The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৬ পৌষ ১৪২০, ২৬ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ শমসের মবিন চৌধুরী আটক | বুধবার সকাল ছয়টা থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক ১৮ দলের | কাল ব্যাংক ও পুঁজিবাজার বন্ধ | বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী আটক | ২ দিনের রিমান্ডে হাফিজ | বিরোধী দলের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মানুষ হত্যা: প্রধানমন্ত্রী | ছাড়া পেলেন সেলিমা হীরা হালিমা | ৩১ ডিসেম্বর রাতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ : ডিএমপি | রাজশাহীতে ৪৪টি তাজা ককটেল ও সাড়ে ৪ কেজি গানপাউডার উদ্ধার | মোহাম্মদপুরে ২০০ হাতবোমাসহ আটক ৩ | প্রাথমিকে পাস ৯৮.৫৮

দিল্লির রূপান্তরিত রাজনীতির চমক

তালেব রানা

আম আদমি পার্টির (এএপি) গণআন্দোলন থেকে দিল্লির সরকারি দফতর দখলের ঘটনা এক ছোটগল্পের মতো। যেন এলো, দেখলো আর জয় করলো। সত্যিই দিল্লিবাসীকে এসেই মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন এএপি'র অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার দল। মাত্র এক বছরের কম সময়ে তারা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় ক্ষমতাসীন কংগ্রেস ও বিজেপিকে। প্রথমবারেই এসে জয়ী হয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়া ভারতের নির্বাচনের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।

গত ১৫ বছর একটানা দিল্লির ক্ষমতায় ছিলো কংগ্রেস। এ রাজ্যের জনতা কখনোই বিজেপি আর কংগ্রেসের বাইরে কোনো দলকে গুরুত্ব দেয়নি। এই দুই দল সব সময় মুখোমুখি লড়াই করে এসেছে। কিন্তু এবার দিল্লিবাসী যে তৃতীয় কোনো দলকে বেছে নিয়েছে। তাও এমন একটি দলকে যারা একেবারে নতুন, অনভিজ্ঞ। এখন বোঝা যাচ্ছে, ২০১১ সালে দিল্লিতে আন্না হাজারের দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলনে যেভাবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন তার ভাবশিষ্য অরবিন্দ কেজরিওয়াল সেই আন্দোলনের চেতনাটাকেই খুব সফলভাবে নির্বাচনী সাফল্যে বদলে দিতে পেরেছেন। যেটাকে অনেকে বলতে চাইছেন রূপান্তরিত রাজনীতি।

তবে এ কাজটা একটি নতুন দল হিসেবে এএপি'র জন্য সহজ ছিল না। কারণ একটা সুশীল সমাজের আন্দোলন আর গণতন্ত্রের ভোটে জেতার অঙ্ক কখনোই এক নয়। এ দুটোর বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। তবে এএপি দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রতিটি আসনের জন্য স্থানীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। শুধু শহুরে শিক্ষিত, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তরুণ প্রজন্মই নয়, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষদের একটা বড় অংশকেও পাশে পেয়েছে আম আদমি পার্টি। অটোওয়ালারা নির্বাচনের আগের কয়েক মাস পার্টির শ্লোগান লেখা পোস্টার গাড়িতে লাগিয়ে সারা দিল্লি প্রচারণা চালিয়েছে। এছাড়া অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে দিনরাত তাদের হয়ে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর তহবিল পেয়েছে তারা। আর সব চেয়ে বড় কথা হলো এএপি জনতাকে বোঝাতে পেরেছে যে দুটো প্রতিষ্ঠিত পুরনো দলের বাইরে তারাও একটা বিকল্প হতে পারে। তাদের পক্ষে ভোট দিয়ে জনগণ দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারের প্রতি তাদের সমর্থন দেখিয়েছে। তবে অনেকেই বলছেন, জনগণ এখন পরিবর্তন চাইছে। তারা নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায়। কারণ বিগত বছরগুলোতে নেতারা এসেছেন। কিন্তু অনেকের অবস্থা আগে যেমন ছিলো এখনো তেমন আছে।

শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার গঠন করেছে এএপি। যাদের নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল হয়েছে দিল্লির সপ্তম মুখমন্ত্রী। গত শনিবার ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে শপথ নেন কেজরিওয়াল ও তার ছয় মন্ত্রী। নির্বাচনে এএপি থেকে তিনটি আসন বেশি পেলেও সরকার গঠন করেনি হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। আর বাইরে থেকে এএপিকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে কংগ্রেস। বিজেপি এএপিকে সরকার গঠন করতে দিয়ে এক ধরনের পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কারণ এএপি আগে বলেছিলো তারা সরকার গঠনে কোনো দলকে সহায়তা করবে না আর সহায়তাও নেবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে কথা তারা রাখতে পারেনি। এএপির দাবি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেই এ সরকার গঠন করছে তারা।

কংগ্রেস জানিয়েছে, তাদের এ সমর্থন শর্তহীন নয়। এএপি সরকারের কার্যফলের উপর সবকিছু নির্ভর করবে। আর জনগণকে করা সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা যে কঠিন তা আমরা ভালো করেই জানি। এসব অঙ্গীকার করেই ৭০ আসনের মধ্যে ২৮টি আসন পেয়েছিলো এএপি।

তবে এসবে কান না দিয়ে আন্দোলনের গর্ব থেকে জন্ম নেয়া এএপির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এখন একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন। প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই চমকে দিয়েছেন গোটা দেশকে। সরকার গড়বেন কিনা জানতে চেয়ে গণভোট নেয়া ছিল আর এক চমক। শপথেও ছিলো চমকের বাহার। রামলীলা ময়দানে শপথ নেয়াটা বড় চমক। ভারত-চীন যুদ্ধের শহীদদের উদ্দেশে লতা মঙ্গেশকরের বিখ্যাত গানটি এখানে শুনেই কেঁদে ফেলেছিলেন জওহরলাল নেহরু। এই মাঠেই সত্যাগ্রহে বসেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এখানকার মঞ্চেই বিপুল জনসভার মুখোমুখি হয়েছিলেন রাণী এলিজাবেথ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানকে হারানোর পর এখানে বিজয়োত্সব করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। পুরনো দিল্লির এই রামলীলা ময়দানের মুকুটে এমন অসংখ্য রঙিন পালক। আর সবশেষ দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়তে জন লোকপালের দাবিতে দুই বছর আগে রামলীলা ময়দানেই অনশন আন্দোলন শুরু করেছিলেন প্রবীণ গান্ধীবাদী আন্না হাজারে। কেজরিওয়াল ছিলেন সেই আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল গাড়িতে নয়, সাধারণ মানুষের মতো মেট্রোরেলে চড়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যান। এর আগে সরকারি বাড়ি ও পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা নিতে অস্বীকার করে সবার মনোযোগ কাড়েন তিনি। তাই এখন ছেড়ে কথা বলছে না বিরোধীরা। অরবিন্দের মেট্রো চড়ার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। তাদের বক্তব্য, চমকই হলো কেজরিওয়ালের আসল মূলধন। অনেকেই মনে করাচ্ছেন, এমন চমক আগেও অনেকে দিয়েছেন। লালুপ্রসাদ যাদব প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে কিছুদিন পাটনা পশু চিকিত্সা হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের আবাসনেই থেকেছিলেন। সেখান থেকে সাইকেলে চড়ে সচিবালয়ে যাতায়াত করতেন। এই চমক অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আর জনগণও চমক নয় কাজ দেখতে চায়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'এক এগারোর কুশলিবরা আবার সক্রিয় ও সোচ্চার হয়েছেন।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :