The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৬ পৌষ ১৪২০, ২৬ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শমসের মবিন চৌধুরী আটক | বুধবার সকাল ছয়টা থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক ১৮ দলের | কাল ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বন্ধ | বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী আটক | ২ দিনের রিমান্ডে হাফিজ | বিরোধী দলের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মানুষ হত্যা: প্রধানমন্ত্রী | ছাড়া পেলেন সেলিমা হীরা হালিমা | ৩১ ডিসেম্বর রাতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ : ডিএমপি | রাজশাহীতে ৪৪টি তাজা ককটেল ও সাড়ে ৪ কেজি গানপাউডার উদ্ধার | মোহাম্মদপুরে ২০০ হাতবোমাসহ আটক ৩ | প্রাথমিকে পাস ৯৮.৫৮

পৌরনীতি প্রথমপত্র

মমিনুল ইসলাম মোল্লা, প্রভাষক পৌরনীতি,

অধ্যায় ঃ আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

ঊদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর জবাব দাওঃ

লিজা ইলাবাজ কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। কলেজে আসার সময় রতন ও তার সহযোগী বন্ধুরা তাকে বটতলার মোড়ে বিরক্ত করে। কিছুদিন নিরবে সহ্য করলেও পরে অতিষ্ঠ হয়ে বাবাকে জানায়। বাবা বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করেন এবং পুলিশের স্মরণাপন্ন হন। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তার বাবা উপজেলা চেয়ারম্যানের পরিচয় দিয়ে ঈভটেজার রতন বলে - আপনার এত বড় সাহস ! আপনি আমাকে আটক করেছেন ? তার কথা শুনে থানার সত্ ও নীতিবান দারোগা আফরিন সরকার বলেন-" আইনের চোখে সবাই সমান।" তখন রতন ও তার বন্ধুরা ভবিষ্যতে আইন মেনে আইন মেনে চলার অঙ্গীকার করে।

ক .আইন কোন্ ভাষার শব্দ ? ১

খ . আইনের শাসন বলতে কী বোঝায় ? ২

গ.'আইনের চোখে সকলেই সমান " উদ্দীপকের আফরিন সরকারের এ উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ণ কর। ৩

ঘ. পুলিশের স্মরনাপন্ন হওয়ার পর বখাটে ছেলে রতন ও তার বন্ধুদের আইন মেনে চলার প্রেড়্গাপট ব্যাখ্যা কর। ৪

নিম্নে উদ্দীপকের আলোকে জবাব প্রদান করা

হলো ঃ

ক. (জ্ঞানমূলক ) ঃ আইন ফার্সি ভাষার শব্দ।

খ. (অনুধাবনমূলক ) ঃ সকল ক্ষেত্রে ও সকলের জন্য আইনের প্রাধান্যই হচ্ছে আইনের শাসন। আইনকে উপেক্ষা করা যাবে না। আইনের প্রতি অবজ্ঞা আইন অমান্যের শামিল। আইনের শাসন বাসত্মবায়নের জন্য প্রয়োজন ঃ ১. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। ২. সকলের জন্য একই আইনের প্রয়োগ ৩. কাউকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার না করা ৪. বিনা বিচারে কাউকে আটক না রাখা।

গ. (উচ্চতর দক্ষতা ) ঃ

উদ্দীপকের আফরিন সরকারের বক্তব্যে আইনের সুস্পষ্টতা, সার্বজনীনতা, গতিশীলতা, স্বাধীনতা, বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ,ও অধিকার সংরড়্গণ ইত্যাদি ফুটে উঠেছে। বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়ঃ

১. আদর্শ জীবন যাপনের উপযোগী পরিবেশ ঃ মানুষের বাহ্যিক আচরণ আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। আইনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিকের আর্থ -সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ও স্বীকৃতি ব্যাতিরেকে কোন বিধি-বিধান আইন বলে গণ্য হতে পারেনা। জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার আইনের মাধ্যমে রক্ষিত হয়। সুতরাং আইন সুস্থ, শৃংখলাবোধ, আদর্শ জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে।

২. আইন সর্বজনীনঃ আফরিন সরকার এর দৃষ্টিতে আইন সর্বজনীন। আইন সমভাবে প্রযোজ্য ; ছোট-বড়, ধনী-নির্ধন, রাজা-প্রজা সকলের জন্য। আইনের বিধানসমূহ সুনিশ্চিত ও সুস্পষ্ট। আইন ভঙ্গকরীকে শাস্তি পেতে হয়। আইন লংঘনে সমাজে অরাজকতার সৃষ্টি হয়।

৩. স্বাধীনতা রক্ষাঃ সবই সমানভাবে স্বাধীনতা পালন করতে হলে সবাইকে আইনের শাসন মেনে চলতে হবে। অধ্যাপক ডাইসি মনে করেন যে, "স্বাধীনতা সংরক্ষণে আইনের শাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।" তিন আইনের শাসন বলতে তিনটি মূলনীতিকে বুঝিয়েছেন। যথাঃ ক. আইনের প্রধান্য বজায় রাখা খ. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান

গ. অধিকার আদালত কর্তৃক স্বীকৃত।

পরিশেষে বলা যায়,রাষ্ট্র প্রয়োজনবোধে অর্থদণ্ড, দৈহিক শাস্তি, জেল প্রভৃতির মাধ্যমে বল প্রয়োগ করে আইন মানতে বাধ্য করে। এবাবে আইনের শাসন সমভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকলে সমাজে শান্ত্মি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঘ. (উচ্চতর দক্ষতা )ঃ অনুচ্ছেদে পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার পর বখাটে ছেলেগুলোর আইন মেনে চলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তাদের মনোভাব পরিবর্তনের কারণসমুহ নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ

১. শাস্তির ভয়ঃ রতন পুলিশের হাতে ধরা খাওয়ার পর বুঝতে পারে সে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। শাস্তির ভয়ে মানুষ আইন মান্য করে। আইন মানতে মানুষকে বাধ্য করা হয়। কেননা আইনের পেছনে স্বার্বভৌম শক্তির সমর্থন থাকে। আইন ভঙ্গকারীকে রাষ্ট্র শাস্তি প্রদান করে।

২. শ্রদ্ধাবোধঃ সমাজের জনসাধারণের আইনের প্রতি সাধারণ শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। এ শ্রদ্ধাবোধ থেকেই মানুষ আইন মেনে চলে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

৩. সহানুভূতিঃ আইন মেনে চলার মাধ্যমে কেউ কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সমাজের সদস্যদের সহানুভূতি আইন মান্য করার ক্ষেত্রে অনুপেরণা যোগায়। পারস্পরিক সহানুভূতি সুশৃংখল সমাজ গঠনে সহায়ক। এটি সমাজের সদস্যদের আইন মেনে চলতে সহায়তা করে।

৪. ধর্মীয় কারনঃ সমাজের অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন ধর্ম পালন করে। কোন ধর্মই অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করাকে সমর্থন করেনা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ধর্মীয় আইন ও রাষ্ট্রীয় আইন একই রকম। ধর্মীয় আইন ভঙ্গ করলে পরকালে শাস্তি পেতে হয়। তাই মানুষ আইন মেনে চলে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'এক এগারোর কুশলিবরা আবার সক্রিয় ও সোচ্চার হয়েছেন।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ১৩
ফজর৩:৫৪
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৫
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:৩০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :