The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গৃহদাহের আগুন ও নববর্ষের হূদয় রাঙানো আগুন

অজয় দাশগুপ্ত

দুনিয়ার দেশে দেশে ইংরেজী নববর্ষের আনন্দ আর বরণের সৌন্দর্যই আলাদা। যত কথাই বলা হোক, পৃথিবীতে ইংরেজ রাজত্ব যেমন দীর্ঘ, দীর্ঘমেয়াদী আর লৌহ কঠিনভাবে জেঁকে বসেছিল, তেমনি তার রেখে যাওয়া রেশও যেন দীর্ঘস্থায়ী, বীরের জাতি তো কম ছিল না, স্প্যানিশরাও দুনিয়ার বেশ কিছু অংশ দখল করে রেখেছিল, ডাচ, ওলন্দাজ বা পর্তুগীজ জলদস্যুরাও কম যায়নি। ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা ইতিহাস আর অতীতই তার সাক্ষী। আমাদের উপমহাদেশে নানা দেশ ও জাতির বিজয় কেতন উড়েছে। পাঠান, হুন, শক, মোগল, মঙ্গোলিয়ান, চাইনীজ ফরাসী কেউ বাদ যায়নি। একমাত্র ফরাসী ছাড়া আর কেউ সাহিত্য শিল্প সংস্কৃতির দিকে মনোযোগী ছিল না। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশ দখল, সিংহাসন দখল আর ভোগ। একমাত্র ইংরেজরাই পেরেছিল যাবতীয় মিশ্র জাতি সত্তার অনৈক্য আর ভেদাভেদের ভেতরে একক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিতে। একক শাসন কায়েম করে শ' শ' বছরের ওপর শাসন কেবল ভয় বা গায়ের জোরে পারা যায় না, এ জন্যে মেধা, শ্রম, বুদ্ধি ও কৌশলের প্রয়োজন হয়। ইংরেজদের তা ছিল, ছিল বলেই তারা ভারতবর্ষের বেলায় যে ভূমিকা নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের বেলায় সে ভূমিকা নেয়নি। যে দেশে থাকতে পারবে তাকে যেভাবে দেখভাল করে নিজের মত গড়ে পিটে বানিয়ে নিয়েছে, যেখানে থাকতে পারবে না সে দেশে তেমনভাবে উন্নয়ন কার্য করেনি বা সেদিকে অতটা মনযোগ দেয়নি। তারপরও ইংরেজ শাসনের রেশ বা জেল্লা যে কোন দেশের চেয়ে অঠিক ছিল বলেই ইংরেজী নববর্ষই পৃথিবী সেরা নববর্ষ। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর দেশে দেশে তা পালিত হয়। নিন্দুক ও তার্কিকরা রোমান বা অন্য নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতা থেকে এসেছে কিংবা এই নববর্ষ অন্য জাতির ছিল বলে যতই গবেষণা করুক না কেন মূলত: এটা ইংরেজী নববর্ষ। পৃথিবী ব্যাপী আনন্দধারায় ভেসে যাওয়া মানুষের এক বছর ব্যাপী অপেক্ষার পর সে এসে সামনে দাঁড়ায়। থার্টি ফার্স্ট নাইট বা বছরের শেষ রাত্রি'র বিদায় লগ্নে দুনিয়া জোড়া মানুষ নেচে গেয়ে বেদনা ঝেরে নতুন বছরের নব সূর্যকে আলিঙ্গন করে। রাত্রির অন্ধকারও তখন ভেঙ্গে সোনালী আলোর এই প্রত্যাশায় তারুণ্যের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। এরাই পৃথিবীর ত্রাণ, এরাই চালিকা শক্তি। এদের জীবন নিংড়ানো আনন্দ অবগাহনে আছে স্বস্তি কল্যাণ ও উদ্দীপনা। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এগুলো না নিয়ে কেবল নাচ, গান আর পানাহারকেই নববর্ষের উপহার বা প্রাক-প্রস্তুতি মনে করি। দেশের বিত্তবান বা ধনীদের সন্তানরা ইংরেজী নববর্ষের অন্তর্গত চারিত্র বা স্পিরিট বোঝে না, তাদের লক্ষ্য ফূর্তি আর ঢালাও আনন্দ, মধ্যবিত্তরাও আজ সে স্রোতে গা ভাসাচ্ছে। বাকী রইল নিম্নবিত্ত আর দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। তাদের না আছে সাধ্য না কোন ক্ষমতা। এরা কাল ও যুগের নীরব সাক্ষী, অথচ এরাই সংখ্যাগুরু, ইতিহাস নির্মাণ আর রক্তের স্রোতে উত্তাল হবার পরও এরাই অবহেলিত, আমাদের জাতীয় জীবনে ইংরেজী নববর্ষের অনিবার্য অংশ হবার পরও এরা কিছুই জানে না, এমনকি মাসের নাম বা তারিখও বলতে পারে না, অথচ আমাদের দেশের শিক্ষার শৈশব গুরু হয়েছিল ইংরেজের হাত ধরে। নববর্ষ উদযাপনে আমরা যতটা ইংরেজ বা বিদেশি শিক্ষা সংস্কৃতি বা জীবন প্রবাহে ততটাই স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক আর আধুনিক, নববর্ষের সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলো এমনিতেই অর্ধমৃত। তাঁদের অনটন আর অশান্তিতে গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মত যোগ হয়েছে রাজনৈতিক ধ্রষ্টাচার। এবারের নববর্ষের মত রক্তাক্ত ভয়াবহ সময় আগে দেখা যায়নি। চারদিকে ভয় আতঙ্ক আর উত্তেজনার ছড়াছড়ি। মানুষ পুড়িয়ে মারার এমন প্রতিযোগিতা জাহান্নামকেও হার মানায়। স্বদেশে স্বজাতি নিজ ভাষা ও ধর্মের মানুষের ওপর এমন সন্ত্রাস অবিশ্বাস্য। অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক দলগুলোর একগুঁয়েমী বা জেদও। কেউ কারো কথা শোনে না। মানা তো দূরের কথা ভেবে দেখতেও নারাজ। এবারের নববর্ষের প্রাক্কালে বহুধা বিভক্ত বাংলাদেশ আমাদের তারুণ্যের সামনে যে হতাশা আর আতঙ্ক নিয়ে হাজির হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ না মিললে আমরা অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলব। মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বা গৌরবের সবচে' বড় জায়গাটি অর্থাত্ মাতৃভূমিই আজ বিপন্ন। এই বিপন্নতা রাজনীতিকে নাখোশ বা উদ্বিগ্ন করে কি না জানি না, আমাদের বুক ভিজে যায়, চোখ সজল হয়ে ওঠে। দেশে দেশে তরুণ-তরুণীরা যখন নেচে গেয়ে আতসবাজীর ফোয়ারা জ্বালিয়ে দিগন্ত রাঙ্গিয়ে নববর্ষ উদযাপন করবে আমরা তখন আগুনের নিচে দাঁড়িয়ে। আমাদের তারুণ্যের মাথার ওপর খুনে রাঙ্গা আসমান, পায়ের তলায় রক্তের নদী বাতাসে লাশের ঘ্রাণ। এ দেশ আমরা চাইনি। এমন ক্ষমতার দ্বন্দ্বও নয়। বুক ভরা শ্বাস ও দুনিয়া জোড়া নি:শ্বাস নেয়ার নববর্ষটি যেন আনন্দ ও শান্তি বয়ে আনে, এ প্রার্থনা ফলবতী হবে কিনা, না জানার পরও এটাই আমাদের অন্তরের চাওয়া, বাংলাদেশ তুমি ঘুরে দাঁড়াও। নববর্ষে শান্তি ও আনন্দে গেজে ওঠো আরেক বার।

লেখক :সিডনি থেকে

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :