি প্রণয়নের মাধ্যমে সহযোগিতা করলেও মানুষ পোড়ানো, গরু পোড়ানো, গাড়ি পোড়ানো, চাল পোড়ানো, ধান পোড়ানো, ছোরা পোড়ানো, গাছকাটা ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র শিবিরের কর্মীরাই অগ্রণী ভূমিকায় আছেন। জামায়াতে ইসলামী আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে না পারলেও তাঁরা তাদের নিজেদের অর্থশক্তি দিয়েই বোমাবাজ, সন্ত্রাসীবাহিনীর মাধ্যমে তাদের দলীয় শক্তি প্রদর্শন করে চলেছেন।

অন্য দু'টি বড় রাজনৈতিক শক্তিও সরাসরি সন্ত্রাসী শ্রেণীকে দলভুক্ত করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে তারা নিজেদের ফান্ড হতে অর্থ ব্যয় না করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে এ কাজটি করে থাকেন। অর্থাত্ তাদের নিজেদের সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে তারা ক্ষমতার অংশীদারিত্ব বন্টন করেন। পালাক্রমে এই দু'টি দল দেশে শাসন করায় বর্তমানে এ কাজটি তাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাস নির্ভরতা হতে তারা বেরিয়ে আসতে পারছেন না। দলীয় পদ-পদবী হতে শুরু করে নির্বাচনের আগে তারা নমিনেশন প্রদানের জন্য সন্ত্রাসী প্রার্থী খুঁজে বেড়ান। হয়তো তার একটা কারণ এই যে, বর্তমান ব্যবস্থায় ভোটের বাজারে সন্ত্রাসীরাই প্রাধান্য পেয়ে থাকেন। আবার উপরোক্ত দল দু'টি ভোটের সময় এক ধরনের নমিনেশন বাণিজ্যও করে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা ধনী ব্যবসায়ী শিল্পপতি ইত্যাদি পয়সাওয়ালা লোক খুঁজে বের করে তাদের হাতেও নমিনেশন পেপার তুলে দেন। এক্ষেত্রে তারা দু'টি স্বার্থ হাসিল করেন। এক. তারা ঐসব ধনাঢ্য ব্যক্তির নিকট হতে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন, আর দ্বিতীয়টি হলো, ঐসব ধনী ব্যক্তি টাকার বস্তা নিয়ে নির্বাচনে নেমে বিজয় ছিনিয়ে আনেন।

এভাবে নির্বাচন সস্পন্ন করে ক্ষমতায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট দলটিকে সন্ত্রাসী এবং ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের হাতে পদ-পদবী বিলি-বন্টন করতে হয় এবং পরিশেষ ফল যা হবার তাই হয়। সন্ত্রাসী শ্রেণীর পদধারীরা ঠিকাদারী ব্যবসা হতে শুরু করে যত প্রকার টেন্ডারবাজি আছে তার কোনটিই বাদ দেন না। একশ্রেণীর উকিল রাজনীতিক নেমে পড়েন তদ্বির বাণিজ্যে। তারা জামিন বাণিজ্য হতে শুরু করে নিয়োগ বদলি ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই রমরমা ব্যবসা শুরু করে দেন। টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দী হয়ে পড়েন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জড়িত সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তারা। একজন এমপির নির্দেশ ছাড়া সড়ক ভবন, এলজিইডি, রেলভবন, ডেসকো, ডেসা, পূর্তবিভাগ ইত্যাদির কর্মকর্তারা নিঃশ্বাসও নিতে পারেন না। সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এমপি মন্ত্রীদের পছন্দমাফিক ঠিকাদারদের মধ্যেই বিলিবন্টন করতে হয়। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ এমপি বা মন্ত্রীই তাদের নিজেদের ফার্মে বা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের ফার্মের নামে কাজ বাগিয়ে নেন। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি বিরাট অংশের অর্থ তাদের পকেটে ঢুকে যায়। এভাবে দেখতে দেখতেই পাঁচ বছর পার হয়ে যায়। আবার নির্বাচন আসে। দেশের মানুষ টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, তদ্বিরবাজ ঐসব নেতার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। ফলে সংশ্লিষ্ট দলটি পড়ে যায় বিপদে। তাদের আরব্ধ কাজের অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যে অবস্থায় দলটি আবারও ক্ষমতায় যাবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু ইতিমধ্যেই দলের অধিকাংশ এমপি মন্ত্রী অচল হয়ে পড়ায় দলটি তখন প্রবাদ গোনে। দলটির মধ্যে ভাল এমপি মন্ত্রী বলতে যা বোঝায় তা হাতে গোনায় পরিণত হওয়ায় বিরোধী শক্তি তার সম্পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করে। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা ইত্যাদি পর্যালোচনা করলে উপরোক্ত সত্যেরই প্রমাণ মেলে। অথচ দল বা জোট ইচ্ছা করলেই একসেট ভাল ব্যক্তিকে নমিনেশন দিতে পারতেন। কারণ তাদের দলে প্রচুর ত্যাগী, ভদ্র, বিনয়ী শিক্ষিত নির্লোভ, নিরহংকারী, সত্ ব্যক্তি আছেন। প্রয়োজন শুধু দলীয় হাইকমান্ডের পছন্দ করেন নির্বাচনী মাঠ দখলের প্রার্থী খোঁজেন চোর গুন্ডা বদমাইশ সন্ত্রাসী টাইপের নেতাকর্মীর কদর করেন তাহলে কোনদিনই ভাল প্রার্থী খুঁজে পাবেন না। আর সেক্ষেত্রে দল একবার ক্ষমতায় গেলে পরেরবারের ভরাডুবিও শুরুতেই নিশ্চিত হয়ে থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল শ্রেণীর দলকেই বলবো সন্ত্রাসী দ্বারা রাজনীতির চিন্তা বাদ দিন। দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'এক এগারোর কুশলিবরা আবার সক্রিয় ও সোচ্চার হয়েছেন।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ৯
ফজর৩:৫৬
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৪
এশা৭:৫৩
সূর্যোদয় - ৫:১৮সূর্যাস্ত - ০৬:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :