The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭ পৌষ ১৪১৯, ১৭ সফর ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ রাজধানীতে বর্ষবরণে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে নেমেছে ৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত | নতুন বছরে খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা | নতুন বছরে আন্দোলনে ভেসে যাবে সরকার: তরিকুল ইসলাম | দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিক হত্যার শীর্ষে পাকিস্তান | ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নীল ৮, সাদা ৭ পদে জয়ী | জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে ৭৫ এর মতো পরিণতি হবে: খন্দকার মোশাররফ | দুর্নীতিবাজদের ভোট দেবেন না : দুদক চেয়ারম্যান | ট্রেনের ধাক্কায় ৫ হাতির মৃত্যু | এখন বাবা-মাকে বই নিয়ে চিন্তা করতে হয় না : প্রধানমন্ত্রী | আপাতত পাকিস্তান সফর করছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল | মিরপুরে ঢাবি অধ্যাপকের স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা | তাজরীনে আগুন পরিকল্পিত: বিজিএমইএ | ১৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার নিবন্ধন | সমস্যা সমাধানে আলোচনার বিকল্প নেই : সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

সমুদ্রসীমা নিয়ে ৩৮ বছরেরবিরোধ নিষ্পত্তি

মেহেদী হাসান

২০১২ সালে দেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো সমুদ্রসীমা নিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে ৩৮ বছরের পুরনো বিরোধ নিষ্পত্তি। গত ১৪ মার্চ ট্রাইবুন্যাল ইটলস (ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইবুন্যাল ফর টি 'ল অফ টি সি) এর রায়ে বিরোধপূর্ণ বিশাল সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বিস্তৃত ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের জন্য অসীম সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় (যা দেশের স্থল ভাগের ৭১ শতাংশ অর্থাত্ চার ভাগের তিন ভাগ) বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে উদ্যোগ নেন। তিনি টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম আইন করেছিলেন। তখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আর কেউ এ আইন করেনি। এমনকি জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে এ আইন করে।

জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত এই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আদালতের ১৫১ পৃষ্ঠার রায়ের ৪৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক পরিবর্তিত মীমাংসা রেখা অনুসারে ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৩২ বর্গকিলোমিটার মিয়ানমার পাবে। আনুপাতিকভাবে এটা প্রায় ১:১.৫৪ হার। তবে দীর্ঘদিনের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় দেশবাসী এটাকে বিজয় হিসেবে নিয়েছে।

বিগত শতকের শেষার্ধে বহুজাতিক পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলো সমুদ্রে পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান শুরু করলে মূলত আন্তর্জাতিক সমুদ্রে অর্থনৈতিক এলাকা নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেয় ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ সমুদ্র কনভেনশন আইন (আনক্লস) প্রণীত হয়। ১৯৯৫ সালে ভারত এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করে, মিয়ানমার ১৯৯৬ সালে এবং বাংলাদেশ ২০০১ সালে স্বাক্ষর করে।

এই আইন অনুযায়ী একটি দেশ তার বেজলাইন হতে ১২ নটিক্যাল মাইল (১ নটিক্যাল মাইল= ১ দশমিক ৮৫২ কিলোমিটার) রাষ্ট্রীয় সমুদ্রসীমা এবং আরো ১৮৮ নটিক্যাল মাইলসহ মোট ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। মহীসোপানের আরো ১৫০ নটিক্যাল মাইল যোগ করে (২০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত মহীসোপান) সম্প্রসারিত অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিক্যাল মাইলের বেশি হবে না। বাংলাদেশের মহীসোপান এলাকা অনেক দীর্ঘ হওয়ায় এই সুবিধাটি বাংলাদেশের পাওয়ার কথা। কনভেনশনের নিয়ম অনুসারে স্বাক্ষরের ১০ বছরের মধ্যে একটি দেশকে তার ঘোষিত সমুদ্রসীমার দাবি উত্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে আবেদন করে এই সময় আরো ৫ বছর বৃদ্ধি করার সুযোগও রয়েছে। ভারত এবং মিয়ানমার ২০০৮ সালে তাদের সমুদ্রসীমা আনক্লসে উপস্থাপন করে। বাংলাদেশেরও উচিত ছিল প্রয়োজনীয় জরিপ শেষে নিজেদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে তা আনক্লসে উপস্থাপন করা। তা না করে সেনাসমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়কের সময় ২০০৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পেট্রোবাংলা সমুদ্র অঞ্চলকে ২৮টি ব্লকে (৮টি অগভীর ও ২০টি গভীর) ভাগ করে বাংলাদেশের অগভীর ও গভীর সমুদ্রে গ্যাস ব্লকের মানচিত্র প্রকাশ করে তৃতীয় দফা বিডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। ভারত এবং মিয়ানমার এই ঘোষিত ব্লকগুলো তাদের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমায় পড়েছে দাবি করলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার আনক্লসের পরিশিষ্ট ৭ ধারা অনুসারে ভারত ও মিয়ানমার ঘোষিত সমুদ্রসীমার বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করে।

২০০৯ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মিয়ানমার সরকার ইটলসে আবেদন করে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে ২০০৯ সালের ১২ ডিসেম্বর অবহিত করা হয়। ২০১০ সালে ১ জুলাই বাংলাদেশ তার দাবি আদালতে উপস্থপন করে। রায়ের ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দাবি এবং আনক্লসে উপস্থাপিত ভারতের দাবি (হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মুখ থেকে আন্দামান-নিকোবর পর্যন্ত সরল রেখা) ডব্লিউজিএস-১৯৮৪ ডেটাম অনুযায়ী মানচিত্রে উপস্থাপনের পর সেখানে পেট্রোবাংলা কর্তৃক ঘোষিত পেট্রোলিয়াম ব্লকগুলো জিও রেফারেন্স করলে দেখা যায় যে, আনক্লসের ধারা মেনে ২০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত মহীসোপান বিবেচনায় এনে পরবর্তী ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত পেট্রোবাংলা ব্লক নির্ধারণ করেছে, যা যুক্তিসঙ্গত।

মিয়ানমার বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনস দ্বীপকে তার দেশের নাফ নদীর পলিপাতন অংশ বিবেচনা করে একে সীমানা নির্ধারণের জন্য বিবেচনা না করে পৃথকভাবে দেখার জন্য দাবি করেছিল (অনুচ্ছেদ ১৩১ ও ১৩২)। তবে সেন্টমার্টিনসকে এনভেলাপ দেবার সময় মিয়ানমারের দাবি করা স্থানাংক অনুসরণ না করে ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের দাবি করা ৭ নম্বর স্থানাংক পর্যন্ত গিয়ে এরপর মিয়ানমারের 'ই' স্থানাংককে মীমাংসা রেখার সঞ্চার বিন্দু নির্ধারণ করেছে। এর ফলে ১৮ নং ব্লকের ১০০ দশমিক ৮৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা হাতছাড়া হলেও সেন্ট মার্টিনসের জন্য অপেক্ষাকৃত বড় এনভেলাপ পাওয়া গেছে। এদিকে আরেক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে আইনি লড়াই চলছে। যার রায় হবে ২০১৪ সালে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খানের এই আশঙ্কা যথার্থ বলে মনে করেন?
3 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২৮
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫০
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৫২
এশা৭:০৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :