The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

[ রা জ নী তি ]

মুক্তি-সংগ্রাম ও স্বাধীনতা-সংগ্রাম

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

ডিসেম্বর হলো আমাদের 'বিজয়ের মাস'। সবাই এ বিষয়ে একমত। কিন্তু বিজয় 'মুক্তি-সংগ্রামের' না 'স্বাধীনতা-সংগ্রামের'? বিএনপি এ বিজয়কে 'স্বাধীনতা-সংগ্রামের' বিজয় বলতে পছন্দ করে। আওয়ামী লীগ একে 'মুক্তিসংগ্রামের' বিজয় বলতে সম্মত হলেও, তারা 'মুক্তি-সংগ্রামের' মর্মবাণী ও তাত্পর্য যথাযথভাবে অনুধাবন না করেই অথবা তার প্রতি অনুগত না থেকেই সে কথা বলে থাকে।

স্বাধীনতার সংগ্রাম মানেই 'মুক্তি-সংগ্রাম' নয়। আবার সব 'মুক্তি-সংগ্রাম'ই স্বাধীনতা অর্জনকে অপরিহার্য করে না। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামটি ছিল একইসঙ্গে স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও মুক্তির সংগ্রাম।

স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকেই সাধারণভাবে স্বাধীনতা অর্জন বলে আখ্যায়িত করা হয়। স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো রাজনৈতিক ভূগোল (political geography) । স্বাধীনতার বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রীয় পরিচয়, রাজনৈতিক-প্রশাসনিক কর্তৃত্ব, স্বার্বভৌমত্ব ইত্যাদি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে অনেক দেশকে স্বাধীনতা অর্জন করতে দেখা গেছে। কিন্তু তার অধিকাংশের স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্গে মুক্তির সংগ্রামের কোনো সম্পর্ক ছিল না। সেগুলো ছিল প্রধানত সাম্রাজ্যবাদী উপনিবেশবাদী দেশ ও শক্তির মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং সাম্রাজ্যের ভাগবাটোয়ারার ফসল। এশিয়া-আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকার উপনিবেশগুলোতে কৃত্রিমভাবে রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্ধারণ করে 'স্বাধীন দেশ' স্থাপনের উদাহরণও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য। স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই ধারা বদলে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার অবসানের সময় থেকে। তখন একের পর এক দেশ ঔপনেবেশিক শৃঙ্খল থেকে স্বাধীন হতে শুরু করে। এসব স্বাধীন দেশের অধিকাংশই ঔপনিবেশিক এবং নয়া ঔপনিবেশিক (তথা অর্থনৈতিক-ঔপনিবেশিক) বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত জাতীয় মুক্তির ধারায় অগ্রসর হওয়ার পথ গ্রহণ করে। অবশ্য, এ সময়টাতেও সাম্রাজ্যবাদ (যে কিনা তখন সরাসরি রাজনৈতিক উপনিবেশ স্থাপন করে শোষণ করার পথ ছেড়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শোষণ অব্যাহত রাখার পথ গ্রহণ করেছে) নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশগুলোকে দুর্বল করার জন্য অনেক স্থানেই বিছিন্নতাবাদী আন্দোলন সংগঠিত করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। উনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে কঙ্গোর বায়াফ্রার ঘটনা এ ক্ষেত্রে একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তাই ইতিহাস একথাই বলে যে, সব স্বাধীনতাকেই মুক্তি-সংগ্রাম বলা যায় না।

'মুক্তি-সংগ্রাম (liberation struggle)-র ধারণার মধ্যে দুটি উপাদান আছে। একটি হলো জাতীয় মুক্তি (national liberation) এবং অপরটি হলো অর্থনৈতিক, সামাজিক, শ্রেণিগত শোষণ-মুক্তি (class emancipation)। জাতীয় মুক্তির প্রশ্নে প্রধান ইস্যুটি হলো সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শোষণ-আধিপত্য থেকে মুক্তি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তিসংগত কারণেই জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রধান শত্রু হয়ে ওঠে সাম্রাজ্যবাদ এবং প্রকারান্তরে সমাজতন্ত্র হয়ে ওঠে তার স্বাভাবিক মিত্র।

জাতীয় মুক্তি অর্জন আপনা-আপনি শোষণ-মুক্তি এনে দেয় না। জাতীয়-মুক্তি সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে জাতীয় স্বার্থকে মুক্ত করে; কিন্তু শোষণ-মুক্তির জন্য শুধু সাম্রাজ্যবাদী শোষণের হাত থেকেই নয়, পুঁজিবাদী শোষণ থেকেও শোষিত শ্রেণিকে মুক্ত করা অপরিহার্য। একটি হলো জাতিগত শোষণ থেকে মুক্তি, অন্যটি হলো শ্রেণিগত শোষণ থেকে মুক্তি। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে মুক্তি সংগ্রামের এই দুই উপাদানই কোনো না কোনো পরিমাণে ও উপায়ে যুক্ত ছিল। কি কারণে সেটা সম্ভব হয়েছিল? এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যেতে পারে ইতিহাসের পাতা ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমির দিকে দৃষ্টি দিলে।

এক গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। ১৯৭১-এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর, নয় মাসের এই সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সংগ্রামের শীর্ষবিন্দু। তিল তিল করে গড়ে ওঠা বহুদিনের বহুমাত্রিক গণসংগ্রাম প্রস্তুত করেছিল সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি। আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিক প্রবাহে রচিত হয়েছিল আমাদের 'মুক্তি-সংগ্রাম', যার শীর্ষ পর্যায়ের নয় মাসের পর্বটি হলো মহান 'মুক্তিযুদ্ধ', আর মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফসল হলো আমাদের 'স্বাধীনতা'।

পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে পূর্ববঙ্গের জনগণের ওপর ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অব্যাহত শোষণের সঙ্গে যুক্ত হয় পাঞ্জাব ভিত্তিক পাকিস্তানি শাসকদের ঔপনিবেশিক ধরনের অতিরিক্ত আরেকটি শোষণের বোঝা। এই অর্থনৈতিক শোষণকে নিরঙ্কুশ করার জন্য পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি শুরু করে বাঙালির ভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য-জাতীয় চেতনা-ভাবাদর্শ প্রভৃতির বিরুদ্ধে হিংস্র আক্রমণ এবং জাতিগত শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের এক নিষ্ঠুর অধ্যায়। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে দু'পায়ে দলন করে চালানো হয় দমন-পীড়ন-নির্যাতনের স্টিমরোলার। প্রথমেই হামলা আসে দৃঢ়চেতা আদর্শনিষ্ঠ কমিউনিস্ট ও বামপন্থিদের ওপর। অবশ্য পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীলতা সম্পর্কে শিগগিরই বোধোদয় ঘটে বাঙালি মধ্যবিত্তের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী মুসলিম লীগের একটি প্রভাবশালী অংশের মধ্যে। গঠিত হয় আওয়ামী লীগ। এই বোধোদয় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক জনগণের মধ্যে। পরিস্থিতি তাড়াতাড়িই পাল্টে যেতে থাকে। '৪৮ থেকে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন, '৫২-এর শহীদ দিবস, '৫৪-এর নির্বাচনে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ইত্যাদি ঘটনা বাঙালির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, জাতীয় অধিকার, সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খলের অবসান, মজুর-কিষাণের রুটি-রুজির অধিকার ইত্যাদি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দাবি ও শ্লোগানগুলো গণচেতনা এবং গণসংগ্রামের মুখ্য ইস্যুতে পরিণত হয়।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব-প্রধানমন্ত্রিত্ব পদ প্রদানসহ নানা প্রলোভনের জালে বাঙালি বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বকে আবদ্ধ করেও গণচেতনা ও গণআন্দোলনের প্রগতিমুখিনতাকে পাকিস্তানি শাসকরা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে ১৯৫৮ সালে এক জটিল অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়ে সেই অজুহাতে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে একনায়কত্ববাদী স্বৈরতন্ত্রের নিগড়ে বাঙালির সংগ্রামকে অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানি শাসকরা। সেই অবরোধ ভেঙে আবার শুরু হয় গণসংগ্রামের উত্তাল প্রবাহ। গণআন্দোলন ও গণচেতনার ক্রমবর্ধমান র্যাডিক্যালাইজেশন ঘটতে থাকে। '৬২, '৬৪, '৬৬ এবং সবশেষে '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আইয়ুব শাহীর পতন, '৭১-এর নির্বাচন, ২১ দফা, ৬ দফা, ১১ দফা এসব সংগ্রাম ও গণদাবির মধ্য দিয়েই সৃষ্টি হয় '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি।

মুক্তিযুদ্ধের নীতি ও আদর্শগত মৌলিক চরিত্র ও উপাদান রূপ পায় এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক-মতাদর্শিক গণসংগ্রামের প্রক্রিয়াতেই। সেই চরিত্র ও উপাদানের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রথমত, মুসলিম লীগের 'ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের' সঠিক বাস্তবায়ন তথা সেই প্রস্তাবে উল্লিখিত ভারতের মুসলমানদের জন্য (একাধিক) রাষ্ট্র-সমষ্টি (States) প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়নি। পাকিস্তানের বঞ্চিত বাঙালি মুসলমানদের বৈষম্য দূর করতে ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতেও খণ্ডিত পাকিস্তানে একটি বাংলাস্থান' প্রতিষ্ঠা করা মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল না। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্ব নেতিকরণ (Negate) করে বাঙালির জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আদর্শগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি নতুন অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র অভিমুখী প্রগতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য।

দ্বিতীয়ত, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে তার পূর্বাঞ্চলে আরেকটি অনুরূপ নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিছক একটি 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' প্রয়াস ছিল না। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু একটি রাজনৈতিক ভূগোলের বিষয়ও ছিল না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অগ্রসরমান 'জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের' এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই রণাঙ্গনে ও দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার মুখে মুখে অন্যতম শ্লোগান হয়ে উঠেছিল 'বিশ্বজোড়া দুটি নাম বাংলাদেশ আর ভিয়েতনাম'। মুক্তিযুদ্ধের চ্যালেঞ্জিং ও ভাগ্য নির্ধারণমূলক চূড়ান্ত পর্বে তাই সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সমাজতান্ত্রিক শিবির এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো সুদৃঢ়ভাবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। এর ফলেই সম্ভব হয়েছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ প্রত্যক্ষভাবে সপ্তম নৌবহরসহ হানাদার পাকবাহিনীর পক্ষে নেমে পড়া সত্ত্বেও এই প্রবল পরাক্রান্ত শক্তিকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করা। তাই, প্রবল গণসংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা প্রবাহ, এই উভয় বিষয় বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের 'সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের' অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র।

তৃতীয়ত, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পাকিস্তানের তথাকথিত মুসলিম জাতীয়তাবাদকে নাকচ করে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের পথ অবলম্বনই শুধু করেনি, তা 'বাজার অর্থনীতির' পুঁজিবাদী নীতির বিপরীতে সমাজতন্ত্র অভিমুখীন অর্থনৈতিক-সামাজিক বিকাশের পথনির্দেশও সুস্পষ্ট করেছিল। স্বাধীন দেশে যে সংবিধান রচিত হয় ('৭২ সালের সংবিধান) তার প্রস্তাবনায় লেখা হয়, 'আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক-প্রতিষ্ঠা সমাজের যেখানে সব নাগরিকের জন্য...রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য... নিশ্চিত হইবে।' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি প্রসঙ্গে বলা হয় 'জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা,... রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।' এবং '...সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করা হইবে।' আরো বলা হয় যে, 'রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হইবে মেহনতী মানুষকে ... এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি প্রদান করা।' এই সংবিধানে স্পষ্টভাবে 'পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশ', নাগরিকদের জন্য 'অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিত্সাসহ জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা', 'সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা', 'মানুষে-মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ ইত্যাদির কথা এবং এমনকি নাগরিকদের প্রাপ্তি সম্পর্কে মার্কস-এঞ্জেলস রচিত কমিউনিস্ট ইশতেহার থেকে কোটেশন মার্কে উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা হয়, 'প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী' (From each according to his ability to each according to his work') এই ফর্মুলা হবে সামাজিক সম্পদ বিতরণের নীতি।

'৭২-এর সংবিধান থেকে এই কয়েকটি উদ্ধৃতির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চরিত্র। রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতির মধ্য দিয়ে সে চরিত্র মূর্ত হয়েছিল। পঁচাত্তরের পরে সেই রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো থেকে দেশকে সরিয়ে আনা হয়। সুদীর্ঘ গণসংগ্রামের ধারা ও এক নদী রক্তের ফসল '৭২-এর সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। মুক্তি-সংগ্রামের উপাদানগুলোকে অপসারণ করে রাষ্ট্রকে বহুলাংশেই মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব সময়ের পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়া হয়। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দ্বারা এই দুষ্কর্মটি সাধিত হয়। আওয়ামী লীগ দু'-দু'বার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সংবিধানকে (আরো বড় কথা, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে) একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিপূর্ণভাবে ফিরিয়ে আনেনি। পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিষয়ে সে অনমনীয়তা দেখালেও ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিষয়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি প্রবর্তিত ব্যবস্থার অনেক কিছুই বহাল রেখে আপস করেছে।

রক্তের দামে কেনা মুক্তি-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পুনরুদ্ধার করতে আজ তাই প্রয়োজন নতুন আরেকটি 'মুক্তিযুদ্ধ'। রচনা করা প্রয়োজন মুক্তি-সংগ্রামের নবতর অধ্যায়। তবে একটি কথা। বিজয় অর্জনের পর তা যেন আবার আগের মতো হাতছাড়া না হয়ে যায়, এবার সে জন্য আগেভাগেই প্রস্তুত হতে হবে।

লেখক :সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

e-mail: [email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২৭
ফজর৩:৪৬
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪২
এশা৮:০৫
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :