The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭ পৌষ ১৪২০, ২৭ সফর ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা | ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দে শী য় ক্রি কে ট

প্রাপ্তির বছর, লজ্জার বছর

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

২০০৬, ২০০৯ ও ২০১২ সালের পর এ বছরই বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি হারে সাফল্য পেয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ ৯টি ওয়ানডে খেলে ৫টিতে জয় পেয়েছে এবং ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

বলা হয়, সব ভালো যার শেষ ভালো।

সে অর্থে বাংলাদেশ খুব ভালো একটা ক্রিকেটীয় বছর কাটিয়েছে বলেই আজ মনে হবে। আজ বছরের শেষ দিনেও দেশের সেরা ক্রিকেটাররা মাঠে থাকবেন, বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টির শিরোপার লড়াইয়ে।

তার মানে কী, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট সারা বছরই এমন জমজমাট ছিল? মোটেও না। আর এখানেই বছর শেষে খেরোখাতা মেলাতে গিয়ে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় হতাশাটা চোখে পড়ছে। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম সফল বছর কাটানো, ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনী ডামাডোল, ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ঝড়; সবকিছু ছাপিয়ে আজ শেষ হতে যাওয়া বছরের হাইলাইটস একটাই—বড় নিষ্প্রভ ছিল এ বছরের ঘরোয়া ক্রিকেট অঙ্গন।

এই নেতিবাচক আলোচনা পরে হবে। আগে সাফল্যের কথা দিয়ে শুরু করা যাক। আগেই যেমনটা বলা হয়েছে, এ বছরটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফলাফল বিবেচনায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বছর। ২০০৬, ২০০৯ ও ২০১২ সালের পর এ বছরই বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি হারে সাফল্য পেয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ ৯টি ওয়ানডে খেলে ৫টিতে জয় পেয়েছে এবং ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

এই ৫টি জয়ের মধ্যে তিনটি এসেছে নিউজিল্যান্ডকে আবারও ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করার ভেতর দিয়ে। তবে ওয়ানডে নয়, বাংলাদেশ এ বছর সেরা সাফল্যটা পেয়েছে আসলে টেস্ট ক্রিকেটে। ওয়ানডেতে ২০০৬ সালে ২৮ ম্যাচে ১৮টি, ২০০৯ সালে ১৯ ম্যাচে ১৪টি এবং ২০১২ সালেই ৯ ম্যাচে ৫টি জয় পাওয়ার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। এমনকি টেস্টেও বাংলাদেশ এ বছরের চেয়ে বেশি জয় পেয়েছিল ২০০৯ সালে; সে বছর আমরা ৩টি ম্যাচ খেলে ২টিতেই জয় পেয়েছিলাম। বিপরীতে এ বছর টেস্ট জয় মাত্র একটি-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানো জয়।

তারপরও কেন আমরা এ বছরকেই সফলত বছর বলছি ?

কারণ, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দু ম্যাচের ড্র সিরিজটা আসলে হাত থেকে ফস্কে যাওয়া ২-০ ব্যবধানের এক জয় বলেও কল্পনা করে নিতে পারেন। একেবারে চোখ বুজে বলা যায়, এই সিরিজে বাংলাদেশ যেভাবে দাপট দেখিয়ে জয়ের কাছাকাছি গেছে দুটি ম্যাচেই, তা এর আগে কখনোই বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখেনি। ২০০৯ সালের খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় মাথায় রেখেও বলা যায়, এটাই বাংলাদেশের সেরা টেস্ট পারফরম্যান্স।

রেকর্ডই বলবে যে, এ বছর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কী দাপটই না দেখিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে। আজ শেষ হতে যাওয়া বছরের এই শেষ দিনে কেউ রেকর্ডটা টপকে না গেলে এ বছর এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডটা বাংলাদেশেরই থেকে যাবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে ৬৩৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। আর নতুন বছরের শুরুতে সেই কলম্বো টেস্ট দিয়েই আসলে বাংলাদেশ নতুন চেহারায় এসেছিল। শ্রীলঙ্কা সফরে কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশ বলা চলে তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা কোনো দলকে অনেকদিন পর টেস্ট ড্র করতে বাধ্য করলো। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত পারফরমাররাও ছাড়িয়ে যেতে শুরু করলেন নিজেদের সীমানা। সেখানেই বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। পরবর্তীকালে নিষিদ্ধ হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলও অল্পের জন্য কলম্বো টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন।

বাংলাদেশের এই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য চলেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সোহাগ গাজী একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটেই নতুন এক 'ক্লাব'-এর প্রতিষ্ঠা করে ফেলেন। ওই সিরিজেই বাংলাদেশের পক্ষে এক সিরিজে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড গুড়িয়ে দেন টানা দুই সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। পরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়ে নতুন আলোয় ফেরেন রুবেল হোসেন।

মানে পারফরম্যান্সের জয়জয়াকার।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের একটা কালির দাগ আছে এ বছরে। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েই সেই জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। আর সে হারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অবসর নিয়ে পর্যন্ত ফেলেছিলেন।

তবে এইসব ক্রিকেটীয় কীর্তির চেয়ে এ বছর সংবাদ মাধ্যমে ক্রিকেট বেশিরভাগ সময় শিরোনাম হয়েছে 'অক্রিকেটীয়' কারণে। প্রথমত—ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, দ্বিতীয়ত—বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তুলকালাম।

ফিক্সিং কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয় ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। সে সময়ই এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরের কমপক্ষে দুটি ম্যাচ নিয়ে তদন্ত করছিল আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু)। কয়েক মাস পর হঠাত্ করেই সংবাদ মাধ্যম কেপে ওঠে এই খবরে যে, এই ফিক্সিং কাণ্ডে দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার, সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলসহ নয়জন জড়িত। পরে আরও বেরিয়ে আসে সাবেক বাংলাদেশি গ্রেট মোহাম্মদ রফিক, জাতীয় দলের তারকা মাহবুবুল আলম রবিন ও মোশাররফ রুবেলের নাম। এ বিষয়ে আইসিসি ও বিসিবি ঢাকায় একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনও করে সেপ্টেম্বরে। তারপর অনেক দীর্ঘসূত্রিতা পার করে নভেম্বরে এসে কাজ শুরু করে এই অভিযুক্তদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুন্যাল।

এই ফিক্সিং কাণ্ডের পাশাপাশি বছরের একটা বড় সময় জুড়ে সংবাদ শিরোনাম দখল করে রেখেছিল ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত প্রায় দু বছর ধরে এডহক কমিটির অধীনে চলছিল বিসিবি। সেই এডহক কমিটি অনেক আইনী জটিলতা পার করে অবশেষে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ থেকে নির্বাচন করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা পায়। সে অনুযায়ী নির্বাচন ঘোষণা করলে শুরুটা হয় ব্যাপক উত্তেজনার ভেতর দিয়ে।

আগের ঘোষণামতো নির্বাচন করার জন্য আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। আর এডহক কমিটির প্রধান নাজমুল হাসান পাপন তো ছিলেনই। দুই সরকার দলীয় সাংসদের পক্ষে-বিপক্ষে রোজ শুরু হয় সংবাদ সম্মেলন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। সাবেরের পক্ষে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকদের সংস্থা ফোরাম এবং পাপনের পক্ষে ঢাকার ক্লাবগুলো মাঠ গরম করে ফেলে।

পরে হঠাত্ করেই সবকিছু থামিয়ে দিয়ে নির্বাচন আইন মেনে হচ্ছে না, এমন অভিযোগ তুলে সাবের হোসেন চৌধুরী সদলবলে নির্বাচন থেকে সরে যান!

আর এইসব ডামাডোলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট। বছরের শুরুতে গত মৌসুমের অবশিষ্ট প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দুটি হয়েছে ঠিকঠাক। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় গোলমাল। গত মৌসুমের প্রিমিয়ার ক্রিকেট নিয়ে চতুর্মুখী টানাপোড়েনে মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তারপর 'খেলোয়াড় বাছাই' নামে দলবদলে মৌসুম পার করে হয়েছে সে লিগ। তবে নানান টানাপোড়েনে এখনও মাঠে গড়ায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ ও জাতীয় ক্রিকেট লিগের খেলা।

তবে সবমিলিয়ে বছরশেষে বিকল্প টুর্নামেন্ট হিসেবে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টির আবির্ভাব ঘটিয়ে কিছুটা হলেও খেলা মাঠে রাখতে পেরেছে বিসিবি।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
এপ্রিল - ২০
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :