The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৬ পৌষ ১৪২০, ২৬ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শমসের মবিন চৌধুরী আটক | বুধবার সকাল ছয়টা থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক ১৮ দলের | কাল ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বন্ধ | বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী আটক | ২ দিনের রিমান্ডে হাফিজ | বিরোধী দলের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মানুষ হত্যা: প্রধানমন্ত্রী | ছাড়া পেলেন সেলিমা হীরা হালিমা | ৩১ ডিসেম্বর রাতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ : ডিএমপি | রাজশাহীতে ৪৪টি তাজা ককটেল ও সাড়ে ৪ কেজি গানপাউডার উদ্ধার | মোহাম্মদপুরে ২০০ হাতবোমাসহ আটক ৩ | প্রাথমিকে পাস ৯৮.৫৮

অর্থনীতির দুঃসময়

দেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতিতে চলিতেছে ক্রান্তিকাল। কেহ কেহ বলিতেছেন, গণতন্ত্র অব্যাহত রাখা জরুরি। কেননা, বিগত গণতান্ত্রিক সময়ে অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হইয়াছে। যদিও ইহা লইয়া বিতর্ক রহিয়াছে। কাহারও মতে, অর্থশাস্ত্রের নীতি এককেন্দ্রিক সিদ্ধান্তেই শুধু বাস্তবায়ন করা যায়। গণতন্ত্রে তাহা কঠিন। উভয়পক্ষেই হয়তো যুক্তি খুঁজিয়া বাহির করা যাইবে। তবে মূল কথা হইতেছে, অর্থনীতিকে টানিয়া তুলিবার একাগ্রতা যদি শাসকশ্রেণীর অভিষ্ট লক্ষ্য হইয়া যায়, তাহা হইলে স্বৈরতন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র গৌণ হইয়া যায়। আবার ইহাও স্বাভাবিক যে, অর্থনৈতিক বিকাশের ধারা অব্যাহত রাখিবার প্রত্যয় থাকিলেই চলিবে না, সেই পথে হাঁটিতে গেলে অনেকগুলি কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হয়। গণতান্ত্রিক শাসনামলে তাহা আরও বেশি কঠিন হইয়া পড়ে। ইহার মূলে রহিয়াছে জনগণ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকুক, তাহাকে জনগণের কথা চিন্তা করিতে হয়। যেই কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাহার ভোটার অর্থাত্ জনসাধারণের উপর ইহার প্রভাব কী হইবে তাহা ভাবিতে হয়। যেই কারণে এমন সরকারগুলি একেবারেই রসকসহীন অর্থশাস্ত্র মানিতে পারে না। যদিও আধুনিক কালে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার জন্য 'রাজনৈতিক অর্থনীতি'র দিকটির প্রতি বেশি আলোকপাত করা হইয়াছে। ইদানীংকালে পলিটিক্যাল ইকনোমি বা রাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্লেষণ করা হইতেছে।

ইতিহাস ঘাঁটিলে দেখিতে পাওয়া যাইবে যে, স্বৈরতান্ত্রিক কিংবা একনায়কত্বের শাসনামলে অর্থনীতির নীতি আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোন বাধা থাকে না। ঔরকম সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনগণের বাক-স্বাধীনতার কোন মূল্য। কাজেই সরকারের পক্ষ হইতে যেই নীতি আরোপ করা হইবে, তাহাই মানিতে হইবে। কাহারও খুশি-অখুশির তোয়াক্কা করিতে হয় না ঐ ধরনের সরকারকে। পক্ষান্তরে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় মেয়াদকাল শেষ হইলেই জনগণের দুয়ারে ভোট চাহিতে যাইতে হয়। তাহার জন্য জনগণকে খুশি করিবার দরকার পড়ে। যেই কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারগুলির বাজেট পরবর্তীকালে আমরা এমনও শুনিতে পাইয়াছি 'জনতুষ্টির বাজেট'। আবার ঐ জনতুষ্টির বাজেটকেই যদি নিরপেক্ষ অর্থনীতিবিদ বিশ্লেষণ করিয়া থাকেন, তিনি দেখাইতে পারিবেন যে সেই বাজেটটি দেশের আয়ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন, কোন কোন পদক্ষেপ কল্পনাবিলাসমাত্র। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, উত্পাদন, কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধির বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। কেননা, মানুষ কাজের সুযোগ না পাইলে, আয় না বাড়িলে সঞ্চয় করিতে পারে না। সঞ্চয় না থাকিলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নহে। বিনিয়োগ না হইলে উত্পাদন ও কর্মসংস্থানের আশা সুদূরপরাহত। এইসব বিষয়গুলি বিবেচনায় লইতে গেলে অনেক কিছুতেই কাটছাঁট করিতে হয়। তাহাতে জনগণের খুশির বিষয়টা মাথা থেকে উবিয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদে তাহা ভাল হইলেও জনগণের সরকার ইহা করিতে পারে না। এইখানেই গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। আবার ইহাও মানিতে হইবে যে, গণতন্ত্র না থাকিলে স্বৈরশাসক কিংবা একনায়কের সবগুলি পদক্ষেপ জনমুখী না হউক, বাস্তবমুখী হইবে কি না তাহা শুধু তাহাদের প্রজ্ঞা ও সদিচ্ছার উপর নির্ভর করিবে। বাংলাদেশে এক-এগারোর পর ক্ষমতায় যাহারা ছিলেন তাহাদের বেশ কয়েকজন অর্থশাস্ত্রের পন্ডিতব্যক্তিও ছিলেন। কিন্তু বাজারদর হইতে শুরু করিয়া গোটা অর্থনীতিই তখন বেসামাল হইয়া পড়িয়াছিল। তাহারা বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ ২০০৭-০৮ ও ২০-০৮-০৯ বত্সরে যথাক্রমে সাড়ে ২২ হাজার ও ২৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করিয়াছিলেন। কিন্তুু পরবর্তীতে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এক লাফেই তাহা ৩০ হাজার ৫শ' কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ইহা আমাদের আরও মনে করাইয়া দিবে যে, রাজনৈতিক সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কিন্তুু এক-এগারোর ঐ সরকারের জনগণের কাছে কোন দায় ছিল না।

শুধুমাত্র এই জনগণের কথা চিন্তা করিয়াই পশ্চিমা গণতন্ত্রের দেশগুলি মিশ্র অর্থনীতিতে প্রবেশ করিয়াছে। গণতান্ত্রিক উত্তর আমেরিকা কিংবা ইউরোপের মিশ্র অর্থনীতিতে চাহিদা ও জোগানের বিষয়টি বাজারকেন্দ্রিক। সরকার দরিদ্র কিংবা বেকারদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখিবার চেষ্টা করিয়া থাকে। এই প্রক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলি 'ওয়েলফেয়ার স্টেট' বা কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়। কিন্তুু বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশে একই কায়দায় অর্থনীতিকে 'ম্যানেজ' করা কষ্টসাধ্য।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'এক এগারোর কুশলিবরা আবার সক্রিয় ও সোচ্চার হয়েছেন।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ১৩
ফজর৩:৫৪
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৫
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:৩০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :