The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭ পৌষ ১৪১৯, ১৭ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ রাজধানীতে বর্ষবরণে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে নেমেছে ৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত | নতুন বছরে খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা | নতুন বছরে আন্দোলনে ভেসে যাবে সরকার: তরিকুল ইসলাম | দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিক হত্যার শীর্ষে পাকিস্তান | ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নীল ৮, সাদা ৭ পদে জয়ী | জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে ৭৫ এর মতো পরিণতি হবে: খন্দকার মোশাররফ | দুর্নীতিবাজদের ভোট দেবেন না : দুদক চেয়ারম্যান | ট্রেনের ধাক্কায় ৫ হাতির মৃত্যু | এখন বাবা-মাকে বই নিয়ে চিন্তা করতে হয় না : প্রধানমন্ত্রী | আপাতত পাকিস্তান সফর করছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল | মিরপুরে ঢাবি অধ্যাপকের স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা | তাজরীনে আগুন পরিকল্পিত: বিজিএমইএ | ১৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার নিবন্ধন | সমস্যা সমাধানে আলোচনার বিকল্প নেই : সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

আ লো চি ত অ ন্যা ন্য

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এগিয়ে চলছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল

দিদারুল আলম

২০১২ সালে বিচারাঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ। ট্রাইব্যুনাল ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিচারপতি নিজামুল হক এবং প্রবাসী আইনজীবী ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপি সংলাপ গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সৃষ্ট বিতর্ক নিরসনে এ পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। বিচারপতি নিজামুল হক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল থেকে পদত্যাগ করলেও তিনি উচ্চ আদালতের বিচারপতি পদেই অধিষ্ঠিত থাকছেন। পদত্যাগের আগে বিচারপতি নিজামুল হক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বিচার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করে গেছেন। শুধু রায় ঘোষণা বাকি ছিল। বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। বিচারপতি পদত্যাগের পর সাঈদীর মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্যে দাবি জানায় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। তারা পুনরায় বিচার শুরুর জন্য জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সাঈদীর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আবেদন দাখিল করেছেন। আবেদনগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিকাংশ মামলারই রায় হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রায় পৌনে তিন বছর পর সাঈদী ও আযাদের মামলার বিচার কার্যক্রমও শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তার দল ক্ষমতায় এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মহাজোট সরকার। এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি নিজামুল হক এবং বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির ও জজ একেএম জহির আহমেদকে সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় চার মাস আগে ট্রাইব্যুনালের সদস্য জজ একেএম জহির আহমেদ পদত্যাগ করেন। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের স্থলে ট্রাইব্যুনাল-১ এ নিয়োগ দেওয়া হয় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হককে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। ট্রাইব্যুনাল-২-এ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল আলীমের মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। জামায়াতের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদের মামলা রায়ের জন্যে অপেক্ষমান রয়েছে।

সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে বেলজিয়াম প্রবাসী আইনজীবীর স্কাইপির সংলাপের তথ্য ফাঁস হয়। এ নিয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনোমিস্ট ও দৈনিক আমার দেশে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বেলজিয়াম প্রবাসী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও রায় নিয়ে মোট ১৭ ঘণ্টা কথা বলেছেন। এ ছাড়া তাদের মধ্যে ২৩০টি ই-মেইল চালাচালি হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক স্কাইপির মাধ্যমে ড. জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

যুদ্ধাপরাধের মামলার গতি-প্রকৃতি

সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। মামলায় সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১০০ থেকে ১৫০ হিন্দুকে ধর্মান্তরে বাধ্য করার ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সাঈদী ছিলেন আরবি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী এবং বাকপটু। এটাকে ব্যবহার করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তিনি সখ্য এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এজাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেন। এ কারণে তিনি রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার হতে সক্ষম হন। তার নেতৃত্বে এবং তার সহযোগিতায় পিরোজপুরের পারেরহাট বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং রাজাকার বাহিনী হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ, লুট, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, সাঈদীর আসল নাম দেলোয়ার হোসেন শিকদার। একাত্তরে তিনি পিরোজপুরে এ নামেই পরিচিত ছিলেন। লোকে তাকে 'দেইল¬া রাজাকার' নামেও চিনতেন। স্বাধীনতার পর তিনি নিজের অপরাধকে আড়াল করার জন্য বোরকা পরে গরুর গাড়িতে চড়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে অস্ত্রসহ যশোরের মো. রওশন আলীর বাড়িতে আত্মগোপন করেন। অনেকদিন পর তার অপরাধের কাহিনী জানাজানি হলে তিনি পরিবার নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপন অবস্থা থেকে বের হয়ে আসেন এবং ভুয়া মাওলানা পরিচয়ে ওয়াজ মাহফিল শুরু করেন। নিজের নাম পাল্টে করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

আযাদের বিরুদ্ধে ছয় ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ

পলাতক দেখিয়ে গত বছরের ৪ নভেম্বর আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২। এতে আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ছয় ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হলো :গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক রাখা ও নির্যাতন। অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের জুনে রণজিত্ নাথ ওরফে বাবু নাথকে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন, ২৬ জুলাই আবু ইউসুফ ওরফে পাখিকে অপহরণ করে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে নির্যাতন এবং ১৮ মে এক নারীকে আটকে রেখে নির্যাতন। এ ছাড়া কলারন গ্রামের জমিদার সুধাংশু মোহন রায়, পুরুরা নমপাড়া গ্রামের মাধব চন্দ্র বিশ্বাস ও ফুলবাড়িয়া গ্রামের চিত্তরঞ্জন দাসকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে নতিবদিয়া গ্রামের দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। গণহত্যার অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১৭ মে আযাদ ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র রাজাকারকে নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় হামলা চালান। সেখানে নির্বিচারে গুলি করে শরত্ চন্দ্র পোদ্দার, সুরেশ পোদ্দার, শ্যামাপদ পোদ্দার, জতীন্দ্র মোহন সাহা, নীল রতন সমাদ্দার, সুবল কয়াল ও মল্লিক চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। তবে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান আযাদের পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেননি। ফলে ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্যে দিন ধার্য করে দেন। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়। রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমান রয়েছে।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা,

ষড়যন্ত্র ও উস্কানির অভিযোগ

জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাক সেনাদের সাহায্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও উস্কানি ইত্যাদি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযমের চেষ্টায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল-শামস, পাইওনিয়ার ফোর্স প্রভৃতি সহযোগী বাহিনী গঠিত হয়। তার নেতৃত্বে ও নির্দেশে এসব বাহিনী সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে এবং এসব অপরাধ করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে। একাত্তরের ২১ নভেম্বর গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের ৩৮ জনকে শহরের পৈরতলা রেলব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। এই গণহত্যা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের নির্দেশে।

নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগসহ ১৬ অপরাধ

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছাড়াও মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, নির্যাতন, মানবতা-বিরোধী অপরাধে ষড়যন্ত্র ও উস্কানি এবং এ ধরনের অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড-সম্পর্কিত অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রাক্কালে অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে আলবদর বাহিনী। দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আলবদর সদস্যরা ওই গণহত্যা ঘটায়। জামায়াতের তত্কালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে ওই গণহত্যার দায় নিজামীর ওপর পড়ে। এ ছাড়া হত্যা, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ, উস্কানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ করে বন্দী রাখা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন ও এসব অপরাধে সহযোগিতা, প্ররোচনা, উস্কানির অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ হচ্ছে, দৈনিক ইত্তেফাক-এর তত্কালীন নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার লেখা একটি প্রবন্ধে পাকিস্তানি সেনাদের এদেশীয় সহযোগীদের হাতে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের নিগ্রহের বিবরণ তুলে ধরেন। এই প্রবন্ধের বিরোধিতা করে একাত্তরের ১৬ সেপ্টেম্বর জামায়াতের মুখপত্র সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তাকে 'ভারতের দালাল' উল্লেখ করে সমালোচনা করা হয়। তিনি জামায়াত ও আলবদরের লক্ষ্যে পরিণত হন। এর জের ধরে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর রাত তিনটার দিকে মুখ ঢাকা সাত-আটজন যুবক চামেলীবাগের ভাড়া বাসা থেকে সিরাজুদ্দীনকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর ফেরেননি, তার মরদেহও পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে শারীরিক শিক্ষা কলেজ) পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে মুজাহিদ দলীয় নেতাদের নিয়ে বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করতেন। ওই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। এ ঘটনায় মুজাহিদের বিরুদ্ধে হত্যা বা গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, গণহত্যাসহ মোট ১৭টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগের মধ্যে আব্দুল আলীম জয়পুরহাটের ডা. আবুল কাশেম হত্যা ও ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধার গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া জয়পুরহাটের করাইকাদিপুর এলাকার গণহত্যাসহ চকপাড়া, জুড়িপাড়া, পালপাড়া, সোনাপাড়া এলাকায় ৩৮ জনকে হত্যারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের।

এদিকে ২৮ মে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ষড়যন্ত্র ও উস্কানিসহ ৬টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, কবি মেহেরুন্নেছাসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা, পল্লবীর আলোকদি গ্রামে ৩৪৪ জনকে হত্যা, খন্দকার আবু তালেবকে হত্যা, বাংলা কলেজের ছাত্র পল্লবসহ সাত জনকে হত্যা, কেরানিগঞ্জের শহীদনগর গ্রামের ভাওয়াল খান বাড়ি ও ঘাটারচরসহ পাশের আরও দু'টি গ্রামের অসংখ্য লোককে হত্যার ঘটনা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাত অপরাধ

মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা ও নারী ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী সাতটি অপরাধে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৫ জুন অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে তার পরিকল্পনা ও পরামর্শে ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই ১২০ জন পুরুষকে হত্যা এবং ওই গ্রামের প্রায় ১৭০ জন মহিলাকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে সোহাগপুর গ্রাম বিধবাপল্লী নামে পরিচিত।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খানের এই আশঙ্কা যথার্থ বলে মনে করেন?
3 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :