The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৬ পৌষ ১৪২০, ২৬ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শমসের মবিন চৌধুরী আটক | বুধবার সকাল ছয়টা থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক ১৮ দলের | কাল ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বন্ধ | বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী আটক | ২ দিনের রিমান্ডে হাফিজ | বিরোধী দলের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মানুষ হত্যা: প্রধানমন্ত্রী | ছাড়া পেলেন সেলিমা হীরা হালিমা | ৩১ ডিসেম্বর রাতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ : ডিএমপি | রাজশাহীতে ৪৪টি তাজা ককটেল ও সাড়ে ৪ কেজি গানপাউডার উদ্ধার | মোহাম্মদপুরে ২০০ হাতবোমাসহ আটক ৩ | প্রাথমিকে পাস ৯৮.৫৮

মন আমার চায় অন্ধ হতে!

মীর আব্দুল আলীম

আগে ভোর হলেই প্রাণভরে দেশটাকে দেখতে মন চাইতো। চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আকাশ দেখতাম, প্রকৃতি দেখতাম। আমার চারপাশটা দেখে দেখে প্রাণ জুড়াতাম। এখন আর সেভাবে মন চায় না। এখন মন আমার চায় অন্ধ হতে। অভিশপ্ত দৃশ্য দেখতে দেখতে দিন দিন আমার চোখটা কেমন যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। তাণ্ডব দেখতে দেখতে আমি ভীত, ক্লান্ত। এমন কেউ কি আছেন আমায় অন্ধ করে দেবেন। কেউ বন্ধ করে দু'টি চোখ আমায় অন্ধ করে দিন না? ওসব বীভত্স লাশ আমি আর দেখতে চাই না। অমন ধ্বংসযজ্ঞ আমি আর দেখতে চাই না। আমি কালা-বধির হয়ে যেতে চাই। যেন জ্বালাও-পোড়াও, বোমা-ককটেল, ভাংচুর আর আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নির্বিচারে গুলির ফট্ ফট্ শব্দ আমার কানে না আসে। লাশপড়া বন্ধ না হলে, এ প্রলয় বন্ধ না হলে, মানুষের বিবেক জাগ্রত না হলে আমি, আমরা, বাঙালিরা সুস্থ থাকবো কেমন করে?

রাজপথে রক্তের গড়াগড়ি, পিচঢালা কালো পথে ভাঙ্গা কাচের ঝলকানি, আর ঝলসে যাওয়া হাজারো মানুষ কাতরাচ্ছে হাসপাতালে বেডে। হাজতখানা-জেলখানাগুলো সাধারণ মানুষে ঠাসা। বাড়িঘরে আটকে থাকা মানুষগুলো এখন প্রায় জিন্দা লাশ! এটা কি আমার দেশ? এটাই কি সেই সোনার বাংলাদেশ? 'সোঁদা মাটির গন্ধ' নেই কেন দেশের বাতাসে! আজকাল রক্তের উটকো গন্ধে কেন দম বন্ধ হয়ে আসে? বীভত্স এসব হতাহতকে দেখে আমাদের চোখ কেন বন্ধ হয়ে যাতে চায়? স্বাভাবিক মৃত্যু কেন আজ অস্বাভাবিক? গোটা দেশটাই রক্তে মাখামাখি। রুটিনমাফিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মানুষ পুড়ে মরা, সড়কপথে দুর্ঘটনা এবং ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ে সারি সারি লাশতো আমাদের আছেই। প্রশ্ন হচ্ছে এদেশে মানুষ মানুষকে কিভাবে পুড়িয়ে মারছে? যেভাবে পাইকারীহারে বোমা মেরে, গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে, পুড়িয়ে ঝলসিয়ে আদম শরীর কাবাব বানানো হচ্ছে, তাতে তো গোটা দেশটাই ওরা কবরস্থান বানিয়েই ছাড়বে। সম্প্রতিকালে লাশের গন্ধ আর স্বজনদের আহাজারিতে দেশের বাতাসে যে করুণ সুর তৈরি হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের চোখ ভিজে যায়। দেশে এভাবে মৃত্যুর মাতম কেন ফিরে আসে বারবার? এইতো চলছে দেশে। এভাবে কি দেশ চলে? এভাবে কি মানুষ বেঁচে থাকতে পারে? আর কতকাল চলবে এভাবে? আর কত মানুষ মরলে এদেশে শান্তি ফিরে আসবে?

দেশে স্বাভাবিক মৃত্যু কেন আজ অস্বাভাবিক? আমরা কেন কোথাও নিরাপদ নই? ঘরেও না; বাইরেও না। রাস্তায় যাবেন? পেট্রোল বোমায় ঝলসে যাবেন, গুলিবিদ্ধ হবেন, ভাঙা কাচের আঘাতে অন্ধ হয়ে যাবেন। নিজ ঘরে থাকবেন খুন হবেন। গুম হবেন ; যেকোনো সময় হুড়মুড় করে আপনার উপরই ভেঙ্গে পড়তে পারে ফ্লাইওভারের গাড কিংবা যান্ত্রিক দানব বাস-ট্রাকে চাপা দিয়ে কেড়ে নিতে পারে আপনার প্রাণ প্রদীপ। কর্মস্থলে থাকবেন? সর্বনাশা আগুনে যে অঙ্গার হবেন না তার নিশ্চয়তা কোথায়?

আমরা প্রতিদিন কী দেখছি? কী শুনছি আমরা? হতভাগ্য বাবার চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ কিংবা ঝলসে যাওয়া ছেলের চিত্কার। এরা তো সবাই রাষ্ট্রের সুনাগরিক? এদের তো বাঁচার অধিকার আছে। এদের বাঁচিয়ে রাখার সরকারের দায় আছে। আছে আইনও। নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দ্বিতীয় অপরিহার্য কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬-৪৭ক অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নাগরিকের অধিকারগুলো বর্ণিত আছে। সেখানে কাউকেই নির্বিচারে মানুষ হত্যার বৈধতা দেওয়া হয়নি। এ হত্যার দায় যেমন বিরোধী দলের, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সরকার দলও এ দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না। যখন হরতাল-অবরোধের নামে জীবন্ত মানুষ পুড়ে ঝলসে যায়, কয়লা হয়, যখন তাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল কেড়ে নেয়া হয়, অসহায় স্বজনের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়; যখন কষ্টার্জিত লাখ লাখ টাকার সম্পদ চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কী করবে রাষ্ট্র? প্রতিটি ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করবে, গ্রেফতার করবে, সর্বোপরি দ্রুত বিচার আইনে অতিদ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন করে সাজা নিশ্চিত করবে। এসব ঘটনায় দ্রুত সাজা দেয়ার ব্যবস্থা করা গেলে এমন সহিংসতা কমবে। যারা হরতাল আহ্বান করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করছে আর পৈশাচিকভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে এসব ঘটনার দায় তো তাদের ওপরই বর্তায়। এ সহিংসতা তো মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য। কিন্তু কেন এসব অপকর্ম চলছে?

লেখক :সাংবাদিক

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'এক এগারোর কুশলিবরা আবার সক্রিয় ও সোচ্চার হয়েছেন।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ৯
ফজর৩:৫৬
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৪
এশা৭:৫৩
সূর্যোদয় - ৫:১৮সূর্যাস্ত - ০৬:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :