The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্মরণ

দিন শেষের শেষ খেয়ায়

রুমানা নাহীদ সোবহান

১৯৭১ ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের এই মুহূর্ত বিচার হচ্ছে, রায় হচ্ছে। আমরা দেখেছি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের, আমরা দেখেছি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিষ্ঠা আর দৃঢ়তাকে। বিচারের প্রতি তার দায়বদ্ধতাকে। আজ এই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত আনার পিছনে এক পক্ব কেশ, কালো মোটা ফ্রেমের চশমা পরা একজন ব্যক্তি আমরণ নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। তার ক্লান্তিহীন দীর্ঘ অবদান আজ বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছে তাদের ঈপ্সিত ফল। তার নাম বিচারপতি কে এম সোবহান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে মশাল জ্বলে উঠেছিল তার একজন অন্যতম ধারক ছিলেন বিচারপতি সোবহান। বাংলাদেশ তথা সারাবিশ্বের কাছে বিচারের দাবি নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন। তুলে ধরেছেন যুদ্ধাপরাধীদের স্বরূপ। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই ঘাতকদের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে তিনি দেখেছিলেন অত্যন্ত কাছ থেকে। দেখেছিলেন পাকসেনাদের পাশবিক অত্যাচার। সেই সাথে দেখছিলেন পাকসেনাদের দেশীয় দোসরদের নখদন্তকে। তাদের হিংস্র আর নৃশংস থাবা চিহ্নগুলোকে। পাকসেনা আর রাজাকারদের কারণে হারিয়েছিলেন স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব, সেই হারানোর বেদনা তাকে বিদ্ধ করেছিল। স্বাধীন দেশের পতাকা উড়তেই এই দেশীয় ঘাতকরা তাদের নখদন্তগুলো লুকিয়ে নিয়েছিল সাময়িকভাবে। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা প্রণীত হয়েছিল আইন কিন্তু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারেনি। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সূচিত হলো বাংলাদেশের এক কালিমাময় অধ্যায়। বাংলাদেশ বিরোধীরা আবার তাদের হিংস্র নখদন্ত নিয়ে মুখোশ খুলে সদম্ভে বেরিয়ে আসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনাশ করার জন্য। এরা ছলে-বলে-কৌশলে মিশে গেল বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এদের দৌরাত্ম্যে ভেসে গেল এক গৌরবময় গাঁথা। এরা মুছে দিল সংবিধানের চার মূলনীতি। এদের হাতে বিকৃত থেকে বিকৃততর হতে থাকল বাংলাদেশের বীরগাঁথার ইতিহাস।

১৯৮২ থেকে ২০০৭ কোথায় ছিলেন না তিনি। বয়স তার কাছে হার মেনেছিল। ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি অসীম তারুণ্য বলে। কিন্তু মেঘে মেঘে বেলা হয়েছিল। জীবনের সূর্য অস্তমিত হচ্ছিল কিন্তু বয়স তাকে ছুঁতে পারেনি নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা, নীতিবাদী, কঠোর কঠিন অথচ প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা এক ঈর্ষণীয় ধরনের মানুষ ছিলেন তিনি। জাগতিক কোন কিছু তাকে স্পর্শ করেনি। বিলাসকে তিনি পায়ে ঠেলে দিয়েছেন। সামাজিকতায় তার জুড়ি মেলা ভার। কোনদিন তাকে কেউ আগে সালাম দিতে পারেনি। তার মোটা কালো ফ্রেমের চশমা আর চরম গাম্ভীর্য দেখে যারা ভেবেছেন নিতান্তই রাগী ধরনের মানুষ তারা ভুল করেছেন। তার রসিকতাবোধ ছিল অসাধারণ। আইনীবিদ্যার বাইরে সাহিত্য আর সংগীতের প্রতি ছিল তার অপরিসীম ঝোঁক। রবিঠাকুর থেকে বায়রন মুখস্থ আউড়ে যেতে পারতেন অনর্গল। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষটি হাঁটাকে স্বাস্থ্যরক্ষার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। নিয়মিত হাঁটতেন মালীবাগ থেকে রমনা। চক্কর দিয়ে ফিরতেন। কোন ব্যতিক্রম ছিল না। এভাবে জীবনের পথ বেয়ে হাঁটতে হাঁটতেই ৩১ ডিসেম্বর ২০০৭। আর ফিরলেন না। হঠাত্ই যেন সেই গোধূলিবেলায় গেয়ে উঠলেন: "সন্ধ্যা আসে দিন যে চলে যায় ওরে আয়/আমায় নিয়ে যাবি কে রে, দিন শেষের শেষ খেয়ায়"।

লেখক :গবেষণা সহযোগী, সিমোন দ্য বেভার ইনস্টিটিউট, কানাডা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
4 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৫
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :